সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন গ্রেপ্তার, হত্যাচেষ্টা মামলায় কারাগারে

| বুধবার , ৮ এপ্রিল, ২০২৬ at ৬:১২ পূর্বাহ্ণ

জুলাই আন্দোলনের সময়ের আশরাফুল হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। এ মামলায় তাকে দুদিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ। অন্যদিকে শিরীন শারমিনের পক্ষে জামিনের আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী।

রাষ্ট্রপক্ষে ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। শিরীন শারমিন চৌধুরীর পক্ষে আইনজীবী ইবনুল কাওসার ও এবিএম হামিদুল মেজবাহ রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিন চান। গতকাল মঙ্গলবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আবেদন দুটি নাকচ করে শিরীন শারমিনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। খবর বিডিনিউজের।

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দৃশ্যপটে ছিলেন না শিরীন শারমিন। গতকাল ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ধানমন্ডির ৮/এ রোডের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। দুপুর ২টার দিকে তাকে আদালতে হাজির করে আশরাফুল হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুদিনের রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের লালবাগ জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন। অন্যদিকে শিরীন শারমিনের আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, মামলার ১ নম্বর আসামি শেখ হাসিনা ও ৩ নম্বর আসামি শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ অন্যরা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে কুশীলব ছিলেন। তাদের সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনায় পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ নির্দেশে সশস্ত্র মামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি তার নামঠিকানা এবং মামলার তদন্ত সহায়ক গুরত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাকে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদিন রিমান্ডে নেওয়ার আর্জি জানানো হয় ওই আবেদনে।

মামলার বিবরণে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকালে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলন চলছিল। সেখানে দেশিবিদেশি অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালানো হয়। একটি গুলি আশরাফুল ওরফে ফাহিমের চোখে লাগে। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ মে শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ এবং অচেনা ১১৫১২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন আশরাফুল।

শুনানিতে আইনজীবীদের হট্টগোল : ঢাকার আদালতে শিরীন শারমিন চৌধুরীর রিমান্ড শুনানি শেষে আইনজীবীদের কারণে বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। বেশ কিছুক্ষণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে বিচারক সাংবাদিকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের এজলাস কক্ষ থেকে বের করে দেন। গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে এ ঘটনা ঘটে।

আসামিপক্ষের আইনজীবীদের হৈচৈ শুরুর আগে আদালত সাবেক স্পিকারকে জিজ্ঞাসাবাদে দুদিনের রিমান্ড আদেশ নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

হুড়োহুড়িতে সিঁড়িতে পড়ে চিৎকার : আদালত থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় হুড়োহুড়িতে পড়ে গেছেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। পড়লেন কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্যও। ৬০ বছর বয়সি শিরীন ব্যথায় চিৎকার দেওয়ার পরপরই তাকে দ্রুত টেনে তুলেন পুলিশ সদস্যরা। গতকাল রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচের পর ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতের সিঁড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির শীর্ষ নেতাদের প্রায় সবাই আত্মগোপনে চলে যান। সাবেক মন্ত্রীএমপিদের কেউ কেউ গ্রেপ্তার হন। তবে শিরীন শারমিন চৌধুরী আর প্রকাশ্যে আসেননি। ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানেও তিনি যাননি।

২০২৪ সালের আগস্ট রংপুরে শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে এক স্বর্ণকারিগর গুলিতে নিহতের ঘটনায় ওই মামলা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরদিন সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে দেওয়া হলেও স্পিকারের পদ তাৎক্ষণিভাবে শূন্য হয় না। পরবর্তী স্পিকারের শপথ পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থেকে যান। তবে সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ২৭ দিনের মাথায় ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন। ওই বছর নভেম্বরে পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের এক বার্তায় বলা হয়, শিরীন শারমিন চৌধুরী সাধারণ পাসপোর্টের জন্য যে আবেদন করেছেন তার কার্যক্রম মামলার কারণে স্থগিত রাখা হয়েছে। তার কূটনৈতিক পাসপোর্টটি অন্যদের কূটনৈতিক পাসপোর্টের মতো আগেই বাতিল করা হয়েছে এবং তাকে নতুন কোনো পাসপোর্ট দেওয়া হয়নি।

চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের সময় আবার শিরীন শারমিনের অনুপস্থিতির বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে এবারও তিনি সামনে আসেননি। নতুন এমপিদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচাক্তাই খালে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে প্রাণ গেল শিশুর
পরবর্তী নিবন্ধ১৪ দিনের ব্যবধানে ফের জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল, অভ্যন্তরীণ রুটে বৃদ্ধি ১২%