সিএমপির সাবেক এডিসি কামরুল দম্পতির বিরুদ্ধে পৃথক দুই মামলা

আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ১৮ কোটি টাকার সম্পদ

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ২ এপ্রিল, ২০২৬ at ৬:১৯ পূর্বাহ্ণ

জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ প্রায় ১৮ কোটি টাকার স্থাবরঅস্থাবর সম্পদ রয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসানের। অন্যদিকে তার স্ত্রী সায়মা হাসান প্রকাশ সায়মা বেগমের ৩ কোটিরও বেশি টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের দীর্ঘ অনুসন্ধানে সিএমপির গুরুত্বপূর্ণ ক্রাইম ও প্রসিকিউশন ডিভিশনে কাজ করা কামরুল হাসান ও তার স্ত্রী সায়মা বেগমের অস্বাভাবিক সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার এ চিত্র সামনে এসেছে। এ ঘটনায় দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম১ এর সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম বাদী হয়ে এ দম্পতির বিরুদ্ধে নিজ কার্যালয়ে গতকাল পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন। এতে সম্পদের তথ্য গোপনসহ জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত তথ্যের বর্ণনা রয়েছে।

কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার এজাহারে বলা হয়, দুদক প্রধান কার্যালয়ের একটি স্মারকমূলে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই সম্পদ বিবরণী দাখিল করেছেন তিনি। এতে তিনি নিজ নামে ৭ কোটি ৩৮ লাখ ৩৬ হাজার ১৩০ টাকার স্থাবর ও ১১ কোটি ৮২ লাখ ৩৪ হাজার ৩১৩ টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জনের ঘোষণা দেন। এতে তিনি আরো ঘোষণা দেন যে, তার ৪ কোটি ৬০ লাখ ৯৩ হাজার ৮৩৯ টাকা। সেটি বাদ দিলে তার নীট সম্পদের পরিমাণ দাড়ায় ১৪ কোটি ৫৯ লাখ ৭৬ হাজার ৬০৪ টাকার। কিন্তু সম্পদ বিবরণী যাচাই করলে দেখা যায়, তার নামে ২৭ কোটি ১৬ লাখ ৩ হাজার ৭৪৩ টাকার স্থাবর ও ২ কোটি ৮২ লাখ ৯৬ হাজার ৮৫০ টাকার অস্থাবরসহ মোট ২৯ কোটি ৯৯ লাখ ৫৯৩ টাকার সম্পদ রয়েছে। আর তার দায়ের পরিমাণ হচ্ছে ৪ কোটি ৬০ লাখ ৯৩ হাজার ৮৩৯ টাকা। সেই হিসাবে দায়সহ তার মোট নীট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫ কোটি ৩৮ লাখ ৬ হাজার ৭৫৪ টাকার। এক্ষেত্রে কামরুল হাসান মোট ১০ কোটি ৭৮ লাখ ৩০ হাজার ১৫০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করে দুদকের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।

এজাহারে আরো বলা হয়, কামরুল হাসানের নীট সম্পদের পরিমাণ ২৫ কোটি ৩৮ লাখ ৬ হাজার ৭৫৪ টাকার হলেও সেখানে তার গ্রহণযোগ্য আয় রয়েছে ৯ কোটি ৩ হাজার ৩৫৪ টাকা। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় পাওয়া গেছে ১ কোটি ২২ লাখ ৮৮২ টাকা। মোট সঞ্চয় ও বৈধ উৎসের পরিমাণ পাওয়া গেছে ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৬২ হাজার ৪৭২ টাকা। এক্ষেত্রে তিনি ১৭ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ২৮২ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।

সায়মা বেগমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, স্বামীর মতো একই সময়ে তথা ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই তিনি নিজেকে ‘গৃহিণী ও ব্যবসায়ী’ উল্লেখ করে দুদকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেছেন। এতে তিনি ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকার স্থাবর ও ২ কোটি ৫২ লাখ ৭০ হাজার ৬৯৯ টাকার অস্থাবরসহ মোট ২ কোটি ৫৯ লাখ ৪৫ হাজার ৬৯৯ টাকার সম্পদের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি ১৬ লাখ ১৩ হাজার ৩৬০ টাকার দায় থাকার ঘোষণাও দেয়া হয়। সেটি বাদ দিলে তার নীট সম্পদ দাঁড়ায় ২ কোটি ৪৩ লাখ ৩২ হাজার ৩৩৯ টাকার। যাচাই করলে দেখা যায়, তার নামে ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকার স্থাবর ও ৩ কোটি ৭৩ লাখ ৪৯ হাজার ৪২২ টাকার অস্থাবরসহ মোট ৩ কোটি ৮০ লাখ ২৪ হাজার ৪২২ টাকার সম্পদ রয়েছে। দায় রয়েছে ১৬ লাখ ১৩ হাজার ৩৬০ টাকা। এ দায় বাদ দিলে তার নীট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ কোটি ৬৪ লাখ ১১ হাজার ৬২ টাকার। অর্থাৎ সায়মা বেগম ১ কোটি ২০ লাখ ৭৮ হাজার ৭২৩ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এজাহারে আরো বলা হয়, সায়মা বেগমের নামে ৩ কোটি ৬৪ লাখ ১১ হাজার ৬২ টাকার সম্পদ থাকলেও সেখানে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে ৮২ লাখ ৯৫ হাজার ৬১৩ টাকা। পারিবারিক ব্যয় ও অন্যান্য ব্যয় পাওয়া গেছে ৩২ লাখ ৮৯ হাজার ৪৭৯ টাকা। মোট সঞ্চয় ও বৈধ উৎস পাওয়া গেছে ৫০ লাখ ৬ হাজার ১৩৪ টাকা। এক্ষেত্রে তিনি ৩ কোটি ১৩ লাখ ৪ হাজার ৯২৮ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। স্বামী কামরুল হাসানের অসাধু উপায়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে সায়মা বেগম সম্পদ বানিয়ে ভোগ দখলে রেখেছেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম১ এর উপপরিচালক সুবেল আহমেদ দৈনিক আজাদীকে মামলা দায়েরের তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে মামলা দুটি দায়ের করা হয়।

উল্লেখ্য, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কামরুল হাসান চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলীর পশ্চিম নাছিরাবাদের বাচামিয়া রোডের বাসিন্দা। ১৯৯৫ সালে সায়মা বেগমের সাথে তার বিবাহ হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি
পরবর্তী নিবন্ধঅনলাইন ক্লাস চালু হলে শিক্ষা-কার্যক্রম ব্যাহত হবে