সুরমেলার নান্দনিক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

| মঙ্গলবার , ৩১ মার্চ, ২০২৬ at ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামে নান্দনিকতা ও চেতনার এক অপূর্ব সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত হলো গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট (টিআইসি) মিলনায়তনে সুরমেলা সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্রের আয়োজনে আলোচনা সভা, যন্ত্রসংগীতের অনুষ্ঠান ‘সুরমাল্য’, রবীন্দ্রনজরুল চেতনায় নির্মিত গীতিনৃত্যনাট্য ‘নারী’ ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুরমেলা সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ সানু দাশগুপ্ত। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লায়ন ডা. বি. কে. সেনগুপ্ত, প্রফেসর ড. উদিতি দত্ত, অধ্যাপক স্বদেশ চক্রবর্তী, রিয়াজ ওয়ায়েজ, ডা. মো. নওশাদ খান, বাসুদেব সিনহা, মো. ইলিয়াছ ইলু, রাজন কান্তি দাশ ও প্রকৌশলী সিঞ্চন ভৌমিক।

এছাড়া ঢাকা থেকে আগত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন সাবেক ভিসি ড. জান্নাতুল ফেরদৌস, আরিফ খান, নাহার আহমেদ, খালিদ খলিল, আমিনুল হক মনা, রানী রহমান ও নাসরীন জাহান প্রমুখ। সঞ্চালনায় ছিলেন প্রিয়ম কৃষ্ণ দে, প্রতিমা দাশ ও সুমি চৌধুরী। ধারা বর্ণনায় ছিলেন বাচিক শিল্পী মিলি চৌধুরী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠান পরিকল্পনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানকারী বিশুতোষ তালুকদার। স্বাগত বক্তব্য দেন অনুষ্ঠান উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক তপন ভট্টাচার্য্য। বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠান সদস্য সচিব দুলাল কান্তি দে।

নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন শুভ্রা সেনগুপ্তা এবং নৃত্য পরিবেশন করে স্কুল অব ওরিয়েন্টাল ডান্স। সংগীত পরিবেশনায় ও হাওয়াইয়ান গিটার বাজান সানু দাশগুপ্ত ও বিশাখা বিভা তালুকদার। রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন কান্তা দে, নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন রিষু তালুকদার। তবলা বৃন্দবাদন পরিচালনা করেন উৎপল দে মিঠু, অর্কেস্ট্রা পরিচালনা করেন সুমন কান্তি নাথ। যন্ত্রসংগীতে সহযোগিতা করেন কিবোর্ডে সৈকত নন্দী, অক্টোপ্যাডে অভিষেক দাশ, লিড গিটারে শুভ বড়ুয়া এবং তবলায় অমর্ত্য চক্রবর্তী ও দীপ্ত দত্ত।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শিল্পসংস্কৃতি কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি সমাজের চেতনা জাগ্রত করার অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। ‘সুরমাল্য’র সুরধারা যেমন শ্রোতার মনকে নির্মল ও প্রশান্ত করে, তেমনি ‘নারী’ গীতিনৃত্যনাট্য সমাজে নারীর অবস্থান, সংগ্রাম ও আত্মমর্যাদার বিষয়টি গভীরভাবে তুলে ধরে। রবীন্দ্রনজরুল চেতনায় নির্মিত এই প্রযোজনায় নারীকে শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে নয়, বরং শক্তি, সাহস ও মানবিকতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক অবক্ষয় ও মূল্যবোধের সংকটের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম তাদের শেকড়ের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে এবং মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়। বিশেষ করে নারীর প্রতি সম্মান, সমতা ও ন্যায়বিচারের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত অতিথি ও শিল্পীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। বক্তারা আয়োজক প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকলে চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গন আরও সমৃদ্ধ হবে। তারা ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এমন সৃজনশীল আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

পুরো আয়োজনটি ছিল শিল্পরুচি ও মানবিক চেতনার এক অনন্য সমন্বয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখে গেছে। হাওয়াইয়ান গিটারের সুরে টিআইসি মিলনায়তনে প্রাণবন্ত সুরমেলার সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপটিয়া সুচক্রদন্ডীতে মাদক ও কিশোর গ্যাং বিরোধী সমাবেশ
পরবর্তী নিবন্ধবৈলছড়িতে অবৈধভাবে মাটি কাটায় এক ব্যক্তিকে জরিমানা ও ৬ মাসের কারাদন্ড