সাড়ম্বরে দুর্গোৎসব শুরু, আজ মহাসপ্তমী

বাজল পূজার বাদ্য

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ২ অক্টোবর, ২০২২ at ৬:০৭ পূর্বাহ্ণ

বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। আনন্দে ভাসছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। ধূপ-শাখের ধ্বনি আর ঢাকের বাদ্যের সঙ্গে মণ্ডপে মণ্ডপে উচ্চারিত হচ্ছে পুরোহিতের মন্ত্র। সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব ঘিরে শহর থেকে গ্রামে এখন সর্বত্র সাজ সাজ রব।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় দেবীর বোধন অনুষ্ঠান উপলক্ষে নানা রঙের পোশাক পরে বিভিন্ন বয়সী মানুষ পূজা মণ্ডপে সমবেত হতে শুরু করে। ঢাকের বাজনা, আরতি আর উলুধ্বনিতে মূখর হয়ে উঠে পূজা মণ্ডপগুলো। এবার বর্ণিল আয়োজন আর উৎসব মুখর পরিবেশে চট্টগ্রামের ২ হাজার ৩৪৪টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হচ্ছে। পূজাকে আনন্দমুখর করে তুলতে চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার প্রতিটি মণ্ডপ রূপে-রঙে আলোকোজ্জ্বল করে তোলা হয়েছে।
আজ রোববার দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমী। সকাল ৯টা ৪৯ মিনিটের মধ্যে দুর্গাদেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ, ঘট স্থাপন, সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভ ও সপ্তমীবিহিত পূজা প্রশস্তা। পূজা শেষে ভক্তরা অঞ্জলি দেবেন। মহাসপ্তমীতে শুরু হয় মূলত দুর্গোৎসবের মূল পর্ব। ষোড়শ উপাচার তথা ষোলটি উপাদানে দেবীর পূজা করা হয়। প্রথমে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান, এরপর দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, স্নানীয়, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ দিয়ে পূজা সমর্পণ। গতকাল সকালে কল্পারম্ভ এবং সন্ধ্যায় বোধন আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্যদিয়ে শারদীয়া দুর্গাপূজার প্রথম দিন ষষ্ঠী পূজা সম্পন্ন হয়েছে। সন্ধ্যা থেকেই নগরীর প্রতিটি মণ্ডপে দুর্গা মায়ের শারদ বরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। আগামীকাল সোমবার মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা, মঙ্গলবার মহানবমী বিহিত পূজা এবং বুধবার বিজয়া দশমী ও দর্পণ বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে পাঁচদিনের এ উৎসব।
পুরাণ মতে, রাজা সুরথ প্রথমে দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন। বসন্তকালে তিনি এই পূজা আয়োজন করেছিলেন বলে এ পূজাকে বাসন্তী পূজা বলা হয়। কিন্তু রাজা রাবণের হাত থেকে স্ত্রী সীতাকে উদ্ধারের জন্য রাজা দশরথের পুত্র রামচন্দ্র শরৎকালে দুর্গাপূজার আয়োজন করেছিলেন। যা শারদীয় দুর্গোৎসব নামে পরিচিত। তাই শরৎকালের অমাবশ্যা তিথিতে এই পূজাকে অকাল বোধনও বলা হয়। বাঙালির হৃদয়ে শরৎকালের দুর্গার অধিষ্ঠান কন্যারূপে। প্রতিবছর বিভিন্ন বাহনে সপরিবারে শ্বশুরবাড়ি কৈলাস থেকে কন্যারূপে দেবী মর্ত্যলোকে আসেন বাপের বাড়ি বেড়াতে। তাই দেবীকে বরণে আয়োজনের কমতি থাকে না ভক্তকূলের।
এদিকে দেবীর বোধন থেকে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই শারদীয় দুর্গোৎসবকে আনন্দঘন করতে নগরী ও জেলার প্রতিটি মণ্ডপে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে এবং জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা বহিনীর পাশাপাশি নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী কাজ করছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাঁশখালীতে পাওয়ার প্ল্যান্টে লোহার আঘাতে শ্রমিকের মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণে ফিরেছে পিতা-পুত্র, আরেক যুবক অপহৃত