সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৩ পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

চানখাঁরপুলে ৬ হত্যা

| মঙ্গলবার , ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৬:২৩ পূর্বাহ্ণ

জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্যে রাজধানীর চাঁনখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

সর্বোচ্চ সাজার আদেশ পাওয়া বাকি দুজন হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম। এ মামলার আট আসামির মধ্যে রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ৬ বছরের কারাদণ্ড; শাহবাগ থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক আরশাদ হোসেনকে ৪ বছরের কারাদণ্ড এবং ওই থানার তিন পুলিশ কনস্টেবল মো. সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলামকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল১ এ গতকাল সোমবার এ রায় ঘোষণা করে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। গ্রেপ্তার চার আসামি আরশাদ, সুজন, ইমন ও নাসিরুলকে রায়ের সময় আদালতে হাজির করা হয়। বাকি চার আসামিকে পলাতক দেখিয়ে এ মামলার বিচার কাজ চলে। বেলা ১১টা ২৭ মিনিটে গ্রেপ্তার চার আসামিকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। ১১টা ৪৭ মিনিটে বিচারকরা এজলাসে ওঠেন এবং ১১টা ৫০ মিনিটে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার রায় পড়া শুরু করেন। রায় ঘোষণার সময় প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিমসহ অন্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন। আসামিদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আবুল হোসেন, সিফাত হোসেন ও সাদ্দাম হোসেন অভি। পরে প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরীর চানখাঁরপুল এলাকায় বাংলাদেশের মুক্তিকামী ছাত্রজনতা যখন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য অগ্রসর হচ্ছিল, সেই সময়ে পুলিশ সেই জায়গায় নির্বিচার গুলি করে ৬ জনকে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে শাহরিয়ার খান আনাস, জুনায়েদসহ ৬ জন রয়েছেন। এ ঘটনার মামলা হয়েছিল। কমান্ড রেসপন্সিবিলিটিতে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুনের শাস্তি হয়েছে আগে। বাকি অংশে যারা গ্রাউন্ডে কাজ করেছিল তাদের বিচারের জন্য আজকে এই মামলাটি ছিল। সেই মামলাতে আজকে আদালত যেটা বলেছেন যে, এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ হয়েছে। তারা ক্রাইমস এগেইনস্ট হিউম্যানিটি করেছেন, সেটা প্রমাণিত হয়েছে।

তাজুল বলেন, এসি ইমরুল, ইন্সপেক্টর আরশাদ এবং বাকি তিনজন কনস্টেবল, যারা সরাসরি ফিল্ডে থেকে গুলিবর্ষণ করেছিল, যাদের গুলি বর্ষণ করতে ভিডিওতে দেখা গেছে, যাদের নামে অস্ত্র ইস্যু ছিল না, অথচ তারা অন্যদের রাইফেল নিয়ে গুলি করেছেতাদেরকে কম সাজা দেওয়া হয়েছে। একজনকে ৬ বছর, একজন ৪ বছর, বাকি তিনজন কনস্টেবলকে ৩ বছর করে সাজা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আদালতে যখন তাদের অফেন্স প্রমাণিত হয়েছে, ক্রাইমস এগেইনস্ট হিউম্যানিটি প্রমাণিত হয়েছে, ওয়াইড স্প্রেড এবং সিস্টেমেটিক অ্যাটাক প্রমাণিত হয়েছে এবং এই আসামিরা তারা প্রকাশ্যে গুলি করেছিল সেটা প্রমাণিত হয়েছে। এরপরে তাদেরকে যে সাজা দেওয়া হয়েছে, আমরা মনে করি এটা ন্যায়সঙ্গত হয়নি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসরকারের অন্যায় আদেশ পালনে রাষ্ট্রের কর্মী বাধ্য নন : তাজুল ইসলাম
পরবর্তী নিবন্ধ৮ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে দক্ষিণ কোরীয় কোম্পানি