গ্রীষ্মের গরমে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) এখন কারও কারও জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। অফিসে আট–নয় ঘণ্টা, বাসায় ফিরেও বেশিরভাগ সময় এসির ঠাণ্ডা ঘরে কাটানো– এই অভ্যাস অনেকেরই নিত্যদিনের। তবে এই আরামের আড়ালে লুকিয়ে থাকছে এক নীরব ঝুঁকি। দীর্ঘ সময় এসিতে থাকলে শরীরের ক্যালরি পোড়ানোর হার কমে যায়, বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে পড়ে এবং ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। খবর বিডিনিউজের।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, ‘এসির ঠাণ্ডা পরিবেশে শরীর কম নড়াচড়া করে এবং অলস হয়ে যায়। ফলে ক্যালরি খরচ কম হয় এবং চর্বি জমার প্রবণতা বাড়ে।’
শরীর স্বাভাবিকভাবে বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেয়। গরমে ঘাম ঝরিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং এতে ক্যালরিও খরচ হয়। তবে সারাদিন এসির ঠাণ্ডা পরিবেশে থাকলে শরীরের এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলে বিপাকীয় হার ধীরে ধীরে কমে যায়। শরীর কম সক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি বসে থাকা বেশি হয় এবং ধীরে ধীরে চর্বি জমতে শুরু করে।
ডা. নয়ন আরও বলেন, ‘এসিতে থাকলে মানুষ স্বাভাবিকভাবে কম পানি পান করে। আর নড়াচড়াও করে কম। এতে শরীরের আর্দ্রতা কমে যায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় এসিতে থাকলে শুধু ওজন বাড়ার ঝুঁকি নয়, আরও নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসির শুষ্ক বাতাস ত্বক রুক্ষ করে, চোখ শুষ্ক হয় এবং শ্বাসযন্ত্রে সমস্যা তৈরি করে। অনেকের ঘাড়–কাঁধে ব্যথা, পিঠে টান বা হাড়ের জোড়ায় ব্যথা দেখা দেয়। অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যেতে পারে।’
এসি ব্যবহার করতেই হলে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলতে হবে– এসির তাপমাত্রা ২৫–২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখতে হবে। প্রতি ঘণ্টায় অন্তত একবার উঠে হাঁটা বা হালকা ‘স্ট্রেচিং’ করার অভ্যাস গড়তে হবে। দিনে অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটির অভ্যাস গড়ে তোলা উপকারী হবে। প্রচুর পানি পান করার পাশাপাশি ফল–সবজি বেশি খেতে হবে।
ডা. আফসানা হক নয়নের পরামর্শ, ‘এসি খুব বেশি ঠাণ্ডা না করে মাঝারি তাপমাত্রায় রাখুন। ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। নিয়মিত ঘুম ও ব্যায়ামের অভ্যাস বজায় রাখুন।’














