বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার–১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। দলের প্রার্থী হিসেবে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। দাখিল করা হলফনামায় সালাহউদ্দিন আহমদ তার বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৬ কোটি টাকার বেশি। কোম্পানির পরিচালক হিসেবে প্রাপ্য সম্মানী, জমি বিক্রি, ব্যবসা, কৃষি ও বাণিজ্যিক স্থাপনা থেকে ভাড়া বাবদ এই উপার্জন করেন বলে তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে দাখিল করা আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলএম ডিগ্রিধারী সালাহউদ্দিনের পেশা আইন ও ব্যবসা। তার স্ত্রীর পেশাও একই। সালাহউদ্দিন আহমদের মোট প্রদর্শিত সম্পদের পরিমাণ ১৮ কোটি ২৪ লাখ ৪৪ হাজার ৬২৬ টাকা। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তাঁর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৬ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৭ টাকা, যার বিপরীতে আয়কর দিয়েছেন ২১ লাখ ৮২ হাজার ২১৬ টাকা।
সালাহউদ্দিন আহমদের অস্থাবর সম্পদের মূল্য ১০ কোটি ৪০ লাখ টাকার বেশি। এর মধ্যে নগদ টাকা আছে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫২ হাজার ৬৭ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ৩৯ লাখ ৪৯ হাজার ৯৯২ টাকা। কোম্পানির শেয়ার ১৯ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত ২৬ লাখ টাকা। আছে ৫৬ লাখ ৬০ হাজার ২৫ টাকা দামের একটি কার ও দুটি জিপ। সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর গয়না আছে ১২ দশমিক ৩ ভরি। আগ্নেয়াস্ত্র আছে তিনটি।
সালাহউদ্দিন আহমদের স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৭ কোটি ৮৩ লাখ ৪৯ হাজার ২৬৭ টাকা। এর মধ্যে ২ কোটি ৯৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৯৭ টাকা দামের ২৪ দশমিক ৩৬ একর কৃষি জমি, ২৫ লাখ ৮৮ হাজার ৮৯৫ টাকা দামের ১ দশমিক ৭৬ একর অকৃষি জমি, পেকুয়ায় ২ কোটি ৮৪ লাখ ৫৩ হাজার ২৫৫ টাকা দামের তিনতলা একটি বাড়ি, ঢাকার গুলশানে ১ কোটি ৬০ লাখ ৩১ হাজার ৭২০ টাকা দামের একটি ফ্ল্যাটবাড়ি, ১৫ লাখ টাকা দামের পেকুয়ায় প্রাণী ও মৎস্য খামার রয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে দাখিল করা আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, সালাহউদ্দিন আহমদের মোট প্রদর্শিত সম্পদের পরিমাণ ১৮ কোটি ২৪ লাখ ৪৪ হাজার ৬২৬ টাকা। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তাঁর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৬ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৭ টাকা। কৃষি খাত থেকে ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, বাণিজ্যিক স্থান থেকে ভাড়া বাবদ ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আয় হয় সালাহউদ্দিন আহমদের। এ ছাড়া প্রাণী ও মৎস্য খামারের ব্যবসা থেকে আয় হয় ৫ লাখ ৫৬ হাজার। চাকরি (কোম্পানির পরিচালক হিসেবে সম্মানী) থেকে আয় ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ ছাড়া অন্যান্য উৎস (জমি বিক্রি থেকে মূলধনি আয়) থেকে ৫ কোটি ৮০ লাখ ২৭ হাজার ৩১১ টাকা। তার দায়ের পরিমাণ ৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
স্ত্রী হাছিনা আহমদের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ২৪ লাখ ৬০ হাজার ৪৪১ টাকা। এর মধ্যে নগদ আছে ৬ লাখ ৭৯ হাজার ১২৭ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ২৬ লাখ ৫ হাজার ৫৩৫ টাকা। কোম্পানির শেয়ার ১৯ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত ১২ লাখ টাকা। রয়েছে ৬৫ লাখ ৩২ হাজার ৮৭৯ টাকা দামের একটি কার ও একটি জিপ গাড়ি। সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর গয়না ২৪ দশমিক ৮ ভরি (উপহারস্বরূপ পাওয়া)।
হাছিনা আহমদের স্থাবর সম্পত্তি দেখানো হয় ৮ কোটি ৯৫ লাখ ৬ হাজার ১৭১ টাকা। এর মধ্যে ৪ কোটি ৩২ লাখ ৯২ হাজার ৪০৭ টাকা দামের ৯ দশমিক ৪৩ একর অকৃষি জমি, ২ কোটি ৫ লাখ ২৯ হাজার ৮৪০ টাকা দামের ১ দশমিক ৩২ একর কৃষি জমি, ২ কোটি ৫৬ লাখ ৮৩ হাজার ৯২৪ টাকার কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে ছয়তলা বিশিষ্ট ভবন দেখানো হয়।








