ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে প্রাণ হারানো উত্তর কোরীয় সেনাদের পরিবারের জন্য রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে একটি নতুন আবাসিক এলাকা উদ্বোধন করেছেন দেশটির নেতা কিম জং–উন। খবর বিডিনিউজের।
সোমবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম রোদোং সিনমুন একথা জানিয়েছে। কিম জং–উন এই নতুন এই সেপিওল স্ট্রিট–কে বর্তমান প্রজন্মের জন্য সম্মানের এবং পিয়ংইয়ং ও রাষ্ট্রের জন্য গর্বের উৎস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কিম নিহত সেনাদের অমরত্ব কামনা করে বলেন, এই আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে শহীদদের নাম ও ছবি ইতিহাসে খোদাই করা থাকবে। সেনাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে কিম বলেন, এই পরিবারগুলোর জন্য সামান্যতম স্বস্তি আনার আশায় তিনি এ প্রকল্পর কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ–র প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, কিম জং–উন তার কন্যা জু আয়ে– কে সঙ্গে নিয়ে নিহত সেনাদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন এবং তাদের জন্য বরাদ্দ করা নতুন ঘরবাড়ি পরিদর্শন করছেন।
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপট : উত্তর কোরিয়া সরাসরি রাশিয়ার নাম উল্লেখ না করলেও কিম জং–উন গত সপ্তাহে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সব নীতি ও সিদ্ধান্তকে নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়া, ইউক্রেন এবং পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মস্কোর সঙ্গে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় উত্তর কোরিয়া ২০২৪ সালে ইউক্রেনে হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস) গত সপ্তাহে সে দেশের আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধে মোতায়েন হওয়া অন্তত ৬,০০০ উত্তর কোরীয় সেনা নিহত বা আহত হয়েছে বলে তারা ধারণা করছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, সেনা পাঠানোর বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার কাছ থেকে অর্থ, উন্নত সামরিক প্রযুক্তি এবং খাদ্য ও জ্বালানি সহায়তা পাচ্ছে। তাছাড়া, এই যুদ্ধের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার সেনারা আধুনিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অর্জন করছে যা পিয়ং ইয়ংয়ের অস্ত্র ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। চলতি মাসের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ইভেন্ট পার্টি কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই সেনাদের পরিবারের জন্য এই বিশেষ আবাসন প্রকল্প চালুর বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।









