দেশে যখনই কোনো সংকটের আবহ তৈরি হয়, হোক তা উৎসবের সময়, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি কিংবা জ্বালানি সংকটের পেছনে প্রায়ই একটি পরিচিত চিত্র সামনে আসে; সিন্ডিকেট। বাজারব্যবস্থাকে কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণ করে অস্বাভাবিক মুনাফা আদায়ের এই প্রবণতা বহু বছর ধরে দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে বড় চাপ তৈরি করে আসছে। উৎসবের সময় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ঈদ বা অন্যান্য বড় ছুটিকে কেন্দ্র করে অনেক সময় পরিবহন খাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়। পর্যাপ্ত যানবাহন থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ সীমিত দেখিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়। দূরদূরান্তে যাতায়াত করা মানুষের জন্য তখন যাত্রা শুধু ব্যয়বহুলই নয়, দুর্ভোগেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই সিন্ডিকেট সংস্কৃতি টিকে থাকার পেছনে কিছু বাস্তব কারণও আছে। বাজারে দালাল ও অসাধু মজুদদারদের দাপট, কার্যকর নজরদারির ঘাটতি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির অভাবের কারণে একই চক্র বারবার সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পায়। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধির নীরব সমর্থন কিংবা প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা এসব সিন্ডিকেটের আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে। সর্বোপরি মনে রাখতে হবে, বাজারের এই অনিয়মের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। তাই সিন্ডিকেটের বেড়াজাল ভাঙতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া শুধু অর্থনৈতিক প্রয়োজনই নয়, এটি জনস্বার্থ রক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
হাসনাইন মাবরুর জিমাম
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম










