আড়াই বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার তানজিদ হাসানের। ওয়ানডে ও টি–টোয়েন্টি মিলে ৭৫ ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে। পঞ্চাশের ছোঁয়া পেয়েছেন ১৬ বার। কিন্তু কোনোটিই নিতে পারেননি তিন অঙ্কের ঘরে। একজন টপ অর্ডার ব্যাটারের জন্য বিব্রতকর অভিজ্ঞতা বটে। অবশেষে সেই সেঞ্চুরির খরা ঘোচালেন তানজিদ। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ওয়ানডেতে ১০৭ বলে ১০৭ রানের ইনিংস উপহার দেন তানজিদ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরিতে তিনি চার মেরেছেন ৬টি, ছক্কা ৭টি। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সবচেয়ে বেশি ছক্কার কীর্তি এটি। মিরপুর শের–ই–বাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডও এটিই। ওয়ানডেতে সব মিলিয়ে বাংলাদেশের কোনো ওপেনারের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড একটুর জন্য ছুঁতে পারেননি তানজিদ। ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৭৬ রানের ইনিংসে লিটন কুমার দাস ছক্কা মেরেছিলেন ৮টি। এই সিরিজের প্রথম ম্যাচেও দুর্দান্ত ব্যাট করেছেন তানজিদ। সেদিন মাত্র ১১৫ রানের লক্ষ্যেই ৫ ছক্কায় ৪২ বলে ৬৭ রানে অপরাজিত রয়ে যান তিনি। পরের ম্যাচে ভালো করতে পারেননি। সামর্থ্যের সেরা চেহারা মেলে ধরলেন তিনি গতকাল রোববার। তার এই শতরানে বাংলাদেশ ক্রিকেটের একটি খরাও কেটে গেল। প্রায় ২৭ মাস ও ২৩ ম্যাচ পর এই সংস্করণে সেঞ্চুরি পেলেন বাংলাদেশের কোনো ওপেনার। সবশেষটি ছিল ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সৌম্য সরকারে ১৬৯। ম্যাচের শুরু থেকেই তার ব্যাট থেকে ঠিকরে বেরিয়েছে আত্মবিশ্বাসের ঝিলিক। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই হারিস রউফকে চার ও ছক্কা মারেন তিনি। একটু পর রউফকেই আরেকটি ছক্কা মারেন চোখধাঁধানো আপার কাটে। সেই পথ ধরে এগিয়েই পঞ্চাশে পা রাখেন তিনি ৪৭ বলে। তার সঙ্গী সাইফ হাসান অবশ্য স্বস্তিতে খেলতে পারছিলেন না। তানজিদের সৌজন্যে তবু শতরানের জুটি গড়ে ওঠে। দ্বিতীয় উইকেটে অর্ধশত রানের জুটি গড়েন নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে। তানজিদ একই গতিতে খেলে এগিয়ে যান শতরানের দিকে। ৯৪ থেকে সালমান আলি আগার বলে লং অফের ওপর দিয়ে ওই ছক্কায় পেয়ে যান প্রথম শতরানের অনির্বচনীয় স্বাদ। শতরান ছোঁয়ার পরও বাকি ছিল ১৭ ওভার। কিন্তু তিনি আর ইনিংস টানতে পারেননি বেশিক্ষণ। আবরার আহমেদের বলে আলগা শটে হারান উইকেট।












