নগরীতে শীতকালীন সব ধরনের সবজির সরবরাহ বাড়লেও বাজারে এর কোনো প্রভাব নেই। একমাত্র মুলা ছাড়া আর কোনো সবজির কেজি ৫০ টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছে না। সবজির আড়তদাররা বলছেন, চট্টগ্রামে সবজির একটি বড় অংশ আসে উত্তরাঞ্চল থেকে। এছাড়া বাকিটা আসে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, বাঁশখালী, সীতাকুণ্ড এবং হাটহাজারীসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে। গত কয়েক সপ্তাহ আগে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হয়। এই অকাল বৃষ্টিতে কৃষকদের অনেক সবজি নষ্ট হয়ে যায়। যার ফলে বাজারে সবজির দাম কমেনি। আবার বাড়েনি।
অন্যদিকে ভোক্তারা বলছেন, সবজি উৎপাদন করে কৃষক বর্তমান বাজারমূল্যের অর্ধেক দামও পাচ্ছে না। অথচ একশ্রেণীর সবজি ব্যবসায়ী কৃষকের কাছ থেকে কম দামে সবজি কিনে নিয়ে সিন্ডিকেট করে দ্বিগুণ দামে বাজারে বিক্রি করছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজর দেয়া উচিত।
গতকাল নগরীর বেটারি গলি ও চৌমুহনী কর্ণফুলী মার্কেট কাঁচা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শীতকালীন সবজির মধ্যে শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। এছাড়া ফুলকপি ৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা এবং মুলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। অন্যদিকে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। এছাড়া তিতা করলা ৬০ টাকা, লাউ কেজি ৫০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়া কাঁচা ৪০ টাকা, পাঁকা ৫০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা এবং পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। নগরীর বেটারি গলি বাজারের সবজি বিক্রেতা ইসমাইল হোসেন দৈনিক আজাদীকে জানান, বাজারে আসলে শীতকালীন সবজির সরবরাহ খুব বেশি বাড়েনি। এছাড়া গত কিছুদিন ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে টানা বৃষ্টি হয়েছিল। বৃষ্টিতে অনেক কৃষকের সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। যার কারণে সবজির কিছুটা সরবরাহ সংকট হয়। বিশেষ করে চট্টগ্রামের স্থানীয় উপজেলাগুলো থেকে সবজি আসা কমে গেছে। আসলে সবজি কাঁচাপণ্য, এসব চাইলেই মজুদ করে রাখা যায় না। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এসএম নাজের হোসেন দৈনিক আজাদীকে বলেন, শুধুমাত্র সবজির বাজার নয়, দীর্ঘদিন ধরে আসলে সব ধরণের ভোগ্যপণ্যের বাজার উর্ধ্বমুখী। চাল-ডাল ও তেলের দাম বেড়েছে আগেই। তবে বাড়ার পর কিছু কমেছে চিনির বাজার। ব্যবসায়ীরা আসলে দাম বৃদ্ধির পিছনে একেক সময় একেক অজুহাত দাঁড় করান। তাদের অজুহাতের শেষ হয়। বৃষ্টি হলে বলে বৃষ্টির জন্য সবজির বাজার বেড়েছে। কিছুদিন আগে যেমন, ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দেন। প্রশাসন কেবল রমজান মাস এলে সবজির বাজারে অভিযান চালান। প্রশাসনের অবশ্যই নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা উচিত।











