সাগরে গ্যাস উত্তোলনে জোর দিয়ে ২৫ বছরের মহাপরিকল্পনা

| বৃহস্পতিবার , ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৫:০০ পূর্বাহ্ণ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য ২০২৬২০৫০ মেয়াদের মহাপরিকল্পনা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তুলে ধরেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়। দেশি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দক্ষতা বাড়ানো ও পরিবেশগত দায়বদ্ধতার মাধ্যমে দেশের সব মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও টেকসই প্রাথমিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। এর মধ্যে ২০২৬ থেকে ২০৩০ পর্যন্ত ‘ফার্স্ট ট্র্যাক প্রায়োরিটি’ প্রকল্প হিসেবে অফশোর অনুসন্ধান রাউন্ড, গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, এলএনজি সরবরাহ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পরিশোধন সক্ষমতা সমপ্রসারণ এবং কৌশলগত জ্বালানি মজুদ সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে অফশোর গ্যাস উন্নয়ন, বৃহৎ পরিসরে রিফাইনিং ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প সমপ্রসারণ, হাইড্রোজেন ও অ্যামোনিয়া অবকাঠামো উন্নয়ন, ভূতাপীয় (জিওথার্মাল) শক্তি এবং জোয়ারভাটা ও সমুদ্র তরঙ্গভিত্তিক শক্তি উন্নয়ন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে গতকাল বুধবার দুপুরে ২৫ বছরের এই মহাপরিকল্পনা সংক্রান্ত সভা হয়েছে। শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার বিস্তারিত তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর। খবর বিডিনিউজের।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় প্রধান উপদেষ্টা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংক্রান্ত গবেষণার জন্য একটি পৃথক ও স্বতন্ত্র ইনস্টিটিউশন গঠনের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের আলাদা ইনস্টিটিউট হতে হবে। এটা মন্ত্রণালয়ের অধীনে হলে চলবে না। এটি একটি আলাদা শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হবে, যা পৃথিবীতে এ সম্পর্কিত যত সংস্থা আছে সবকটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে এবং পলিসি তৈরিতে সরকারকে সাহায্য করবে। অতীতে ‘যা হয়েছে’ সবই ‘খাপছাড়া’ বলে মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, একদম শুরু থেকে চিন্তা করতে হবে। একরকমভাবে হয়ে আসছে সেজন্য সেই পথেই যেতে হবে, এমন কোনো কথা নেই।

অনেককিছু ভুল লোকেশনে, ভুল স্ট্রাকচারে হয়েছে। এমনটা যেন আর না ঘটতে পারে। একটা কাঠামো, নিয়মের মধ্যে যেন থাকে সেটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। সেজন্য গবেষণাকেন্দ্র জরুরি। সভায় আগের তিনটি মহাপরিকল্পনার ‘নীতিগত ঘাটতি’ (পলিসি গ্যাপ) চিহ্নিত করে তা সংক্ষেপে পর্যালোচনা করা হয়। নতুন মহাপরিকল্পনা তিন ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথম ধাপ ২০২৬২০৩০, দ্বিতীয় ধাপ ২০৩২০৪০ এবং তৃতীয় ধাপ ২০৪০২০৫০ সালকে ধরা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধযাত্রীর ব্যাগেজে মিলল ২১ লাখ টাকার বেশি স্বর্ণ
পরবর্তী নিবন্ধসারা শহর খুঁজেও মিলছে না এলপিজি সিলিন্ডার