সারের মজুদ প্রচুর সংকট পরিবহনে

| শনিবার , ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ at ৪:৪২ পূর্বাহ্ণ

বিভিন্ন সার কারখানা এবং গুদামে প্রচুর সার মজুদ থাকলেও পরিবহনজনিত সংকটের কারণে কৃষকের দোরগোড়ায় সার পৌঁছানো কঠিন হয়ে উঠছে। এতে ভর মৌসুমে সারের সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিসিআইসির চেয়ারম্যান দেশব্যাপী প্রতিটি ট্রাকে ১৫ থেকে ২০ টন সার পরিবহনের কঠোর নির্দেশ প্রদান করলেও চট্টগ্রামের সিইউএফএল কারখানা এবং ট্রানজিট গুদামে তা মানা হচ্ছে না। সংঘবদ্ধ একটি চক্রের লাখ লাখ টাকার মাসোহারার কারণে নির্দেশ উপেক্ষিত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে সিইউএফএল কর্তৃপক্ষের দাবি, বিষয়টিতে কোনো সংকট হচ্ছে না।
কৃষিতে বর্তমানে প্রায় ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টন রাসায়নিক সারের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ২৬ লাখ ৫০ হাজার টন ইউরিয়া সার ব্যবহৃত হচ্ছে। পাশাপাশি ৭ লাখ টন টিএসপি, ৭ লাখ টন এমওপি এবং সাড়ে ১৬ লাখ ডিএপি সার ব্যবহার করা হয়। প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকেরা ধারদেনা করে হলেও সময়মতো জমিতে সার দেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন। তবে টাকা দিয়েও সার না পাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশে প্রচুর সার মজুদ থাকলেও পরিবহনজনিত সংকটে প্রান্তিক পর্যায়ে সার নিয়ে সংকট চলছে বলে সূত্রে জানা গেছে।
বিষয়টি নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা হয়। ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় উচ্চ পর্যায়ের সভা। ওই সভায় দেশের সার কারখানাগুলো থেকে সার পরিবহনের সংকট তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, প্রতিটি কারখানা থেকে একটি ট্রাকে ৭ থেকে ৮ টন সার দেয়া হয়। এর পরিবর্তে যদি ১৫ থেকে ২০ টন সার বোঝাই করা হতো তাহলে সার পরিবহনে গতি আসত। ঠিকাদারদের খরচ কমত। কৃষকের হাতে সার পৌঁছানো সহজ হতো।
বিষয়টি সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে আলোচনার পর বিসিআইসির চেয়ারম্যান শাহ এমদাদুল হক গত ১২ সেপ্টেম্বর জরুরি পত্র জারি করেন। এতে প্রতিটি কারখানা ও গুদাম থেকে ৭-৮ টনের পরিবর্তে ১৫ থেকে ২০ টন করে সার পরিবহনের নির্দেশ প্রদান করা হয়। এই নির্দেশনার পর দেশের সার কারখানাগুলো থেকে ১৫-২০ টন করে সার পরিবহন করা হচ্ছে। এই নির্দেশনার আলোকে চট্টগ্রামের বহুজাতিক সার কারখানা কাফকো থেকেও একটি ট্রাকে ১৫-২০ টন সার পরিবহন করা হচ্ছে। কিন্তু বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন কারখানা সিইউএফএল এই নির্দেশনা গতকাল পর্যন্ত বাস্তবায়ন করেনি। সিইউএফএলের পাশাপাশি কালুরঘাট ট্রানজিট গুদাম থেকেও ট্রাকে ১৫-২০ টন সার পরিবহন করতে দেয়া হচ্ছে না। কাফকো থেকে দৈনিক ২ হাজার টন থেকে ২২শ টন, সিইউএফএল থেকে ১ হাজার থেকে ১২শ টন এবং ট্রানজিট গুদাম থেকে ১ হাজার টন সার দেশের নানা অঞ্চলে পরিবাহিত হয়।
বর্তমানে সিইইউএফএল ও ট্রানজিট গুদামের ভিতর থেকে একটি ট্রাকে ৭-৮ টন সার বোঝাই করে গেটের বাইরে এসে অবস্থান করে। পরে গেটের বাইরে দুই-তিন ট্রাকের সার আবার নতুন করে অন্য ট্রাকে লোড করা হয়। এরপর ২০-২২ টন সার নিয়ে একেকটি ট্রাক গন্তব্যে যাতায়াত করে। পরিবহন ঠিকাদারের অনিচ্ছার কারণে সরাসরি ১৫-২০ টন সার পরিবহন সম্ভব হচ্ছে না বলে সূত্র জানিয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সার পরিবহনে দ্বিগুণ ট্রাক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি ভাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে খরচ বাড়ছে। দ্বিগুণ ট্রাকের সংস্থান করাও কঠিন হয়ে ওঠে। এতে পরিবহন নেটওয়ার্ক ব্যাহত হচ্ছে।
অভিযোগ করা হয়েছে, সিইউএফএল কারখানার একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা, পরিবহন ঠিকাদার ও ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশনসহ সংঘবদ্ধ একটি চক্র সার পরিবহন খাতকে জিম্মি করে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি করে। এই টাকা মাসিক ভিত্তিতে গুটিকয়েক মানুষের মধ্যে ভাগ হয়। প্রতি মাসে গড়ে ৩০ লাখ টাকার মতো চাঁদাবাজি হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। চাঁদাবাজি বহাল রাখার জন্যই বিসিআইসির চেয়ারম্যান নির্দেশ দেয়ার পরও ট্রাকে বাড়তি সার বোঝাই করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সিইউএফএল কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান কারখানা ও গুদাম থেকে কম সার পরিবহনের কথা স্বীকার করে গত রাতে বলেন, আমরা পরিবহন ঠিকাদারকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তিনি এখনো তা বাস্তবায়ন করছেন না। নতুন এই নির্দেশনা আসার অনেক আগেই পরিবহন ঠিকাদারের সাথে চুক্তি করেছি। বর্তমানে ওই চুক্তির আওতায় সার পরিবহন করা হচ্ছে। নতুন করে চুক্তি না করা পর্যন্ত বিদ্যমান চুক্তি লংঘন করা যাচ্ছে না। আগামী জানুয়ারিতে নতুন করে চুক্তি করার সময় বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, সার পরিবহনের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সংকট হওয়ার কারণ নেই। পর্যাপ্ত সারের মজুদ রয়েছে। প্রতিদিনই সার পরিবাহিত হচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধযুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়াতে মার্কিন অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে : প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধমীরসরাইয়ে নানা কৌশলে কাটা হচ্ছে পাহাড়