সাহস থাকলে হাসিনা ও জয় দেশে এসে কথা বলুক

সাতকানিয়ায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বিজিবিতে রেকর্ডসংখ্যক রিক্রুট প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে সীমান্তে সমস্যা হলে প্রতিবাদ করছি

সাতকানিয়া প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার , ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৭:১৩ পূর্বাহ্ণ

সাহস থাকলে দেশে এসে কথা বলতে শেখ হাসিনা ও তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। গতকাল বুধবার দুপুরে সাতকানিয়ায় সাংবাদিকের প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন। ওই সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রে থাকা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি ধামকি দিয়ে আসছেন। এ বিষয়ে ভোটারদের কীভাবে আশ্বস্ত করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পালিয়ে থেকে অনেক কিছু বলতে পারে। এতে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই। পালিয়ে থেকে হুঙ্কার না দিয়ে সাহস থাকলে দেশে আসুক। আইনের আশ্রয় নিক এবং তারা তাদের কথা বলুক। অন্য দেশে পালিয়ে কথা বললে সেটার কোনো মূল্য নাই।

গতকাল বুধবার সকালে সাতকানিয়ার বায়তুল ইজ্জত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচনে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না হয় সেজন্য এবারে রেকর্ড সংখ্যক রিক্রুট প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। নির্বাচনে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হবে না। শান্তিপূর্ণভাবেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে ইনশাআল্লাহ।

মিয়ানমার সীমান্তে উত্তেজনা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মিয়ানমার একটি বৈধ রাষ্ট্র। আরাকান আর্মি রাখাইন সীমান্ত এলাকা দখল করে আছে। মিয়ানমার আর্মি বর্ডারে নাই। এ কারণেই সমস্যা হচ্ছে। মিয়ানমার সরকারের সাথে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। সীমান্তে কোনো সমস্যা হলে মিয়ানমার সরকারকে প্রতিবাদ জানানো হয়। তবে আরাকান আর্মিকে এখনো বৈধতা দেওয়া হয়নি। মূলত মিয়ানমার আর্মির সাথে আরাকান আর্মির ঝামেলা হলে আমরা সমস্যায় পড়ছি। তাদের ছোড়া গোলা মাঝেমধ্যে আমাদের দিকে চলে আসে। সম্প্রতি এক শিশু আহত হয়েছে। তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে এসেছি।

এর আগে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবারে বিজিবির ইতিহাসে রেকর্ডসংখ্যক রিক্রুট প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে বিজিবি সুপরিকল্পিতভাবে সমন্বিতরূপে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এ বাহিনী থেকে মোট ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন সদস্য ৬১টি জেলায় দায়িত্ব পালন করবে, যা সামগ্রিক নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরো সুসংহত ও কার্যকর করবে।

তিনি বলেন, বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজ ৪৪ বছর যাবৎ বিজিবি কর্তৃক নিয়োগকৃত রিক্রুটদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদান করে সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে গড়ে তুলছে। এ প্রতিষ্ঠান ৭২টি রিক্রুট ব্যাচকে সফলভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। বিজিটিসিএন্ডসি এ প্রতি ব্যাচে ৭০০ থেকে ১ হাজার জন রিক্রুটকে প্রশিক্ষণ প্রদানের সক্ষমতা থাকলেও ১০৪তম ব্যাচে ৭৩ জন নারীসহ ৩০২৩ জন রিক্রুটকে সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে।

বিজিবির সদস্যদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, আপনাদেরকে যেকোনো ধরনের অনৈতিক, পক্ষপাতমূলক বা দায়িত্ববহির্ভূত আচরণ ও কর্মকাণ্ড যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে তা থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকার জন্য নির্দেশনা প্রদান করছি। দেশের ভবিষ্যত কল্যাণে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করার পবিত্র দায়িত্ব কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সততা ও পেশাদারিত্বের সাথে পালনের অঙ্গীকার করতে হবে। আপনারা কখনো বেআইনি আদেশ এবং স্বার্থান্বেষীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবেন না। সাহস মানে শুধু বিপদের মুখে দাঁড়ানো নয়, সাহস মানে অন্যায় আদেশকে না বলা। অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেয়া, জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া, মজলুমের পক্ষে কাজ করা এবং নিজেকে সঠিক পথে অটল রাখা। সততা, নৈতিকতা ও বিবেকই হবে আপনাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না, এটি রাষ্ট্র্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে এবং জনগণের বিশ্বাস ভেঙে দেয়। বিজিবি সদস্যরা কোনো রাজনৈতিক দলের বাহিনী নয়, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষকও নয়। তিনি বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আজ একটি সুসংগঠিত, চৌকষ, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার দেশপ্রেমিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে এ বাহিনী দেশের ৪,৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষা ও সীমান্ত ভূমি এবং সম্পদের নিরাপত্তার দায়িত্ব অত্যন্ত দৃঢ়তা ও সফলতার সাথে পালন করে আসছে।

নবীন সৈনিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শৃঙ্খলা হচ্ছে সৈনিক জীবনের অলংকার। আদেশ ও কর্তব্য পালনে যে কখনো পিছপা হয় না সেই প্রকৃত সৈনিক। সততা, বুদ্ধিমত্তা, নির্ভরযোগ্যতা, আনুগত্য, তেজ ও উদ্দীপনা একটি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতার মাপকাঠি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গাজী নাহিদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। পরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ১০৪তম ব্যাচের সর্ব বিষয়ে সেরা নবীন সৈনিক আল ইমরানসহ বিভিন্ন বিষয়ে সেরা নবীন সৈনিকদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএলপিজি সেক্টরে সংস্কারে সরকারের উদ্যোগ
পরবর্তী নিবন্ধবাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ ৭৫ দেশের ভিসা বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র