টেকনাফের সেন্টমার্টিন চ্যানেলে মাছধরার বোটে এক জালে ৬৮৭টি লাল কোরাল মাছ ধরা পড়েছে। মাছগুলো ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। গত বুধবার সকালে মাছগুলো ধরা পড়ে। গতকাল বৃহস্পতিবার ট্রলার মালিক মোহাম্মদ জাকারিয়া এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, বুধবার বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিনের মৌলভীর শীল এলাকায় তার মালিকানাধীন ট্রলারে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের জালে মাছগুলো ধরা পড়ে। পরে ওইদিন বিকেলে এসব মাছভর্তি ট্রলার নিয়ে শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া ফিশারিজ ঘাটে ফেরেন জেলেরা।
মোহাম্মদ জাকারিয়া আরও বলেন, গত ৬ জানুয়ারি শাহপরীর দ্বীপের মিস্ত্রিপাড়া ফিশারিজ ঘাট থেকে বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে ট্রলারটি যাত্রা শুরু করে। ট্রলার মাঝি আবুল কালামের নেতৃত্বে মোট ৯ জন মাঝিমাল্লা ছিলেন। ওইদিন সন্ধ্যার দিকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের উত্তর পাশে ট্রলারটি নোঙর করা হয়। পরে জেলেরা সেখানে জাল বসান। বুধবার সকালে জালে ধরা পড়ে লাল কোরাল মাছ। সর্বমোট ৬৮৭টি মাছ ধরা পড়লেও ১০টি রেখে বাকি ৬৭৭টি মাছ বিক্রি করেছি। একেকটি মাছের ওজন ১ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত হবে। প্রথমে প্রতি মণ ২৪ হাজার টাকা দরে মাছগুলোর দাম হাঁকা হয় ১২ লাখ টাকা। পরে প্রতি মণ ২৩ হাজার টাকা দরে মোট ১০ লাখ টাকায় মাছগুলো বিক্রি হয়। স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী রহিম উল্লাহ বলেন, ১০ লাখ টাকায় মাছগুলো ক্রয় করেছি। মাছগুলো বরফ দিয়ে মিস্ত্রিপাড়া ফিশারিজে রাখা হয়। মাছগুলো কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। বঙ্গোপসাগরের গভীর জলের মাছ কোরাল সব সময় হাটবাজারে পাওয়া যায় না। এ জন্য এই মাছের দাম কিছুটা বেশি।
আরেক ট্রলার মালিক শহীদ উল্লাহ বলেন, সেন্টমার্টিন চ্যানেলে এই লাল কোরাল মাছ বেশি ধরা পড়ে। বেশ কিছুদিন ধরে সাগরে মাছ পাওয়া যাচ্ছিল না। গতকাল থেকেই ভালো মাছ পাওয়া যাচ্ছে। অন্য জেলেরাও লাল কোরাল মাছ ধরতে সেন্টমার্টিন চ্যানেলে জাল ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
টেকনাফ উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা উম্মুল ফারা বেগম তাজকিরা বলেন, সুস্বাদু কোরাল কিংবা ভেটকি মাছের কদর দেশব্যাপী। কোরাল মাছ মূলত বঙ্গোপসাগরের গভীর জলের মাছ। এই মাছ সাধারণত ১ থেকে ৯ কেজি ওজনের হয়ে থাকে। এটি উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের মাছ, বিশেষ করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় বেশি দেখা যায়। এছাড়া এশিয়ার উত্তরাঞ্চল, কুইন্সল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চল, পূর্ব আফ্রিকার পশ্চিমাঞ্চলেও এ প্রজাতির মাছ রয়েছে।












