সাউথ জোন,নর্থ জোনের জয়লাভ

বিসিএলে আফিফ ও আকবর আলীর সেঞ্চুরি

স্পোর্টস ডেস্ক | মঙ্গলবার , ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ

বিসিএলের ওয়ানডে আসরের উদ্বোধনী দিনেই দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে সাউথ জোন। আরেক ম্যাচে নর্থ জোনও জয় পেয়েছে। আফিফ হোসেনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং মোহাম্মদ মিঠুনের ঝোড়ো ফিফটিতে ভর করে ২৬৫ রানের লক্ষ্যটা অনায়াসেই পেরিয়ে যায় সাউথ জোন। সেন্ট্রাল জোনের দেওয়া মাঝারি মানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সাউথ জোনের জয় আসে ৭ উইকেট হাতে রেখেই। রাজশাহীতে সোমবার টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন সাউথ জোন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সেন্ট্রাল জোনের দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও নাঈম শেখ শুরুটা মোটামুটি করলেও দলীয় ৩৪ রানে সাইফ (১৯) বিদায় নেন। এরপর নাঈম শেখ ও মাহফিজুল ইসলাম রবিনের ৯৩ রানের জুটি বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। দুজনেই দেখা পান হাফসেঞ্চুরির; নাঈম ৬৯ এবং রবিন ৬৩ রান করেন। শেষ দিকে অধিনায়ক মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের ৬৭ ও ইরফান শুক্কুরের ২৫ রানে ভর করে ৭ উইকেটে ২৬৪ রানের লড়াকু স্কোর গড়ে সেন্ট্রাল জোন। সাউথ জোনের হয়ে তানভীর ইসলাম ও সৌম্য সরকার ২টি করে উইকেট শিকার করেন। মোস্তাফিজুর রহমান ১০ ওভারে ৩ মেডেনসহ ৪৪ রান দিলেও কোনো উইকেট পাননি।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে সাউথ জোনের শুরুটা ভালো ছিল না। সৌম্য সরকার দ্রুত বিদায় নিলেও আনিসুল ইসলাম (৪৩) ও জাওয়াদ আবরার (৪০) প্রাথমিক ধাক্কা সামলে নেন। তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন আফিফ হোসেন ও মোহাম্মদ মিঠুন। ১০৮ রানে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার মিলে ১৫৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন। আফিফ হোসেন মাত্র ৮৬ বলে ৮টি চার ও ৫টি ছক্কায় ব্যক্তিগত ১০০ রান পূর্ণ করে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে মোহাম্মদ মিঠুনও ছিলেন আক্রমণাত্মক, তিনি ৬৫ বলে ৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৭২ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। এদিকে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে রান উৎসবের দিনে ইস্ট জোনকে ৫৪ রানে হারিয়ে ১২তম বিসিএল ওয়ানডে টুর্নামেন্টে শুভসূচনা করে নর্থ জোন। সোমবার আকবর আলীর বিধ্বংসী সেঞ্চুরি আর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজীদ হাসান তামিমের জোড়া ফিফটিতে ৩৩৫ রানের পাহাড় গড়েছিল নর্থ। জবাবে মুমিনুল হক ও নাঈম হাসানের লড়াই সত্ত্বেও রিশাদ হোসেনের বোলিং তোপে ২৮১ রানেই থমকে যায় ইস্ট জোনের ইনিংস। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই হাবিবুর রহমান সোহানকে (১৬) হারালেও দ্বিতীয় উইকেটে ৮২ রানের জুটি গড়েন শান্ত ও তামিম। ৩৭ বলে ফিফটি হাঁকিয়ে ৫৪ রানে থামেন তামিম। পঞ্চম উইকেটে ১২০ রানের বিশাল জুটি গড়েন শান্ত ও আকবর আলী। অধিনায়ক শান্ত ৮৭ বলে ৬৮ রান করে বিদায় নিলেও আকবর ছিলেন রুদ্রমূর্তিতে। মাত্র ৮১ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ১১১ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলে মাঠ ছাড়েন এই তরুণ ব্যাটার। নর্থ জোন শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৩৩৫ রানে অলআউট হয়। ইস্ট জোনের হয়ে খালেদ আহমেদ ৫২ রানে ৪ উইকেট নিলেও সাইফউদ্দিন ১০ ওভারে খরচ করেন ৯৮ রান। ৩৩৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় ইস্ট জোন। ওপেনার জাকির (), ইমন (৩৫) ও অমিত (২২) দ্রুত বিদায় নিলে দলের হাল ধরেন মুমিনুল হক ও অধিনায়ক ইয়াসির আলী রাব্বি। এই জুটিতে ৭১ রান যোগ হলেও রিশাদ হোসেনের বলে ৪২ রান করে ইয়াসির বিদায় নিলে ভেঙে পড়ে মিডল অর্ডার। এক প্রান্ত আগলে রেখে মুমিনুল ৮২ রান করলেও রিশাদের তোপে অন্য ব্যাটাররা দাঁড়াতে পারেননি। শেষ দিকে নাঈম হাসান ৪৩ বলে ৫০ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে হারের ব্যবধান কমান। নর্থ জোনের হয়ে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন ৫৭ রানে শিকার করেন ৪টি উইকেট। এছাড়া শরিফুল ও নাহিদ রানা একটি করে উইকেট পান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅস্ট্রেলিয়ার গরমে অস্বস্তি অনুশীলনে খুশি আলপিরা
পরবর্তী নিবন্ধফেডারেশনগুলোর কাছে এক বছরের প্রতিবেদন চেয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী