সুইজারল্যান্ডের ভ্যালাইস ক্যান্টনের আল্পস পবর্তমালা কেন্দ্রিক পর্যটন কেন্দ্র ক্রঁ–মঁতানার একটি স্কি রিসোর্টের বারে বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রায় ৪০ জন নিহত এবং ১০০ জন আহত হয়েছে। আহতদের বেশিরভাগের অবস্থা গুরুতর। খবর বিডিনিউজের।
হতাহতদের মধ্যে অনেকে অন্য দেশের নাগরিক বলে জানিয়েছেন ভ্যালাইস ক্যান্টনের নিরাপত্তা বিষয়ক প্রধান স্টিফেন গ্যান্জার। ক্যান্টনের পুলিশ বিভাগের প্রধান ফ্রেডরিক গিজলার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমাদের গণনামতে, ১০০ জন আহত হয়েছে। বেশিরভাগই গুরুতর। আরও বেশকিছু মানুষ নিহত হয়েছে। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বলেছে, সুইস পুলিশের তথ্যমতে, প্রায় ৪০ জন নিহত হয়েছে। তবে ফ্রেডরিক গিজলার নিহতের নির্দিষ্ট কোনও সংখ্যা উল্লেখ করেননি।
বৃহস্পতিবার বিবিসি–কে দেওয়া এক বিবৃতিতে পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে লে কনস্টেলেইশন পানশালায় বিস্ফোরণের ওই ঘটনাটি ঘটে। সুইস গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর পানশালাটিতে আগুন ধরে যায়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিন্তু যাচাই করা যায়নি এমন ভিডিও ফুটেজগুলোতে দেখা গেছে, পানশালাটিতে আগুন জ্বলছে।
ঘটনার সময় সেখানে নতুন বছরের আগমণ উদযাপন করা হচ্ছিল। সুইস গণমাধ্যম ব্লিক পুলিশের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বিস্ফোরণের সময় পানশালাটিতে শতাধিক মানুষ ছিলেন। পুলিশ এর আগে জানিয়েছিল, পুড়ে যাওয়া অনেক মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিস্ফোরণস্থলটি পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। ক্র্যান্স মন্টানায় উড্ডয়ন নিষিদ্ধ এলাকাও ঘোষণা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকাজে পাঠানো হয়েছে ১০ হেলিকপ্টার এবং ৪০ টি অ্যাম্বুলেন্স। এক কৌঁসুলি বিয়াট্রিস পিলোদ বলেছেন, নিহতদের দেহ তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতদের দেহ শনাক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পানশালাটিতে কি থেকে বিস্ফোরণ ঘটল তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে এটি দুর্ঘটনা হয়ে থাকতে পারে। কৌসুলি বিয়াট্রিস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ মুহূর্তে আমরা বিস্ফোরণের ঘটনাকে অগ্নিকাণ্ড হিসাবেই দেখছি। এটি কোনও হামলার ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে আমরা মনে করছি না। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পূর্ণ তদন্ত শুরু করেছে। ওদিকে, ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টোনিও তাজানি একটি টিভি চ্যানেলে বলেছেন, আতশবাজি থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে। নতুন বছর উদযাপনের সময় অনেকে আতশবাজি ছোড়ার পর এর আগুনের কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে।












