সুখ ও শোক: জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য কাব্য

তমিজ উদ্দীন আহমদ | শুক্রবার , ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ

সুখ ও শোক মুদ্রার এপিঠওপিঠ; একটি ছাড়া অন্যটির অস্তিত্ব কল্পনা করা অসম্ভব। জীবনের দীর্ঘ পথচলায় আমরা নানা অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হই যার প্রতিটি পরতে মিশে থাকে এই দুই বিপরীতধর্মী অনুভূতি। আমাদের জীবন আসলে সুখ ও শোকের এক অদ্ভুত ও জটিল বুনন যা আমাদের অস্তিত্বকে পূর্ণতা দিয়ে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।

জীবনকে যদি নদীর সাথে তুলনা করা হয়, তবে সুখ ও শোক সেই নদীর জোয়ারভাটা। জোয়ার যেমন নদীকে কানায় কানায় পূর্ণ করে সুখও তেমনি আমাদের মনকে আনন্দে ভরিয়ে দেয়। আবার শোকের ভাটা এলে সাজানো বাগান যেন মুহূর্তেই মরুভূমি হয়ে যায়। তবে সবসময় সুখ থাকলে জীবনের গতিশীলতা ও গভীরতা হারিয়ে যেত।

শোক আসলে আত্মার কারিগর। এটি কেবল যন্ত্রণা নয় বরং আমাদের পরিণত ও বিনয়ী করে তোলে। মাটির পাত্র যেমন আগুনে পুড়ে শক্ত ও ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠে মানুষও তেমনি শোকের আগুনে দগ্ধ হয়ে জীবনের প্রকৃত অর্থ খুঁজে পায়। শোক আমাদের ভেতরের অহংকার ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে বিনয় শেখায়।

অন্যদিকে সুখ হলো বেঁচে থাকার সঞ্জীবনী সুধা যা আমাদের এগিয়ে চলার প্রেরণা জোগায়। শোক যদি শিক্ষা দেয় তবে সুখ দেয় পথ চলার শক্তি। একটি সাদা ক্যানভাসে যেমন কেবল এক রঙ দিয়ে সুন্দর ছবি আঁকা সম্ভব নয় তেমনি কেবল এক অনুভূতি দিয়ে জীবনকে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। এই রোদছায়ার খেলা আছে বলেই জীবন এত বৈচিত্র্যময়।

পরিশেষে বলা যায় সুখ ও শোকের এই রহস্যময় আলিঙ্গনেই মানুষ জীবনের শ্রেষ্ঠতম পাঠ গ্রহণ করে। শোক আমাদের মাটির গভীর পর্যন্ত শিকড় ছড়াতে সাহায্য করে আর সুখ আমাদের ডালপালা মেলে আকাশের দিকে তাকাতে শেখায়। এই দুইয়ের ভারসাম্যই আমাদের বিবর্তিত করে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকাঁচা খেজুরের রস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন
পরবর্তী নিবন্ধকিডনি ট্রান্সপ্লান্ট নিয়ে জানা জরুরি