সৈয়দ আবুল ওলা (রহ.) সৈয়দ সাহেব : তাসাউফের আলোকিত পথিকৃৎ

| বুধবার , ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ

বাংলার আধ্যাত্মিক ইতিহাসে এমন কিছু মহিমান্বিত নাম রয়েছে, যাঁরা সময়ের সীমানা অতিক্রম করে মানুষের মন, অন্তর ও জীবনচর্চায় অনুপ্রেরণার আলো ছড়িয়ে গেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় হযরত শাহ সুফি সৈয়দ আবুল ওলা (রহ.) ছিলেন অন্যতম আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। তিনি সৈয়দ সাহেব (পীর সাহেব) নামে সমাদৃত ছিলেন। আল্লাহর প্রতি দৃঢ় ঈমান, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসরণ এবং আত্মশুদ্ধির সাধনাই ছিল তাঁর জীবনদর্শনের মূলভিত্তি। তিনি ছিলেন তাসাউফের এক নীরব পথপ্রদর্শক, যার আত্মিক আলো আজও মানুষের অন্তরে প্রেরণা জাগায়। পারিবার থেকে তিনি জাহেরি ও বাতেনি ইলমে দীক্ষিত হন। অন্তরের পরিশুদ্ধিকে তিনি ধর্মচর্চার কেন্দ্রবিন্দু মনে করতেন এবং বাহ্যিক ইবাদতের সঙ্গে আত্মিক সচেতনতার সমন্বয়কে অপরিহার্য বলে শিক্ষা দিতেন। তাঁর মুখনিঃসৃত বাণীসমূহ রূহানী উপলব্ধির গভীর প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তাঁর উক্তি ‘আমার চাষ আসমানে’, যা দুনিয়ার বাহ্যিকতার ঊর্ধ্বে উঠে আখিরাতমুখী জীবনচিন্তার দিকনির্দেশনা দেয়।

সৈয়দ আবুল ওলা (রহ.) সৈয়দ সাহেব (পীর সাহেব) ছিলেন আহলে বাইতের বংশধর এবং বড়পীর গাউছুল আজম হযরত সৈয়দ আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর বংশের আধ্যাত্মিক উত্তরসূরি। তাঁর পারিবারিক পরম্পরায় একের পর এক পীরে কামেল ও রূহানী পথপ্রদর্শকের আবির্ভাব ঘটে। বাগদাদ শরীফের কুতুবে আকতাব আবদাল হযরত মাওলানা সৈয়দ নুর উদ্দিন (রহ.), তাঁর পুত্র পীরে কামেল সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন (রহ.), তাঁর পুত্র মাওলানা সৈয়দ ইমাম উদ্দিন (রহ.) এবং তাঁর পুত্র সৈয়দ সিদ্দিক আহমদ (রহ.) এই ধারার এক উজ্জ্বল প্রতিনিধি হিসেবেই সৈয়দ আবুল ওলা (রহ.) আত্মপ্রকাশ করেন। তাঁর জ্ঞান, সাধনা ও বাতেনি ইলমের মাধ্যমে তিনি অসংখ্য মানুষের অন্তরে গভীর প্রভাব বিস্তার করেন। বর্তমানে তাঁর পুত্র সৈয়দ ফখর উদ্দিন এই আধ্যাত্মিক সিলসিলার উত্তরাধিকার বহন করে চলেছেন।

উল্লেখ্য, তাঁর পূর্বসুরী মাওলানা সৈয়দ নুর উদ্দীন ধর্ম প্রচারের লক্ষ্যে বাগদাদ শরীফ থেকে এই অঞ্চলে আগমন করেন যা সৈয়দ আবুল ওলা (রহ.)-কে প্রাচ্য ইসলামী সুফি ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রতি ছবিতে পরিণত করেছে। সৈয়দ আবুল ওলা (সৈয়দ সাহেব) ২২ শাবান ১৪২০ হিজরি (১ ডিসেম্বর ১৯৯৯ খ্রি.) ইন্তেকাল করেন। মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন ইছাখালী ইউনিয়নের সাহেবদীনগর গ্রামে তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। তাঁর জীবন ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা আজও মানুষের অন্তরকে আলোকিত করে চলেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচবি উপাচার্যের সাথে ইউনূস ফাউন্ডেশন ফর চায়নার প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ
পরবর্তী নিবন্ধবিদ্যুৎ-জ্বালানি ও পরিবহনে করণীয় নথিভুক্ত করে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার : ফাওজুল কবির খান