সীতাকুণ্ডে আধিপত্য বিস্তার ও সরকারি চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে সজিব (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গোপ্তাখালী আমতলী এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গতকাল বুধবার সকালে স্থানীয় একটি টমেটো ক্ষেত থেকে সজিবের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত সজিব মীরসরাইয়ের মঘাদিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের খোরমাওয়ালা গ্রামের শাহ আলমের ছেলে। তিনি মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাবুদ্দিনের গোডাউনের দারোয়ান হিসেবে কাজ করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি ভিজিএফ চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবদল নেতা শাহাবুদ্দিন ও আলিমের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। ওই ঘটনার জেরে সন্ধ্যার পর দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাতের দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে অন্তত আটজন আহত হন। বুধবার সকালে স্থানীয়রা একটি টমেটো ক্ষেতে সজিবের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
আলিমের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণের সময় তার স্বামীর সঙ্গে শাহাবুদ্দিনের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে সন্ধ্যার পর কয়েকজন লোক এসে তার স্বামীকে গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হামলা চালায়। তবে মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাবুদ্দিন দাবি করেন, চাল বিতরণ নিয়ে কোনো বিরোধ হয়নি। একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে আলিমের সঙ্গে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘ইফতার শেষে বাড়ি ফেরার পথে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা করা হলে আমার গোডাউনের দারোয়ান সজিব নিহত হন।’
স্থানীয় বাসিন্দা আবু তৈয়ব জানান, আলিম ও শাহাবুদ্দিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সাগর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও কৃষিজমির মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। এর আগে একাধিকবার দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, আলিম ও শাহাবুদ্দিনের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণের সময় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। রাতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। পরে বুধবার সকালে সজিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।












