দীর্ঘদিনের কর্মব্যস্ততার কারণে স্বজনদের সঙ্গে দেখা হচ্ছিল না। তাই স্বজনরা মিলে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়ে আনন্দে মেতে থাকার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পথেই শেষ সব আয়োজন। চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই ঝরে গেল ৫ তাজা প্রাণ। নিহতরা সবাই পরস্পরের স্বজন। তাদের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার ফালগুনকরা এলাকায়। নিহতরা হলেন উদয় পাটোয়ারীর স্ত্রী ফারজানা মজুমদার লিজা, শাশুড়ি রিজওয়ানা মজুমদার শিল্পী, শ্যালিকা ফারহানা মজুমদার টিজা, মা রুমি বেগম এবং বোন সাদিয়া পাটোয়ারী।
পরিবার সূত্র জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী মঙ্গলবার রাতে ঢাকার উত্তরা বাসা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ভাড়া করা মাইক্রোবাসে করে রওনা দেন উদয় পাটোয়ারী (৪৩), তার মা রুমি বেগম (৬৫) ও বোন সাদিয়া আক্তার পাটোয়ারী (২৪)। উদয় পাটোয়ারী ঢাকা বিমানবন্দরে চাকরি করেন। পথে চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার ফালগুনকরা থেকে রাত সাড়ে ৩টায় উদয়ের স্ত্রী ফারজানা মজুমদার লিজা (২৮), ছেলে সামাদ পাটোয়ারী (৪), শাশুড়ি রিজওয়ানা মজুমদার শিল্পী (৫৫), শালী ফারহানা মজুমদার টিজা (২৫), শ্যালক শাহেদ মজুমদার লিশান (২২)-কে নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন।
পথিমধ্যে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালীর ইউনিয়নের সেগুন বাগান এলাকায় বিপরীত থেকে আসা মারছা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসের (নোয়া) সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন পাঁচজন।
উদয়ের শ্বশুর আবদুল মন্নান মজুমদার বলেন, আমার মেয়ে ফারজানা মজুমদার লিজা কয়েক দিন আগে বেড়াতে আসে। দীর্ঘদিন ধরে কর্মব্যস্ততার কারণে স্বজনদের সঙ্গে উদয়ের দেখা হচ্ছিল না। তাই তারা উদ্যোগ নেয় কক্সবাজারে আনন্দ ভ্রমণে যাওয়ার। কিন্তু ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের কক্সবাজার ভ্রমণ তো হয়নি, উপরন্তু দুনিয়া থেকে চিরবিদায় নিয়েছে।












