কক্সবাজারের উপকূলীয় দ্বীপ মহেশখালীর সোনাদিয়া ও ঘটিভাঙ্গা এলাকায় প্রায় ৫ হাজার একর ম্যানগ্রোভ প্যারাবন দখল ও উজাড়ের ঘটনায় ৫০০ কোটি টাকার পরিবেশগত ক্ষতির অভিযোগে ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বন বিভাগ। একই সঙ্গে পরিচালিত যৌথ অভিযানে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বন বিভাগের ঘটিভাঙ্গা বিট কর্মকর্তা (ডেপুটি রেঞ্জার) বিভাষ কুমার মালাকার বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে মহেশখালী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় চকরিয়া উপজেলার দুলাহাজারা এলাকার মুবিনুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া দুইজন হলেন, চকরিয়া উপজেলার দুলহালী পাড়ার আব্দুল মান্নানের ছেলে মুমিনুল ইসলাম (২৮) ও একই উপজেলার ৮ নং ওয়ার্ডের চরপাড়া গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ মারুফুল ইসলাম (২০)।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন, কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ কামাল (৪০), ঘটিভাঙ্গা এলাকার বর্তমান মেম্বার ছিদ্দিক রিমন (৩৫), ফকিরাঘোনা গ্রামের মোস্তফা আনোয়ার (৪২), জাগিরা ঘোনার মোহাম্মদ শমসের (৩৫), সাবেক যুবলীগের সভাপতি সাজেদুল করিম (৪৫), গোরকঘাটার সিকদারপাড়ার সৈয়দুল হক শিকদার (৬৩), ফকিরা ঘোনার মহসিন আনোয়ার (৫০), সোনাদিয়ার একরামুল হক (৪০), গোরক ঘাটার কায়সার শিকদার (৪৫), ঘটিভাঙ্গার কালু মিয়া (৪০), বড় মহেশখালীর মোঃ শাহেদ (৩০), ঘটি ভাঙ্গার মো. আজম (৫৫), ওসমান আলী (৪৫), ফকিরা ঘোনার জসিম উদ্দিন (৩১), ঘটিভাঙ্গার মো. আমিন (৫০), সোনাদিয়ার ইমতিয়াজ উদ্দিন নকিব (৩২), জাগিরা ঘোনারর নজরুল ইসলাম (৩২), ঘটিভাঙ্গার সাজ্জাদ (৪০), নয়া পাড়ার নাজিম উদ্দিন (৪৫), জয়নাল আবেদীন (৫০), ফকিরা ঘোনার শামসুল আলম (৫০), নয়া পাড়ার আব্দুর রহিম (৪২), আব্বাস মিয়া (৪৪), নুরুল আমিন খোকা (৪৭), আজিজুল হক (৪৩), ফকিরা ঘোনার নুরুল আজিম (৪২), ও ঘটিভাঙ্গার মো. রফিক (৫৫)সহ মোট ৩০ জন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ এপ্রিল মহেশখালী উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে বন বিভাগসহ যৌথ বাহিনী সোনাদিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় অবৈধভাবে গড়ে তোলা চিংড়ি ঘেরের জন্য নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয় এবং কিছু শ্রমিকদের ঝুপড়ি করে আগুন দিয়ে ধ্বংস করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল প্রশাসনের নজর এড়িয়ে সোনাদিয়া ও ঘটিভাঙ্গা এলাকায় বনভূমি দখল, উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট এর বাইন গাছ কেটে চিংড়ি ঘের ও লবণ মাঠ স্থাপন করে আসছিল। এর ফলে বিস্তীর্ণ ম্যানগ্রোভ বনভূমি ইতোমধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে। পরিবেশবিদদের মতে, ম্যানগ্রোভ প্যারাবন উপকূলের জন্য প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা প্রাচীর বা রক্ষা কবজ হিসেবে কাজ করে। এটি ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। কিন্তু নির্বিচারে বন উজাড়ের কারণে এই প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) মহেশখালী উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, গত কয়েক বছরে এ অঞ্চলে হাজার হাজার একর বনভূমি উজাড় হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে, অন্যদিকে উপকূলীয় মানুষের জীবন–জীবিকা ও হয়ে উঠছে অনিশ্চিত।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, মহেশখালী ম্যানগ্রোভ রক্ষায় সামনে আরো বড় পরিসরে অভিযান পরিচালনা করা হবে।













