সরগরম বাজার, জমজমাট বেচাকেনা

বৃষ্টিতে কিছুটা ছন্দপতন হলেও ক্রেতা-বিক্রেতা, ইজারাদার সবাই খুশি

মোরশেদ তালুকদার | বুধবার , ২৮ জুন, ২০২৩ at ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ

শহরের কোরবানিদাতাদের বেশিরভাগই রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যার কারণে শেষ দুদিনে কিনে থাকেন কোরবানির পশু। এক্ষেত্রে শেষ বাজারের ঝুঁকি না নিয়ে আগের দিন কিনতে স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করেন। আগামীকাল ঈদুল আজহা। অর্থাৎ আজ বুধবার কোরবানির পশুর হাটের শেষ দিন। তাই গতকাল বাজারে কোরবানির পশু কিনতে ভিড় করেন কোরবানিদাতারা। তবে কয়েক দফা বৃষ্টি হওয়ায় কাদাপানির দুর্ভোগে কিছুটা ছন্দপতন ঘটে হাটে। এরপরও সরগরম বাজারে বিকিকিনি ছিল জমজমাট। এদিন পছন্দের পশু কিনে খুশি ক্রেতা। কাক্সিক্ষত দাম পেয়ে খুশি বেপারিও। এর মাঝে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন বাজারের ইজারাদাররাও।

এবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় স্থায়ীঅস্থায়ী ১১টি পশুর হাট বসে। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ৮ লাখ ৭৯ হাজার ৭১৩টি। এর বিপরীতে স্থানীয় ৮ হাজার ২২০টি খামারে উৎপাদন হয়েছে ৮ লাখ ৪২ হাজার ১৬৫টি। অর্থাৎ চাহিদার বিপরীতে স্থানীয় উৎপাদন অনুসারে ৩৭ হাজার ৫৪৮টি কোরবানির পশু সংকট থাকার কথা। তাই শঙ্কা ছিল এবার পশুর দাম হবে বেশ চড়া। বাজারের প্রথম দিকেও তেমন ইঙ্গিত মিলে। তবে শেষ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কোরবানির পশুতে ভরে যায় হাটগুলো। বিশেষ করে বাজারগুলোতে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা, সাতক্ষীরা, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুমিল্লা, নাটোরসহ অন্যান্য এলাকা থেকে গরু এনেছেন বেপারিরা। এতে দূর হয় সংকট। ফলে সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে কমতে থাকে গরুর দাম। গতকালও বাজার ছিল অনেকটা সহনীয়। গতকাল বিকালে সাগরিকা পশুর হাটে দেখা গেছে প্রচুর ভিড়। কয়েকজন বেপারির সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, বাজার শুরুর পর থেকে গতকালই বিক্রি হয়েছে বেশি। খাগড়াছড়ি থেকে ২০টি গরু নিয়ে আসা এক বেপারি জানান, এ পর্যন্ত তিনটি বিক্রি হয়েছে এবং সবগুলোই গতকাল। অবশ্য এ বাজারে চুয়াডাঙ্গা থেকে ১৩টি বড় সাইজের গরু নিয়ে আসা তালেব বেপারি বলেন, একটিও বিক্রিও হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত অল্প লাভ পেলে বিক্রি করে দেবেন বলে জানান তিনি।

সাগরিকা বাজার থেকে গতকাল ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় একটি কালো রঙের ষাঁড় কিনে বাড়ি ফিরছিলেন নাইম নামে এক ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, বাজার শুরু হওয়ার দ্বিতীয় দিনে এসেছিলাম। সেদিন ঘুরেফিরে আইডিয়া করেছিলাম। যেহেতু আর সময় নেই, তাই কিনেই ফেললাম। এর আগে বাজার ঘুরে অভিজ্ঞতার আলোকে গতকাল কেনা গরুটির দাম কিছুটা কম হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিবিরহাট বাজারে গতকাল বিকিকিনি জমজমাট ছিল বলে জানান হাসিল আদায়ের সঙ্গে জড়িত এক কর্মচারী। তিনি জানান, বৃষ্টি না হলে বাজার আরো জমজমাট হতো। কারণ মঙ্গলবার হচ্ছে বিবিরহাটের নির্ধারিত বাজারের দিন। কোরবান উপলক্ষে টানা ১০ দিন পশু বিক্রি হলেও সাপ্তাহিক বাজারবার হিসেবে শনি ও মঙ্গলবার এ বাজারে বিক্রি হয় বেশি। এ দুদিন বাজারের আশেপাশের এলাকা থেকে প্রচুর গরু নিয়ে আসা হয়। মূল বাজারে জায়গা না হলে রাস্তায়ও রাখা হতো। কিন্তু গতকাল বৃষ্টি হওয়ায় মূল বাজারের বাইরে গরুর সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম দেখা গেছে। কারণ মূল বাজারে ত্রিপল থাকলেও বাইরে সে সুবিধা নেই। এরপরও গতকাল বাজারটিতে অন্যদিনের চেয়ে বিকিকিনি বেশি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল সকালে বিবিরহাট বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বৃষ্টির জন্য বেকায়দায় পড়েন ক্রেতা ও বেপারি উভয়েই। এর মধ্যেও পশু কিনতে আসা লোকজন পছন্দের গরু কিনে ফিরছিলেন বাড়ি।

মুসলিমাবাদ রোডের সিআইপি জসিমের খালি মাঠে বসা বাজারের ইজারাদার হারুনুর রশিদ আজাদীকে বলেন, বাজার জমজমাট ছিল। বাজার শুরুর পর থেকে আজকেই (গতকাল) বেশি বিক্রি হয়েছে।

পতেঙ্গা টি কে গ্রুপের মাঠে বসা বাজারের ইজারাদার ওয়াদি চৌধুরী জানান, আমাদের বাজারে প্রচুর বেচাকেনা হচ্ছে।

এবার নগরে বসা অস্থায়ী বাজারগুলো হচ্ছে কর্ণফুলী পশুর বাজার (নূর নগর হাউজিং এস্টেট), ৪১ নং দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডের বাটারফ্লাই পার্কের দক্ষিণে টি কে গ্রুপের খালি মাঠ, ৪০ নং উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডের পূর্ব হোসেন আহম্মদ পাড়া সাইলো রোডের পাশে টিএসপি মাঠ, একই ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ রোডের সিআইপি জসিমের খালি মাঠ, ২৬ নং ওয়ার্ডের বড়পোল সংলগ্ন গোডাউনের পরিত্যক্ত মাঠ এবং ৩ নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের ওয়াজেদিয়া মোড়। স্থায়ী হাটগুলো হচ্ছে সাগরিকা পশুর বাজার, বিবিরহাট গরুর হাট ও পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিএনপি যতই রূপরেখা দিক, নির্বাচন সংবিধান মেনে : তথ্যমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধসেন্ট মার্টিন দ্বীপ কখনো চাইনি : মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর