সাতকানিয়ায় বস্তায় আদা চাষে উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অল্প খরচে বস্তায় মসলা জাতীয় ফসল আদা চাষ করে লাভবান হচ্ছে কৃষক। বাড়ির আঙিনায়, বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছ বাগানের ছায়াযুক্ত স্থানে, ঘরের ছাদে, সড়কের পাশে ও পতিত জমিতে সহজে বস্তায় আদা চাষ করা যায়। যেকোন ধরনের বস্তায় আদা চাষে কম খরচে মাটি প্রস্তুত, সেচ সুবিধা ও আগাছা দমন করা যায়। এ পদ্ধতিতে আদা চাষ করতে আবাদযোগ্য জমির প্রয়োজন হয় না। জমিতে আদা চাষের তুলনায় বস্তায় খুব সহজে পরিচর্যা করা যায়। বস্তায় আদা চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছেন, বস্তায় আদা চাষ করে পারিবারিক চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ রয়েছে। অভিনব এ পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে আদা চাষ করে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, বস্তায় আদা চাষ একটি নতুন চাষাবাদ পদ্ধতি। বস্তায় আদা চাষ করতে আলাদাভাবে আবাদযোগ্য জমির প্রয়োজন হয় না। বসতঘরের আশপাশে, রাস্তার ধারে, বিভিন্ন ধরনের গাছ বাগানের নিচে ছায়াযুক্ত স্থানে, পতিত জমিতে ও পাকা ঘরের ছাদে বস্তায় আদা চাষ করা যায়। সিমেন্টের বা যেকোন ধরনের বস্তায় জৈব সার, মাটি, রাসায়নিক সার, ছত্রাকনাশকসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ মিশিয়ে বীজ রোপণ করতে হয়। বীজ রোপণের পর আদা উত্তোলন পর্যন্ত তেমন কোনো কাজ করতে হয় না। বস্তায় আদা চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধার দিক হলো অতিবৃষ্টি ও বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রয়োজন পড়লে বস্তাগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেয়া যায়। সঠিকভাবে পরিচর্যা পেলে প্রতি বস্তায় ২ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত আদা উৎপাদন সম্ভব।
তিনি জানান, এ বছর সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ইফনাফ প্রকল্পের আওতায় ২৫টি প্রদর্শনীর মাধ্যমে ৭৫০টি বস্তায় আদা চাষ করা হয়েছে। প্রতি প্রদর্শনীর কৃষকদেরকে বিনামূল্যে বস্তা, বীজ আদা, কেঁচো কম্পোস্ট, রাসায়নিক সার, ট্রাইকোডর্মা পাউডার, ছত্রাকনাশক ও অন্যান্য উপকরণ দেয়া হয়েছে। এছাড়া কৃষকদেরকে উদ্ধুব্ধকরনের মাধ্যমে ৩ হাজার ৫০০ বস্তায় আদা চাষ করা হয়েছে। আগামীতে পুরো সাতকানিয়ায় বস্তায় আদা চাষ পদ্ধতিকে ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। শুধুমাত্র ৪–৫টি বস্তায় আদা চাষ করে সঠিক ভাবে পরিচর্যা করলে উৎপাদিত আদা সংরক্ষণ করে পুরো বছরের পারিবারিক চাহিদা মিটাতে পারবে।
ছাদাহার খোর্দ কেঁওচিয়া এলাকার উপ–সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আয়ুব আলী জানান, খোর্দ কেঁওচিয়া এলাকায় ৫ জনকে প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে। প্রদর্শনীর দেড় শত বস্তা ছাড়াও কৃষকদেরকে উদ্ধুদ্ধকরণের মাধ্যমে ২০০ বস্তায় আদা চাষ করা হয়েছে। বস্তায় চাষ করা আদার ফলন খুব ভাল হয়েছে। ফলে কৃষকরা আগামীতে আরো অধিক হারে বস্তায় আদা চাষের আগ্রহ দেখাচ্ছে।
সাতকানিয়ার ছাদাহা ইউনিয়নের ম্যধম আজিমপুরের মো. ইসলাম বলেন, আমি বাড়ির পাশের কলা বাগানের ভেতর ৬০টি বস্তায় আদা চাষ করেছি। আমাকে সরকারিভাবে বস্তা, জৈব সার, রাসায়নিক সার ও ছত্রাকনাশকসহ প্রয়োজনীয় সব উপকরণ দিয়েছে। কলাবাগানের ভেতর সাথী ফসল হিসেবে বস্তায় করা আদার ভাল ফলন হয়েছে। প্রতি বস্তায় ১ থেকে দেড় কেজি আদা উৎপাদন হয়েছে। আগামী বছর আমি ২০০ বস্তায় আদা চাষ করবো। ছদাহা ছহির পাড়ার ছেনোয়ারা বেগম জানান, বাড়ির চার পাশে বিভিন্ন ফলজ গাছের ছায়াযুক্ত স্থান সারা বছর খালি পড়ে থাকতো। উপ–সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আয়ুব আলীর পরামর্শে গত বছর বস্তায় আদা চাষ করেছি। বীজ রোপণের পর থেকে তেমন কোন পরিচর্যাও দরকার হয়নি। কয়েকদিন আগে বস্তা ভে েঙ আদা উত্তোলন করেছি। প্রতি বস্তায় সর্বনিম্ন এক কেজি ও সর্বোচ্চ ১ কেজি ৪০০ গ্রাম আদা পাওয়া গেছে। এ বছর আমি আরো অধিক সংখ্যাক বস্তায় আদা চাষ করবো। এ পদ্ধতিতে আদা চাষ করতে আলাদাভাবে কোন জমির প্রয়োজন পড়ে না। বাড়ির আঙিনায় পড়ে থাকা ছায়াযুক্ত স্থানে করতে পারবো। এ বছর আমি কমপক্ষে ২৫০ বস্তায় আদা চাষ করবো।
ছদাহা রোয়াজির পাড়ার জালাল আহমদ জানান, আমি চট্টগ্রাম–কঙবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া অংশের মিঠাদিঘী এলাকায় সড়কের পাশে পতিত জায়গায় ৩০টি বস্তায় আদা চাষ করেছিলাম। প্রতি বস্তায় দেড় কেজির উপর আদা পাওয়া গেছে। কিছু সংরক্ষণ করেছি বাকীগুলো বিক্রি করে দিয়েছি। আগামীতে আরো অধিক সংখ্যাক বস্তায় আদা চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।












