সায়েমের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করব, চুয়েটকে এগিয়ে নিতে চাই : নতুন ভিসি

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি | মঙ্গলবার , ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ at ৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উন্নয়নে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। এদিন ক্যাম্পাসে আসার আগে সাবেক উপাচার্যকে ফোন করেছেন বলেও জানান তিনি।

আন্দোলনের মধ্যে উপাচার্য হিসেবে প্রথমবার নিজ কার্যালয়ে আসা অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, তিনি শিক্ষার্থীদের দাবির কথা শুনবেন এবং পূরণেরও চেষ্টা করবেন। গেল এক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বলেও দাবি করেন তিনি। এছাড়া অনেক শিক্ষক ক্যাম্পাসের অচলাবস্থার নিরসন চান বলে ভাষ্য তার।

চলমান আন্দোলনের মধ্যে চুয়েটে প্রথমবার নিজ দপ্তরে এসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন নবনিযুক্ত উপাচার্য। কার্যালয়ে প্রবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, অত্যন্ত ভালোভাবে তিনি দপ্তরে প্রবেশ করতে পেরেছেন এবং কোনো প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়নি। দপ্তরে এসে তিনি বিভিন্ন বিভাগের ডিন, বিভাগীয় প্রধান এবং অনুষদের ডিনবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি জানান, পাঁচজন ডিনের মধ্যে চারজন ছুটিতে আছেন (যাদের তিনজন ছুটিতে এবং একজন শহরে আছেন), আর একজন ক্যাম্পাসে আছেন, যিনি তাকে আসার বিষয়টি জানিয়েছেন। এছাড়া ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের দপ্তরসহ অন্যান্য দপ্তর প্রধানদের সঙ্গেও তার কথা হয়েছে। দ্রুত সবার সঙ্গে সভা করে কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

ক্যাম্পাসে আসার কারণ ব্যাখ্যা করে উপাচার্য বলেন, গত সাত দিন ধরে হলের কিছু সাধারণ শিক্ষার্থী (২৪ ও ২৫ ব্যাচের) তার সঙ্গে যোগাযোগ করে হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং কবে ক্লাস শুরু হবে তা জানতে চেয়েছেন। এমনকি ২৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরাও ক্লাস প্রতিনিধিদের (সিআর) মাধ্যমে লিখিতভাবে ক্লাসে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অনেক শিক্ষকও ক্লাস শুরু করতে আগ্রহী।

তিনি বলেন, হলের কিছু ছেলে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। আমি যখন অন্য ব্যাচের সঙ্গে কথা বললাম, তারা লিখিতভাবে জানাল যে তারা ক্লাসে ফিরতে চায়। আমি তো ক্লাস করাতেই চাই। অনেক শিক্ষকও ক্লাসে ফিরতে আগ্রহী। এমন পরিস্থিতিতে আমার বাইরে থাকা ঠিক হবে না ভেবে আমি সকালে ক্যাম্পাসে চলে এসেছি।

তিন সপ্তাহে বন্ধ থাকা ১৪–১৫টি কর্মদিবসের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে একটি একাডেমিক রিকভারি প্ল্যান তৈরি করা হবে বলেও জানান তিনি। সেমিস্টারের টার্ম ব্রেক কমিয়ে বা ফলাফল দ্রুত প্রকাশ করে এই ক্ষতি কমানো সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের বিষয়ে বলেন, প্রফেসর সায়েম এবং আমরা সমসাময়িক ক্যাম্পাসে বিচরণ করেছিলাম। তিনি একজন ভদ্রলোক এবং অবশ্যই তিনি একজন ভালো শিক্ষক। এই ক্যাম্পাসের ছাত্ররা তাকে ভালোবাসবে, এটা খুবই স্বাভাবিক। তিনি একজন রিসোর্সফুল পারসন ও গবেষক। ফলে তাকে আমাদের ব্যবহার করতে হবে।

তিনি জানান, ক্যাম্পাসে আসার আগে সকালেও তিনি অধ্যাপক সায়েমকে ফোন করেছিলেন। ফোনে না পেয়ে হোয়াটসঅ্যাপে টেঙট করে লিখেছেন, ‘সায়েম, তোমার সহযোগিতা আমার দরকার, প্রতিষ্ঠানের দরকার। আমরা মিলেমিশে কাজ করব। আমরা একে অপরের এনিমি না।’ অধ্যাপক সায়েমের সঙ্গে তার অত্যন্ত চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দিন শেষে তারা তো ছাত্রই। আমি যেহেতু একজন শিক্ষক, তো আমি তাদের সঙ্গে কথা বলব। ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের টিমকে আসতে বলেছি, তারা আসলে ছাত্রদের সঙ্গে বসব। শিক্ষার্থীদের যুক্তিযুক্ত দাবিগুলো শুনে সে অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তা অবহিত করা এবং নিজের আয়ত্তে থাকা বিষয়গুলো সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনকারীদের অনেকের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত যোগাযোগ রয়েছে। অনেক শিক্ষক বা শিক্ষার্থী আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকলেও মিছিল–মিটিং শেষে তার সঙ্গেই যোগাযোগ করছেন এবং রুমমেট বা সহযোগীদের চাপে বাধ্য হয়ে আন্দোলনে থাকার কথা বলছেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতার পর গতকাল বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপাচার্য ভবনে ফের তালা ঝুলিয়ে দেন এবং বিদ্যুৎ–পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে অবরুদ্ধ করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচুয়েটের শিক্ষার্থী বহনকারী বাসে দুই দফা হামলা
পরবর্তী নিবন্ধরাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে