চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে চলাচলরত আন্তঃনগর ট্রেন সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেসের দীর্ঘদিনের পুরনো বগি বা কোচগুলো পরিবর্তন করে ইন্দোনেশিয়ার আরামদায়ক এসি বগি যুক্ত করা হচ্ছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পরিবহন ও মেকানিক্যাল বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে চলাচলরত সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেসের বগিগুলো দীর্ঘদিনের পুরনো। এগুলোতে কোনো এসি বগি ছিল না। সমপ্রতি ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটের মহানগর এক্সপ্রেসে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানিকৃত আধুনিক ও উচ্চগতির আরামদায়ক নতুন কোচ সংযোজন করা হয়েছে। মহানগর এক্সপ্রেসের অবমুক্ত করা ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানিকৃত আধুনিক বগিগুলো চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে চলাচলরত আন্তঃনগর সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেসে যুক্ত করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী সাদেকুর রহমান আজাদীকে জানান, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে চলাচলরত আন্তঃনগর ট্রেন সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেসের আগের পুরনো বগি পরিবর্তন করে এসি বগি যুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। মহানগর এক্সপ্রেসের অবমুক্ত করা বগিগুলো এখানে (এই দুটি ট্রেনে) যুক্ত করা হবে। মহানগর এক্সপ্রেসের বগিগুলো ২০২০ সালে ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা হয়েছিল।
প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী সাদেকুর রহমান জানান, সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেসে এসি বগি যুক্ত হওয়ার পর আমাদের শোভন চেয়ার ও এসি চেয়ারের টিকিটের প্রচলিত যে দাম তা যুক্ত হবে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পরিবহন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, মহানগর এক্সপ্রেসের অবমুক্তকৃত ইন্দোনেশিয়ার বগিগুলো খুবই উন্নতমানের ও আরামদায়ক।
এ ব্যাপারে রেলওয়ের চট্টগ্রাম স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার আজাদীকে জানান, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে চলাচলরত আন্তঃনগর সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেসে আগের পুরনো বগিগুলো আগামী ১৪ এপ্রিল পরিবর্তন করে মহানগর এক্সপ্রেসের বগিগুলো যুক্ত করার কথা ছিল। তবে এখনো আমাদেরকে কিছু জানায়নি। তবে খুব তাড়াতাড়ি হয়ে হবে। ১৪ তারিখ বগি পরিবর্তন হলে আমাদেরকে জানাবে।
মহানগর এক্সপ্রেসের এসি বগিগুলো যুক্ত হলে আগের শোভন কোচ আর থাকবে না; তখন সব শোভন চেয়ার, এসি চেয়ার হয়ে যাবে। তখন যাত্রীদের শোভন চেয়ার ও এসি চেয়ারের ভাড়া দিতে হবে। তখন নতুন দামে টিকিট বিক্রি হবে।
রেলওয়ের বাণিজ্যিক বিভাগ থেকে জানা গেছে, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেলপথ নির্মিত হওয়ার পর ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর প্রথম ঢাকা–কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস চালু হয়। তারও এক বছর পর ঢাকা–কক্সবাজার রুটে পর্যটক এক্সপ্রেস চলাচল শুরু করে। ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে দুই জোড়া নিয়মিত ট্রেন (সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেস) ১৬টি কোচ নিয়ে চলাচল করে। এই দুটি ট্রেন ছিল নন এসি, অনেক আগের পুরনো বগি। নতুন ১৬টি বগি নিয়ে সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেস চলাচল করবে। নতুন বগির থাকবে ১টি এসি কেবিন, ১টি নন–এসি কেবিন, ৩টি এসি চেয়ার (স্নিগ্ধা), ৮টি শোভন চেয়ার, ১টি পাওয়ার কার এবং ২টি গার্ড ব্রেক কোচ থাকবে। প্রতিটি ট্রেনে প্রায় সাড়ে ৭০০ আসন থাকবে।













