সীতাকুণ্ডে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের দুই গার্ডের মরদেহ উদ্ধার

মৃত্যুর কারণ নিয়ে ভিন্ন তথ্য

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি | মঙ্গলবার , ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৪:২৬ পূর্বাহ্ণ

সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা এলাকায় সাগর উপকূলে অবস্থিত একটি শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের দুই গার্ডের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মৃত্যুর কারণ নিয়ে ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে। ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি ডাকাত দলের হামলার ঘটনা, তবে শিল্প পুলিশ বলছে, বিষয়টি দুর্ঘটনাও হতে পারেতদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

নিহত দুজন হলেন সাইফুল ইসলাম (৩৭) ও মো. খালেক প্রামাণিক রতন (৩৪)। তাদের দুজনেরই বাড়ি গাইবান্ধা জেলায়। তারা কুমিরা এলাকার কে. আর. শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

গত রোববার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন দুপুরে একটি পুরোনো স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটিংয়ের জন্য ইয়ার্ডে আনা হয়। রাত আনুমানিক ২টা থেকে সোয়া ২টার মধ্যে মুখোশধারী একদল ডাকাত বোটে করে সাগরপথে এসে জাহাজে ডাকাতির

উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। এ সময় সাগরে দায়িত্বে থাকা গার্ডরা ডাকাতদের প্রতিরোধের চেষ্টা করলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে সাইফুল ইসলাম ও খালেক প্রামাণিক রতন নিহত হন বলে দাবি করে ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ।

কে. আর. শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের ম্যানেজার আবু সাজ্জাদ মুন্না জানান, এর আগেও কয়েক মাস আগে একই ইয়ার্ডে ডাকাত দলের হানা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কুমিরা নৌঘাট সংলগ্ন সাগর উপকূল থেকে ওই দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আল মামুন বলেন, ইয়ার্ডে আসা জাহাজের মালামাল লুটের সময় ডাকাতদের ধাওয়া দিলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, নিহত সাইফুল ইসলামের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং তার দেহ ক্ষতবিক্ষত ছিল। অন্যদিকে একটি মরদেহের ক্ষেত্রে মাথা ও একটি হাত উদ্ধার করা গেলেও শরীরের বাকি অংশ পাওয়া যায়নি।

তবে শিল্প পুলিশের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, নিহত দুজনই ইয়ার্ডের গার্ড ছিলেন, এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।

এদিকে শিল্প পুলিশের পরিদর্শক নাহিদ হাসান মৃধা বলেন, ইয়ার্ডে আসা পুরোনো জাহাজ বিচিংয়ের সময় দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে এটিকে ডাকাতির ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না।

সীতাকুণ্ড থানা ও চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে মৃত্যুর পেছনের আসল ঘটনা পরিষ্কার হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর ৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই!
পরবর্তী নিবন্ধবাকলিয়া থানার ৮ পুলিশ বরখাস্ত