১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলাভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা পেয়েছি মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার এবং রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ আমরা অনেক ক্ষেত্রেই নিজের ভাষার যথাযথ ব্যবহার ও সম্মান রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছি।
বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অফিস–আদালত এমনকি বিজ্ঞাপন ও সাইনবোর্ডেও বাংলা ভাষার বিকৃত ব্যবহার দিন দিন বেড়ে চলেছে। অনেক জায়গায় দেখা যায়, অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিদেশি ভাষা ও শব্দের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, যা আমাদের ভাষার সৌন্দর্য ও স্বকীয়তাকে ক্ষুণ্ন করছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে শুদ্ধ বানান ও সঠিক উচ্চারণের চর্চা কমে যাওয়াটা উদ্বেগজনক।
ভাষা দিবসে শুধু ফুল দেওয়া বা অনুষ্ঠান করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। ভাষা শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে হলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে শুদ্ধ বাংলা চর্চা করতে হবে, বাংলা ভাষায় সঠিকভাবে লিখতে ও বলতে শিখতে হবে এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় সচেতন হতে হবে। অতএব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ সাইনবোর্ড, বিজ্ঞাপন ও অফিসিয়াল কাজে শুদ্ধ বাংলা ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
ইয়াছমিন আকতার, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম।











