সেমাই-চিনির বাজারেও ব্যস্ততা

ঈদের আগে বেড়েছে বাংলা সেমাই ও কিসমিসের দাম

জাহেদুল কবির | বুধবার , ১৮ মার্চ, ২০২৬ at ৬:০৯ পূর্বাহ্ণ

ঈদের বাকি আর মাত্র একদুদিন। জামাকাপড় কেনার পালা শেষে বাড়ির কর্তাদের থলে হাতে ছুটতে হয় সেমাইচিনির বাজারে। এ বছর ঈদের আগে দাম বেড়েছে তেলচিনি ও কিসমিসের দাম। এছাড়া বাংলা সেমাইয়ের দাম বাড়লেও অপরিবর্তিত রয়েছে মোড়কজাত লাচ্ছা সেমাইয়ের দাম। অন্যদিকে পেঁয়াজের দাম কমলেও বেড়েছে রসুনের।

ভোক্তাদের দাবি, যথেষ্ট পরিমাণ ভোগ্যপণ্য আমদানি হওয়ার পরেও দাম বাড়ার বিষয়টি ব্যবসায়ীদের কারসাজি ছাড়া কিছুই নয়। কারণ প্রশাসনের উচিত বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এসব পণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখা।

গতকাল নগরীর কাজির দেউড়ি এবং ২ নং গেট কর্ণফুলী কমপ্লেক্সের মুদি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি কেজি বাংলা লাল সেমাই সপ্তাহখানেক আগে বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকায়। বর্তমানে সেটি ৩০ টাকা বেড়ে গিয়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। এছাড়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোড়কজাত লাচ্ছা সেমাই ২০০ গ্রাম বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়। অন্যদিকে কিসমিসের দাম কেজিতে ২৫০ টাকা বেড়ে গিয়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকায়। এছাড়া চিনি কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকায়। অপরদিকে ডানো এবং মার্কস ব্র্যান্ডের গুঁড়ো দুধ (৫০০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে ৪৭৫ টাকা এবং একই ওজনের ডানো ব্র্যান্ডের গুঁড়ো দুধ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। এছাড়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ঘিয়ের মধ্যে ৪৫০ গ্রাম ওজনের আড়ং ঘি বিক্রি হচ্ছে ৮২৫ টাকা এবং একই ওজনের প্রাণ ব্র্যান্ডের ঘি বিক্রি হচ্ছে ৭৬০ টাকায়। অপরদিকে সাদা মটরের দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে গিয়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। চীনা বাদাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়। বড় সাইজের প্রতিটি নারকেল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা এবং প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকায়। প্রতি কেজি রসুন বিক্রি ২৫০ টাকা এবং পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। গত সপ্তাহে রসুন বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকায় এবং পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকায়।

কাজির দেউড়ি এলাকার ভাই ভাই স্টোরের খুচরা বিক্রেতা মো. আশিকুর রহমান আজাদীকে বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে ঈদের কিছু অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দাম বাড়তি। আমরা পাইকারি বাজার থেকে অল্প অল্প করে বিক্রি করি। পাইকারি বাজারে দাম কমলেও আমরাও কমিয়ে দিই।

বেসরকারি চাকরিজীবী মো. ইলিয়াস উদ্দিন বলেন, প্রতি বছর ঈদের আগে বাজার চাহিদাকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরা পরিকল্পিতভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। অথচ আমরা পেপারে পড়েছি, এ বছর পর্যাপ্ত ভোগ্যপণ্য আমদানি হয়েছে। পর্যাপ্ত ভোগ্যপণ্য যদি আমদানি হয়, তবে দাম বাড়ার কোনো কারণ দেখছি না। কিন্তু ব্যবসায়ীরা ঠিকই দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এতে সাধারণ ভোক্তাদের পকেট কাটা যাচ্ছে। তাই প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করব, যাতে বাজার মনিটরিং করে সেমাই চিনির বাজার যাতে স্থিতিশীল রাখা হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসিলেটের ডাকাতদল রাউজানে ডাকাতি করতে এসে ধরা
পরবর্তী নিবন্ধলারিজানিকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের, অ্যাকাউন্টে ‘রহস্যময়’ পোস্ট