সৈকতে দোকানের নকশা এমনভাবে করতে হবে যাতে প্রাকৃতিক দৃশ্য আড়াল না হয়

চট্টগ্রাম বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভায় মেয়র শৃঙ্খলা ফেরাতে ১০ জন আনসার সদস্য নিয়োগের পরামর্শ

আজাদী প্রতিবেদন  | রবিবার , ৮ মার্চ, ২০২৬ at ৮:১৯ পূর্বাহ্ণ

নগরের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে থাকা দোকানের নকশা এমনভাবে করতে হবে যাতে সৈকতের প্রাকৃতিক দৃশ্য আড়াল না হয় এবং পর্যটকদের চলাচলে বিঘ্ন না ঘটে। চট্টগ্রাম বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভায় এ প্রস্তাব দেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এসময় তিনি সৈকতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১০ জন আনসার সদস্য নিয়োগেরও পরামর্শ দেন। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত হয় বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা। তারা পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে পর্যটনবান্ধব গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। এছাড়া সমুদ্র সৈকত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিনির্ভর সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের প্রস্তাব দেন।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ও পারকিসহ জেলার সব সমুদ্র সৈকতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, পর্যটন উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে গঠিত হয় এ চট্টগ্রাম বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি।

সভায় সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে পরিকল্পিতভাবে দোকান স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। সেখানে প্রস্তাবিত ২৮০টি দোকান এমনভাবে নকশা করতে হবে যাতে সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক দৃশ্য আড়াল না হয়। পর্যটকদের চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটে সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে নকশায়। একই সঙ্গে দর্শনার্থীরা যাতে এসব দোকান থেকে ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারেন সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

ডা. শাহাদাত বলেন, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এ লক্ষ্যে সৈকত এলাকায় দায়িত্ব পালনের জন্য ১০ জন আনসার সদস্য নিয়োগ করা যেতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, বাগান পরিচর্যা, নিয়মিত পরিষ্কারপরিচ্ছন্নতা এবং সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে জনমুখী ও দর্শনার্থীবান্ধব করতে হলে প্রথমেই সেখানে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ইতোমধ্যে একাধিকবার ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে সমুদ্র সৈকত এলাকা দখলমুক্ত করা হয়েছে। এসময় মেয়র নিজেও এসব অভিযানের তদারকি করেছেন বলে জানান।

ডা. শাহাদাত বলেন, চট্টগ্রামের পর্যটন সম্ভাবনা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সমুদ্র, পাহাড়, নদী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমন্বয়ে এ অঞ্চলকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের মানচিত্রে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের ট্যুরিস্ট স্পটে রূপান্তর করা গেলে তা শুধু চট্টগ্রামের অর্থনীতিকেই শক্তিশালী করবে না, বরং দেশের পর্যটন খাতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

ডা. শাহাদাত বলেন, সমুদ্র সৈকত ব্যবস্থাপনায় সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, সিডিএ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, পর্যটন সংশ্লিষ্ট সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পতেঙ্গা সৈকতকে একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, পতেঙ্গা সৈকত চট্টগ্রামের অন্যতম ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্থান। এটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে সুপরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা, আধুনিক বিনোদন সুবিধা এবং মানসম্মত অবকাঠামো নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, এডিসি মো. কামরুজ্জামান, জেলা পরিষদের সিইও চৌধুরী রওশন ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাখাওয়াত জামিল সৈকত, সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মাজহারুল ইসলামসহ সিডিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, ট্যুরিস্ট পুলিশ, ক্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে হামলা না হলে সেখানে পাল্টা হামলা হবে না : ইরান
পরবর্তী নিবন্ধএক ঘণ্টায় ১৭ মার্চের সব টিকিট বিক্রি শেষ ট্রেনে ঈদযাত্রা