প্রতিবছরের ন্যায় চলতি শুষ্ক মৌসুমেও কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার প্রায় ৪৪ হাজার ২২৫ একর জমিতে শুরু হয়েছে বোরো ধানের আবাদ কার্যক্রম। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দিগন্তজোড়া মাঠে কৃষকদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে বোরো ধানের আবাদে। কৃষকেরা জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুইটি রাবার ড্যামের রাবার ব্যাগ যথাসময়ে ফোলানোর মাধ্যমে মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা মিঠা পানি আটকানো শুরু হয়। এতে নদীর মিঠা পানির ব্যবহার করে কৃষকেরা তাদের জমিতে বোরো আবাদে নেমে পড়েন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই উপজেলার ৫৫টি কৃষি ব্লকের আওতায় ১৭ হাজার ৬৯০ হেক্টর তথা ৪৪ হাজার ২২৫ একর জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। এমন তথ্যই নিশ্চিত করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। চকরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভায় ৫৫ ব্লকের আওতায় ১৭ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে গৃহীত লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত উপ–সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা চাষের সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং করছেন। সরজমিন বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবার কেউ কেউ জমিকে শেষবারের মতো মই দিয়ে চাষের উপযোগী করে তুলছেন। মাতামুহুরী নদীর পালাকাটা ও বাঘগুজারা পয়েন্টের রাবার ড্যাম দুটি ফোলানোর পর নদীতে বেড়েছে মিঠা পানির উৎস। নদীর তীরের শত শত স্থানে শ্যালো মেশিন বসিয়ে কৃষকেরা চাষের জমিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে সেচ সুবিধা নিচ্ছে। জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলামের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চলতি বছর যথাসময়ে রাবার ড্যাম দুটি ফোলানো সম্ভব হওয়ায় নদীতে মিঠাপানির প্রবাহ তৈরি হয়েছে। তাতে মিঠাপানির সেচ সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার শাহনাজ ফেরদৌসী জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ডিঙিয়ে অতিরিক্ত চাষের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার হারবাং, বরইতলী, কৈয়ারবিল, লক্ষ্যারচর, সুরাজপুর–মানিকপুর, কাকারা, বমু বিলছড়ি, ফাসিয়াখালী, ডুলাহাজারা, খুটাখালী, চিরিংগা, সাহারবিল, বিএমচর, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া, বদরখালী ইউনিয়ন এবং চকরিয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় পুরোদমে বোরো আবাদ শুরু হয়েছে। কৃষক ও কৃষি বিভাগ জানায়, বেশিরভাগ জমিতে কৃষকেরা হাইব্রিড ব্রি–ধান ৯২, ৭৪, ৮৭ ও ১০০ জাতের চারা রোপণ করছেন। পাশাপাশি অনেক কৃষক উফসী ও স্থানীয় জাতের ধানের চারা রোপণ করছেন। তবে বেশিরভাগ কৃষক উফসী জাতের চেয়ে হাইব্রিড জাতের ধান চাষে বেশি আগ্রহী। কারণ হাইব্রিড জাতে ফলন বেশি হয়।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগের উপ–সহকারী কৃষি অফিসার (হিসাব ও উন্নয়ন) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলাজুড়ে ১৭ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চাষের আগে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন এলাকায় সুফলভোগী কৃষকদের মাঝে সরকারিভাবে বিনামূল্যে সার ও ধান বীজ দেওয়া হয়েছে।











