ব্যর্থ হয়েছিল থানা পুলিশ ও নগর গোয়েন্দা পুলিশ। সফল হয়েছে পিবিআই। দীর্ঘ সাড়ে নয় বছর পর ডবলমুরিং থানাধীন স্টেশন কলোনির মো. রফিকুল ইসলামকে (২৩) ছুরিকাঘাতে হত্যাকারী রাসেল প্রকাশ রাশেদকে (৩১) অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো। আর জিজ্ঞাসাবাদে রাশেদ স্বীকার করেছেন, জুয়া খেলায় মোবাইল ও টাকা হারানোর ফলে সৃষ্ট শত্রুতার কারণে তিনি ২০১২ সালের ২৪ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রেলওয়ে স্টেশন কলোনির রাস্তায় ওই কলোনিতে বসবাসকারী রফিকুলকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান।
গত ৬ সেপ্টেম্বর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন রাশেদ। স্বীকারোক্তিতে তিনি একাই রফিকুল ইসলামকে ছুরিকাঘাতে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
পিবিআই মেট্রো অঞ্চলের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা আজাদীকে জানান, এলাকার লোকজন আহত রফিকুল ইসলামকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই রুবায়েত হোসেন বাদী হয়ে ডবলমুরিং থানায় মামলা (নং-৩৮) দায়ের করেন।
জানা যায়, ডবলমুরিং থানা পুলিশ ২০১২ সালের ২৫ মার্চ থেকে ২০১৩ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত মামলাটি তদন্ত করে উক্ত আসামির বিরুদ্ধে ঘটনার সত্যতা পেলেও আসামির সঠিক ঠিকানা উদঘাটন করতে পারেনি। আসামিকেও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত শেষে তাই থানা পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে। আদালত উক্ত রিপোর্ট গ্রহণ না করে মহানগর গোয়েন্দা শাখাকে অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন।
মহানগর গোয়েন্দা শাখার তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০১৪ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ বছর আট মাস মামলাটি অধিকতর তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পান। কিন্তু উক্ত আসামির প্রকৃত ঠিকানা উদঘাটন করতে না পারা ও আসামিকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পুনরায় চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। ওই রিপোর্টের বিরুদ্ধে নারাজি দেন বাদী।
বাদীর নারাজি আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোকে মামলাটির অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন। পিবিআই পরিদর্শক মো. মেজবাহ উদ্দিন খানকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। গত বছরের ২০ নভেম্বর তিনি তদন্তভার গ্রহণ করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর একটি বিশেষ টিম আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য তার বাড়ি কিশোরগঞ্জ এলাকায় এবং ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু আসামি তার অবস্থান দ্রুত পরিবর্তন করায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে গত ২৪ আগস্ট পিবিআইয়ের অভিযানের মুখে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চট্টগ্রামে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা ২৫ আগস্ট আসামিকে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদকালে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।












