সহকারী রেজিস্ট্রার হলেন চবির সেই সেকশন অফিসার

চবি প্রতিনিধি | সোমবার , ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) স্থানীয় বাসিন্দাদের ‘মালিক’ ও ‘জমিদার’ হিসেবে উল্লেখ করে আলোচনায় আসা সিরাজুল ইসলাম পদোন্নতি পেয়েছেন। আগে সেকশন অফিসারের দায়িত্ব পালন করা সিরাজুল ইসলামকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সিন্ডিকেটে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় তার পদোন্নতির বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চবির উপউপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান।

এর আগে সিরাজুল ইসলাম রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে একাধিকবার আলোচনায় আসেন। তিনি চট্টগ্রাম(হাটহাজারীবায়েজীদ আংশিক) আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে তাকে হাটহাজারী উপজেলা আমিরের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৩০ আগস্ট। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন একটি ভবনের ভাড়াটিয়া এক ছাত্রী ও নিরাপত্তারক্ষীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। রাত থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনা পরদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করতে বাধ্য হয়।

এর কয়েকদিন পর, ৪ সেপ্টেম্বর জোবরা গ্রামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা হচ্ছি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় পার্শ্ববর্তী এলাকার মালিক। আমরা জমিদার, ঠিক কিনা? জমিদারের ওপর কেউ হস্তক্ষেপ করবে, এটা কী আমরা মেনে নিতে পারি? কখনোই না। আমরা অতীতেও মেনেনি নাই; সামনেও মেনে নিব না। এ বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে আমাদের বুকের ওপর। আমরা হচ্ছে এই জায়গার মালিক।’

এই বক্তব্য ঘিরে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে শোকজ করা হয়। পরবর্তীতে তিনি শোকজের জবাব দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমা চান। পদোন্নতি প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপউপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, ‘তার বক্তব্যের জন্য যতটুকু শাস্তি পাওয়ার কথা, তার থেকে বেশি শাস্তি তিনি পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন তার বক্তব্যকে ঘিরে তেমন কোনো শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার রাখে না। এ ঘটনার পরে বিশ্ববিদ্যালয় তাকে শোকজ করেছে এবং উনি পরবর্তীতে শোকজের জবাব দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। কেউ কোনো জায়গার যোগ্য হলে অবশ্যই তার যোগ্যতার মূল্যায়ন করতে হবে।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধভেনেজুয়েলায় অভিযানে রহস্যময় অস্ত্র ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র
পরবর্তী নিবন্ধসাতকানিয়ায় দোয়া মাহফিল ও কম্বল বিতরণ