শেষ হয়েছে বর্ষাকাল। ঋতুচক্রে চলছে শরৎকাল। কিন্তু প্রকৃতিতে এখনো রয়েছে বর্ষার আমেজ। কখনো বিরতিহীন, কখনো বা থেমে থেমে হচ্ছে বৃষ্টি। সাগরে সৃষ্টি হয়েছে লঘুচাপ। এর প্রভাবে গত শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত প্রায় একটানা অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে নগরে। এছাড়া গতকাল শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি হয়। সন্ধ্যার পরও এ ধারা অব্যাহত ছিল। আবহাওয়া অফিস আগামী তিনদিন এ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়। এছাড়া চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নগরে ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া আমবাগান পর্যবেক্ষণাগার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড করে ৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। এদিকে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ ১৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে সন্দ্বীপ উপজেলায়। একই সময়ে সীতাকুণ্ডে রেকর্ড হয় ১৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত।
পতেঙ্গা পূর্বাভাস কর্মকর্তা মো. আবদুল বারেক জানান, আজ রোববার চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহে অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ অধিকাংশ জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। আগামীকালও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। অতিভারী বর্ষণের ফলে কোথাও কোথাও ভূমিধসের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ–বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমী বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশ হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামীকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় বৃষ্টিপাত হতে পারে।












