‘একজন চিকিৎসক ভুল করলে একজন রোগী মারা যেতে পারে, কিন্তু একজন ফার্মাসিস্ট ভুল করলে শত–হাজার মানুষের প্রাণ সংহারের সম্ভাবনা রয়েছে।’ সেই মহান ব্রতকে সামনে রেখেই ১৯৯৩ সালে প্রথম ব্যাচের ছাত্র হিসেবে ইউএসটিসি ফার্মেসী বিভাগে ভর্তি হওয়া। বাংলাদেশের ঔষধশিল্প ও স্বাস্থ্যসেবাকে এগিয়ে নেয়ার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে দেশ বরেণ্য জাতীয় অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম স্যার ১৯৯৩ সালে ইউএসটিসি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নতুন স্বপ্ন, নতুন আশা নিয়ে ভর্তি হয়ে প্রথমে আশা নিরাশার দোলাচলে পড়েছিলাম। শুরুতে ফিজিওলজি ও এনাটমির দুইটি ক্লাস রুমে শুরু হয় ফার্মেসী বিভাগের কার্যক্রম। পরবর্তীতে হাসপাতাল সংলগ্ন বিল্ডিং–এর দোতলা, তিনতলা করে বর্তমানে স্বতন্ত্র ক্যাম্পাসে সুন্দর পরিপাটি সুপরিসর ক্লাসরুম আর সুসজ্জিত ল্যাব।
আমাদের পথচলায় বেশ কিছু ভালো স্যার, সহপাঠী–সতীর্থদের পেয়েছিলাম একই পরিবারের সদস্য হিসেবে। ঢাকাকেন্দ্রিক সকল উচ্চশিক্ষার কার্যক্রমের ফলে চট্টগ্রামে গড়ে উঠা এই ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষক পাওয়া সেই সময়ে দুরূহ ছিল। এরপরও ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেয়েছিলাম। যৌবনের ঊষা লগ্নে একঝাঁক তারুণ্যদীপ্ত সহপাঠিদের নিয়ে শিক্ষাগ্রহণের পাশাপাশি শিল্প–সংস্কৃতির চর্চায় আমাদের ফার্মেসী বিভাগের কার্যক্রম ছিলো সত্যি প্রশংসাযোগ্য। বিশেষ করে ফার্মেসী বিভাগের ছাত্রদের বিজ্ঞান বিষয়ক প্রথম প্রকাশনা ‘ট্যাবলেট ক্যাপলেট’, রবীন্দ্র নজরুল জয়ন্তী, দেয়ালিকা, ১৪০০ বঙ্গাব্দ বরণ, নবীন বরণ, শিক্ষা সফর ইত্যাদি। বহু আনন্দ আর অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ ছিল আমাদের ১৯৯৬ সালে ভারতে শিক্ষাসফর। দর্শনীয় স্থান পরিভ্রমণের পাশাপাশি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগ, কলকাতা আর লৌক্ষ্ণ ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরী পরিদর্শন উল্লেখযোগ্য।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশে প্রথম এই ফার্মেসী বিভাগ। আজ একে একে বত্রিশ বছর পার করে ফার্মেসী বিভাগের ১ম পুনর্মিলনীর মিলনমেলার মোহনায় দাঁড়িয়ে আমরা। নস্টালজিক শত স্মৃতি উঁকি দেয় হৃয়য়ের বন্দরে, মনের মণিকোটায়। কী পেয়েছি, কী পাইনি সেই হিসেব কষতে নয়, যা পেয়েছি তুলনা তার নাই। আজ গর্বের সাথে বলতে চাই সেই দিনের সেই ফার্মেসী বিভাগ আজ অনুষদে রূপ নিয়েছে। এই বিভাগের ছাত্র–ছাত্রীরা আজ দেশে–বিদেশে ঔষধ শিল্প ও স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন শাখায় নানা শ্রেণি বিভাগে সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা মিলেছি আজকে সারা বিশ্বের কোটি হাতে হাত মিলাবো সাম্যের গান গেয়ে আমরা নব জীবনের পথে পা বাড়াবো। মানবতার গানে এগিয়ে চলা, সুখ সমৃদ্ধির পানে পথ চলা।