সীতাকুণ্ডে বিস্তীর্ণ এলাকায় পুষ্টিগুণে ভরপুর সজনের চাষ

খরচ কম লাভ বেশি

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি  | রবিবার , ৮ মার্চ, ২০২৬ at ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ

সজনে অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ একটি ফসল। এটি অত্যন্ত লাভজনক ও কম খরচে বেশি ফলন দেয় এবং বছরের ১২ মাসই ফল ও পাতা পাওয়া যায়। সজনে পাতায় কমলা লেবুর চেয়ে ৭ গুণ বেশি ভিটামিন সি, দুধের চেয়ে ৪ গুণ বেশি ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, এবং কলার চেয়ে ৩ গুণ বেশি পটাশিয়াম, রয়েছে প্রচুর ক্যালসিয়াম, সজনের উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না।

তাই বাজারে সজনের চাহিদা বেশি। এজন্য সীতাকুণ্ড উপজেলার কৃষক পরিবারগুলো সজনরে চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। তবে গত কয়েক বছর আগেও এ অঞ্চলে সজনের তেমন চাষ ছোখে পড়েনি। তবে পুষ্টিগুণের কথা ভেবে সারা দেশে এর চাহিদা ক্রমশ বেড়েছে। এখনকার পাহাড় থেকে শুরু করে মহাসড়কের রাস্তার উভয় পাশে পুষ্টিকর এ ফসল সজনে বাতাশে গাছে গাছে দোল দিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, মৌসুমে এবার ১৫ হেক্টর জায়গায় প্রায় ২০০জন কৃষক পাহাড় ও সমতলে বিস্তীর্ণ এলাকায় সজনের আবাদ হয়েছে। আর উৎপাদন হবে ২৭০ মেঃ টন। যার বাজার মূল্য ৩ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা। সজনে ডাঁটা এবং সজনে পাতা শরীরের জন্য খুবই উপকারি। সজনের বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে মরিঙ্গা অলেইফেরা। সজনের পাতা ও ডাঁটার রস খেলে মানবদেহের শ্বাসকষ্ট কমে এবং এতে থাকা ভিটামিন সি শরীরের অ্যালার্জি প্রতিরোধ করে। এছাড়াও সজনে ডাঁটা ও পাতা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে হজম শক্তি বৃদ্ধি করে, আমাদের লিভার ও কিডনি সুরক্ষিত রাখে। সজনে চাষের জন্য পলিমাটি এবং বেলে দোআঁশ মাটি সর্বোত্তম। তবে যেকোনো মাটিতে সজিনা চাষ করা যায়। সজনে চাষের জন্য উঁচু জমি নির্বাচন করাটা ভাল। কারণ সজনে গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। এটি খরা সহনশীল ফলন। সজনের উপকারিতা থাকায় সারা বছরই এর চাহিদা থাকে অনেক বেশি। ফলে কৃষকরাও এই সজনে গাছ বোপনকরে করে আর্তিকভাবে লাবভান হচ্ছেন। এমনি এক বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মান্দারিটোলা গ্রামের কৃষক মোঃ নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, বাড়বকুণ্ড পাহাড়ে ২ একর জায়গায় ১ হাজার সজেনার চারা লাগিয়েছেন। এতে শ্রমিকসহ বিভিন্ন বাবদ খরচ পরেছে প্রায় ৪০ হাজার টাকার মত। তিনি বলেন পর্বতী সময়ে ১২০ টাকা করে সজনের কেজি হলেও বর্তমানে ১৮০ টাকা কেজি হিসেবে পাইকারীতে সজনে বিক্রি করছেন। আজ ১৫ বছর ধরে বিভিন্ন রকম ফসলের চাষ করলেও সজনে বিক্রিকরে অনেক কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে প্রায় ৩ লক্ষ টাকার সজনে বিক্রি করতে পারবো বলে ধারণা করছি। তবে এখানে আমার মত আরো ৮ থেকে ১০জন কৃষক পুষ্টিকর সজনের চাষ করেছেন। তারাও সজনে বিক্রিকরে লাভের মুখ দেখতে পেয়েছেন। এখানকার প্রতিটি হাঁটবারে কৃষকদের উৎপাদিত সজনে ক্রয়করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে যাচ্ছেন হাঁটে আসা আগত পাইকারগণ। এমনি এক পাইকার মোঃ সামসুল আলম বলেন, প্রতিটি হাঁটবারে এখান থেকে পাইকারীতে সজনে কিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে থাকি। আমাদের দেশে সজনের দুটি জাত রয়েছে। সজনের এই দুটি জাতের মধ্যে একটি বছরে একবার বা শুধুমাত্র গ্রীষ্মকালে ফলন দেয় এবং সজনের আরেকটি জাত প্রায় সারা বছরই ফলন দেয়, একে বারোমাসি সজনে বলে। ডাল কেটে সুন্দরভাবে কাটিং করে সেই কাটিং জমিতে রোপন করলে খুব দ্রুত সজনের ফলন পাওয়া যায়।

এদিকে সীতাকুণ্ড উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ হাবিবুল্লাহ জানান, সীতাকুণ্ড উপজেলায় পাহাড় ও সমতলে মিলে ১৫ হেক্টর জায়গায় ২০০ জন কৃষক বিক্ষিপ্ত ভাবে সজেনার আবাদ করেছেন। হেক্টর প্রতি গরে ফলন হবে ১৮ মেঃ টন এবং সর্বমোট উৎপাদন হবে সজেনা ২৭০ মেঃ টন। যার বাজার মূল্য প্রতি কেজি গড়ে ১২০ টাকা হারে ৩ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা। সজেনা খরা সহনশীল ফসল। সজেনা পুষ্টি গুণে ভরপুর। পাহাড়ি টিলায়, রাস্তার পাড়সহ সমতলে সজনা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবীর মুক্তিযোদ্ধা অসিত সেন তাঁর কর্মগুণে আজীবন মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন
পরবর্তী নিবন্ধবিভিন্ন স্থানে ইফতার মাহফিল