নয় বছরের হুজাইফা সুলতানা। টেকনাফের সীমান্ত এলাকার দুরন্তপনা এক শিশু কন্যা। সীমান্তই যেন তার জীবনপথে অশনি হয়ে এসেছিল গত ১১ জানুয়ারি। দৃশ্যমান সীমান্ত টপকে মিয়ানমারের ওপার থেকে এক দানব বুলেট ছুটে ঝাঁঝরা করেছিল শিশু হুজাইফার জীবন। তার শারীরিক অবস্থা এতটাই গুরুতর হয়েছিল যে, তাকে মৃত ঘোষণাই করা হয়েছিল। এই ঘটনাটি তখন দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করে। জীবনমৃত অবস্থা জয় আবারো জীবনের দুরন্তপনায় ফিরে আসতে হুজাইফার জন্য দোয়া করেছিল সর্বস্তরের মানুষ। কিন্তু না, ২৭ দিন জীবনের সাথে লড়াই করে সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে অনন্তপানে বিদায় নিলো হুজাইফা সুলতানা। জানা গেছে, গতকাল শনিবার সকাল ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। সে রাজধানীর জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজালাল ও শিশুর চাচা শওকত আলী জানান, গত ১১ জানুয়ারি মিয়ানমার সীমান্তের দিক থেকে আসা গুলিতে আহত হয়েছিল শিশু হুজাইফা। সে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে।
ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজালাল রাতে বলেন, শিশুটির মৃত্যুর খবরে এলাকার সবাই বাকরুদ্ধ। খবর পেয়ে নিহত শিশুর চাচা শওকত আলী সাথে সাথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। আজ (গতকাল) রাতেই তারা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন এবং রোববার সকাল নাগাদ বাড়িতে মরদেহ পৌঁছাতে পারে।
একাধিক সূত্র জানায়, ১১ জানুয়ারি হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির সঙ্গে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা), আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) ও নবী হোসেন বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি হয়। অন্যদিকে মিয়ানমার জান্তা বাহিনীও আরাকান আর্মির অবস্থানে বিমান হামলা ও বোমা হামলা চালায়। ওই দিন সকালে রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হয় শিশু হুজাইফা।
এ ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুটিকে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর নেওয়া হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ তখন জানান, গুলিটি শিশুটির মস্তিষ্কে প্রবেশ করায় তার অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার করলেও ঝুঁকির কারণে মস্তিষ্কে ঢুকে যাওয়া গুলিটি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। মস্তিষ্কের চাপ কমানোর জন্য বিভিন্ন চিকিৎসাপদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে।












