ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, সেন্টমার্টিন দ্বীপসহ দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সরঞ্জাম পৌঁছানোর সময় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।”
সীমান্তবর্তী অবস্থান, উপকূলীয় ভৌগোলিক বাস্তবতা এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকা থাকায় কক্সবাজারকে স্পর্শকাতর জেলা হিসেবে বিবেচনা করে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথবাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে কোনো ধরনের নাশকতা বা সহিংসতা ঠেকাতে ক্যাম্পের বাইরে চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন,”জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে কোনো অশুভ শক্তি যেন রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে নাশকতা বা সহিংসতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। ভোটের আগে ও পরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ক্যাম্পের ভেতর-বাইরের গতিবিধি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, “ক্যাম্প এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া মেরামত, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন, নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও বাড়ানো হয়েছে।”
দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনীর স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত থাকবে। নির্বাচনী নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সুতফা জামান বলেন, “কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম বা সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিলে সেনাবাহিনী পুলিশ, র্যাব ও বিজিবিসহ অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেবে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ৫৯৮টি। এর মধ্যে ৩২৯টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
চারটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ৪৯ হাজার ৩৫৭ জন। জেলার ৩ হাজার ৬৮৯টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ পরিচালনায় ১২ হাজার ২৫১ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচনী নিরাপত্তায় মোট ১৩ হাজার ৪৯৯ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, “নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ের জন্য জেলায় ‘জেলা সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টার’ গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজনে দ্রুত মাঠপর্যায়ে বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত এখান থেকে নেওয়া হবে।
উখিয়া–টেকনাফসহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার ও নির্বাচনী সরঞ্জাম ইতি মধ্যে পাঠানো হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম জানান, “কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে নির্বাচনী সরঞ্জাম কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না।”
তিনি জানান, “ইতিমধ্যে সেন্টমার্টিন দ্বীপসহ বিভিন্ন দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ভোটারদের জন্য ব্যালট পেপার ও নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো সম্পন্ন হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তা বলয় ও কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের তত্ত্বাবধানে সরঞ্জামগুলো কেন্দ্রে পৌঁছানো হয়েছে।”
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।”
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, “সীমান্ত, উপকূল, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রসহ সব এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশা করছি।”












