আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় জেলা পার্বত্য রাঙামাটি। এ জেলার আট উপজেলাতেই দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম জলাশয় কাপ্তাই হ্রদ বিস্তৃত। কিন্তু এ জেলার দীর্ঘস্থায়ী ও অন্যতম প্রধান সংকট হল সুপেয় ও নিরাপদ পানির সংকট। গ্রীষ্ম–বর্ষায় যা রূপ নেয় প্রকট। আসন্ন ভোটে প্রার্থীদের নানান উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির মাঝেও উপেক্ষিত এ পানি সংকট। পাহাড়ের প্রান্তিক এলাকায় বসবাসরত জনগোষ্ঠীর টিকে থাকার লড়াইয়ের অংশ এই সুপেয় ও নিরাপদ পানি।
বিশিষ্টজন ও পরিবেশবাদীরা বলছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের সংকটগুলোর মধ্যে সুপেয় ও নিরাপদ পানি সংকট নিরসনে জনপ্রতিনিধিদের জোর দেয়া উচিত। উপরন্তু ঝিরি–ঝরনা নষ্ট ও পানির উৎসগুলো ধ্বংস করার ফলে হুমকির মুখে প্রাকৃতিক উৎস।
রাঙামাটির বরকল উপজেলার বাসিন্দা সুশীল বিকাশ চাকমা বলেন, প্রশাসনের সহায়তায় বন উজাড়, কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিদের প্রাকৃতিক বন ধ্বংস করে অপরিকল্পিতভাবে দখল করে একচেটিয়া বাগান করার ফলে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। প্রাকৃতিক বন ধ্বংসের ফলে পাহাড়ের সুপেয় পানির দিনদিন অভাব দেখা দিচ্ছে। বিশেষত গ্রীষ্ম মৌসুম আসলে পার্বত্য অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট প্রতি বছর তীব্র হয়।
প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম রাঙামাটির সাধারণ সম্পাদক নুকু চাকমা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে ব্যবহার্য পানি এবং সুপেয় পানি দুটোরই সংকট রয়েছে। আমরা চাই এখানকার বনাঞ্চল রক্ষা করার উদ্যোগ নেয়া হোক এবং পাশাপাশি নতুন বনাঞ্চল করার উদ্যোগ নেয়া হোক। এতে করে পানির উৎস ঠিক থাকবে এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা হবে। সেই সাথে বর্তমানে যে পানির উৎসগুলো আছে সেগুলো পরিষ্কার এবং নিরাপদ রাখার কঠিন আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
রাঙামাটির রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্টের চেয়ারম্যান ও উন্নয়ন কর্মী ওমর ফারুক বলেন, পাহাড়ের পানি কাঠামো টিকে আছে প্রাকৃতিক ঝর্না, প্রাকৃতিক বন, ঝিরি–ছড়ার ওপর। অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও বনখেকোদের কারণে বন উজাড় হয়ে যাওয়ায় এসব পানির উৎস শুকিয়ে গেছে ও গুরুতর হুমকির মুখে আছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, নারীদের অসহনীয় ভোগান্তি হচ্ছে। আর পানি সংকট যেহেতু চলে আসছে, সেখানে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও প্রতিবেশ মারাত্মক হুমকি আরও নানা ধরনের সংকট তৈরি হবে। কোথাও কোথাও আবার অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির ঘটনাও ঘটেছে। সংকট সমাধানে আশুকরণীয় হলো উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে।












