চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বন্দি পালানোর ঘটনায় সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খানকে (চলতি দায়িত্ব) ‘তিরস্কার’ করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের (শৃঙ্খলা-১ শাখা) সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়।
সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খানের দায়িত্ব পালনকালে হাজতি (নম্বর: ২৫৪৭/২০২১) ফরহাদ হোসেন রুবেল কারাগার থেকে পালানোর ঘটনায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী ‘অসদাচরণের’ অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলা (নম্বর ০৮/২০২১) দায়ের করা হয়। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগ বিবরণী, অভিযোগনামা, দাখিলকৃত জবাব, ব্যক্তিগত শুনানি পর্যালোচনা শেষে তার বিরুদ্ধে এই লঘুদন্ড প্রদানের আদেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ আছে শফিকুল ইসলাম কারাবিধির ৭১, ৭১ (১), ৭৩, ৭৮, ৮৩ ধারার বিধান অনুযায়ী কারাগারের জেলারের কাজ এবং অধস্তনদের দায়িত্ব-কর্তব্য তদারকি ও বন্দি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নিজ দায়িত্বের প্রতি উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৬ মার্চ বন্দি ফরহাদ হোসেন রুবেল (২৮) চট্টগ্রাম কারাগারের ৩২ নম্বর সেল ভবনের জানালার গ্রিল দিয়ে দ্বিতীয় তলায় উঠেন। এরপর সিঁড়ি বেয়ে চারতলার ছাদে যান। সেখান থেকে লাফিয়ে ১৮ ফুট উঁচু প্রাচীর পার হন। ওই ভবন থেকে ২২ ফুট দূরের সীমানা প্রাচীর পার হয়ে পালিয়ে যান। ৯ মার্চ কোতোয়ালী থানা পুলিশ নরসিংদী জেলার রায়পুর উপজেলার বাল্লাকান্দি চর এলাকা থেকে রুবেলকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার পর পর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার রফিকুল ইসলাম ও ডেপুটি জেলার আবু সাদাতকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম বিভাগে সংযুক্ত করা হয়। এছাড়া মো. নাজিম উদ্দিন ও মো. ইউনুস নামে দুই কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করার পাশাপাশি কামাল হায়দার নামে এক কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। ঘটনাটির তদন্তে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি প্রিজন মো. ছগির মিয়াকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আরেকটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।











