সাত ইউনিয়ন নিয়ে মাতামুহুরী উপজেলা গঠনপ্রক্রিয়া শুরু

বাস্তবায়নের পথে পেকুয়া পৌরসভা ও নতুন তিন ইউনিয়ন

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া | শনিবার , ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৮:০৭ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের চকরিয়ার উপকূলীয় সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন করে ‘মাতামুহুরী উপজেলা’, নতুন করে আরও তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ সৃষ্টি এবং পেকুয়া সদর ইউনিয়নকে পৌরসভায় রূপান্তরের জনদাবি ছিল দীর্ঘদিনের। সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী সরকার দলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্বাচনী ইশতেহারেও সেই দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। অবশেষে সেই জনদাবি পূরণ হতে চলেছে। এতে এসব এলাকার মানুষের মাঝে খুশির আমেজ পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এরই অংশ হিসেবে চকরিয়া উপজেলার উপকূলীয় সাতটি ইউনিয়ন তথা সাহারবিল, পশ্চিম বড় ভেওলা, পূর্ব বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, বিএমচর ও বদরখালী নিয়ে প্রস্তাবিত মাতামুহুরী উপজেলা এবং বর্তমান বিদ্যমান বরইতলী ইউনিয়ন ভেঙে নতুন করে পহরচাঁদা, হারবাং ইউনিয়ন ভেঙে উত্তর হারবাং এবং ডুলাহাজারা ইউনিয়ন ভেঙে নতুন করে মালুমঘাট ইউনিয়ন এবং পেকুয়া উপজেলার পেকুয়া সদর ইউনিয়নকে পৌরসভায় রূপান্তর করার প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রশাসনিক কার্যক্রমও অনেকটা সম্পন্ন করা হয়েছে।

এই বিষয়ে মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার শোয়াইবুল ইসলাম দৈনিক আজাদীকে জানান, ২০০১ সালে যখন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় ছিল তখন আমাদের এমপি সালাহউদ্দিন আহমদ ছিলেন যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী। ওই সময়েই চকরিয়ার উপকূলীয় সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন করে মাতামুহুরী উপজেলা বাস্তবায়ন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর থেকে রাজনৈতিক দলগুলো মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা হিসেবে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে। কিন্তু পরবর্তীতে বিএনপি ক্ষমতা থেকে চলে গেলে মাতামুহুরী উপজেলা বাস্তবায়ন ওখানেই থেমে থাকে।

তারা বলেন, সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও আমাদের এমপি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা দেন বিএনপি সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যেই মাতামুহুরী উপজেলা, চকরিয়ায় নতুন করে তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ সৃষ্টি এবং পেকুয়া সদরকে পেকুয়া পৌরসভায় রূপান্তর করার। অবশেষে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মধ্য দিয়ে সরকারি সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রশাসনিক কর্মতৎপরতা শুরু করা হয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চকরিয়া উপজেলার বর্তমান ১৮টি ইউনিয়ন থেকে উপকূলীয় ৭টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে প্রস্তাবিত মাতামুহুরী উপজেলা গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে প্রশাসনিক এলাকা নির্ধারণ ও সার্বিক নিরীক্ষার অংশ হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে ইতোমধ্যে।

প্রস্তাবিত মাতামুহুরী উপজেলার উপকূলীয় সাতটি ইউনিয়নের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় তিন লাখ। ইউনিয়নগুলোতে ২৮৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মাতামুহুরী নদী প্রবাহিত হয়েছে। মূলত এই নদীর নামেই নতুন উপজেলাটির নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, মাতামুহুরী উপজেলা গঠন দীর্ঘদিনের জনদাবি। প্রশাসনিক তৎপরতার অংশ হিসেবে তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি চকরিয়া উপজেলায় নতুন তিনটি ইউনিয়ন সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সমন্বয় সভায় অংশ নেওয়া কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী দৈনিক আজাদীকে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নির্বাচনী ওয়াদার অংশ হিসেবে বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম সপ্তাহেই মাতামুহুরী উপজেলা তৈরির প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। আমরা আশা করছিসরকারের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) প্রথম সভাতেই মাতামুহুরী উপজেলা অনুমোদিত হবে।

কক্সবাজার(চকরিয়াপেকুয়া) আসনে চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বর্তমান সরকারের স্বরাষ্টমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম জানান, ২০০১ সালে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে তৎকালীন বৃহত্তর চকরিয়া উপজেলার ২৫টি ইউনিয়ন থেকে আলাদা করে সাতটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে পেকুয়া উপজেলা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন সালাহউদ্দিন আহমদ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া মাতামুহুরী উপজেলা বাস্তবায়ন এবং চকরিয়ায় নতুন তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিষ্ঠার কাজও শুরু করা হয়েছে। একইসাথে পেকুয়া সদর ইউনিয়নকে পেকুয়া পৌরসভায় রূপান্তরের প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছে। এতে বিগত ২৫ বছর ধরে লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে চলেছে নির্বাচনী এলাকার মানুষের।

ছফওয়ানুল করিম দৈনিক আজাদীকে বলেন, সালাহউদ্দিন আহমদ যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন। জনগণের ভালবাসায় দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির চেয়েও তিনি এতদঞ্চলের জন্য বেশি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করে যাবেন।

প্রসঙ্গত, দেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত কক্সবাজার জেলায় বর্তমানে ৯টি উপজেলা রয়েছে। মাতামুহুরী উপজেলা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পেলে পর্যটন জেলা কক্সবাজারের উপজেলার সংখ্যা হবে ১০টি। চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার ২৫টি ইউনিয়ন এবং চকরিয়া পৌরসভা সমন্বয়ে কক্সবাজার১ নির্বাচনী এলাকা। আগামীতে মাতামুহুরী উপজেলা, নতুন তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠন এবং পেকুয়াকে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণসহ সরকারিবেসরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএক বছরে ৬০ প্রাণহানি
পরবর্তী নিবন্ধদুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাত, সাগরিকায় যুবক খুন