সকাল ছিল সূর্যহীন। দুপুর গড়িয়ে যখন বিকেল ছুঁইছুঁই, কুয়াশার স্তর ভেদ করে উঁকি দেয় সূর্য। তাও তেজহীন। স্থায়িত্ব ছিল স্বল্প সময়। এ চিত্র গতকাল সোমবারের। এদিন আবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কমেছে আগের দিনের চেয়ে ৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর সঙ্গে ছিল হিমেল হাওয়া। ফলে সূর্যহীন দিনটা নগরবাসী পার করেছে তীব্র শীতের অনুভূতি নিয়ে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আরো দুয়েকদিন এ ধরনের পরিস্থিতি থাকতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য যত কমে শীতের অনুভূতি তত বাড়ে। সাধারণত এ পার্থক্য ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে হলে শীত অনুভূতি হয়। গতকাল নগরে সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান ছিল ৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে এদিন নগরে শীত অনুভূতি স্বাভাবিকভাবে বেশি ছিল।
সাধারণ মানুষ বলছেন, শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাদের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। বিশেষ করে ভাসমান লোকজন ও পথশিশুদের পাশাপাশি দিনমজুর বা খেটে খাওয়া লোকজনের দুর্ভোগ বেড়েছে। তারা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনের তীব্র শীতে তাদের জীবন অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে।
গতকাল নগরের বিভিন্ন স্পট ঘুরে একাধিক পথশিশু ও খেটে খাওয়া মানুষের সঙ্গে কথা হয়। তারা নিজেদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। দুপুরে স্টেশন রোডে কথা হয় দিনমজুর আবু তাহেরের সঙ্গে। আজাদীকে তিনি জানান, এক সপ্তাহ আগে কাজের সন্ধানে চট্টগ্রাম এসেছেন দিনাজপুর থেকে। স্থায়ী কাজ জোগাড় করতে পারেননি। আপাতত দিনমজুর হিসেবে যে কাজ পান তাই করেন। টাকার অভাবে বাসা ভাড়া নিতে না পেরে রাত কাটান ফুটপাতে। রাত যত গভীর হয় কুয়াশার সঙ্গে বাড়ে শীতের তীব্রতা। এমন শীতে ঘুমাতে পারেন না।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, সাধারণত মধ্য ডিসেম্বর থেকে মধ্য ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শীতের সময় ধরা হয়। এ সময় সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করে। ফলে বাংলাদেশে সূর্যের রশ্মি পড়ে তির্যকভাবে। তাই কমতে থাকে তাপমাত্রা। জাঁকিয়ে বসে শীত। এদিকে গতকাল নগরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ১৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন রোববার সর্বোচ্চ ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪ দশকি ১ ডিগ্রি ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমেছে শূন্য দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা যত কমবে শীতের অনুভূতিও তত বাড়বে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা বসির আহম্মেদ হাওলাদার আজাদীকে বলেন, আগামীকাল (মঙ্গলবার) সূর্য দেখা যাওয়ার স্থায়িত্ব গতকালের চেয়ে বেশি হবে। গতবারের চেয়ে এ বছর শীতের অনুভূতি একটু বেশি মনে হচ্ছে। আকাশ মেঘলা থাকলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কমে যায়, তখন সেটা সর্বনিম্নের কাছাকাছি চলে আসে। সেজন্য শীতের অনুভূতিও প্রবল হয়। সূর্য দেখা গেলে শীতের অনুভূতি কিছুটা কমতে পারে। তিনি বলেন, আগামী দুই–তিন দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। ঠান্ডা কমে যাবে। এরপর গ্যাপ দিয়ে আবার শীত বাড়বে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে বলা হয়, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নগরে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত, কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা বিরাজ করতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, দিনাজপুর, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলাসহ রাজশাহী বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। আজ মঙ্গলবার আরো কিছু জেলায় এ শৈত্যপ্রবাহ বিস্তৃত হতে পারে। আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশের তাপমাত্রা কমতে পারে। কিছুটা কমার পর সামান্য বাড়তে পারে।












