সরকার বদলের পরই পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের দাবি

| মঙ্গলবার , ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সপ্তাহখানেকের মধ্যে নতুন পোশাক নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তা বদলের দাবি জানিয়েছে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুলিশের যে নতুন পোশাক চালুর সিদ্ধান্ত নেয় বাহিনীটির বেশিরভাগ সদস্য সেটির পক্ষে নয় বলে দাবি করেছে পুলিশের ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠনটি। গতকাল সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুলিশের মতামত না নিয়েই ওই পোশাক নির্বাচন করেছে দাবি করে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন নতুন রংয়ের পোশাকটি পরিবর্তনের দাবি তুলেছে। খবর বিডিনিউজের।

১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী বিএনপি ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে। এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের অবসান ঘটে। নতুন পোশাক নিয়ে সদস্যদের মধ্যে এতদিন আপত্তি থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাহিনীর তরফে কোনো বিরোধিতা আসেনি।

পুলিশের নতুন পোশাক চালু হয়েছে ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে। প্রথম পর্যায়ে সীমিত পরিসরে সদস্যদের কাছে এ পোশাক সরবরাহ করা হয়। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে দমনপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর থেকে সমালোচনার মুখে থাকা পুলিশ বাহিনীর সংস্কার ও পোশাক পরিবর্তনের দাবি উঠলে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পোশাক অনুমোদন করে। নীল ও সবুজ রঙের আগের পোশাকের পরিবর্তে নতুন ‘আয়রন গ্রে’ রঙের পোশাক পরছেন রেঞ্জ ও মহানগর পুলিশ সদস্যরা।

গতকাল এ পোশাক নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ বাহিনীর দীর্ঘদিনের খাকি যে পোশাক ছিল তা ২০০৩২০০৪ সালে তৎকালীন সরকার গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই বাছাই শেষে পরিবর্তন করা হয়। ওই সময় পুলিশের চাকরিতে কর্মরত ব্যক্তিদের গায়ের রং, আবহাওয়া, রাত্রি ও দিনের ডিউটির বিষয়গুলোর সঙ্গে অন্য বাহিনীর পোশাক বিবেচনায় নতুন পোশাক নির্ধারণ করা হয়েছিল। অন্তবর্তীকালীন সরকার পুলিশের পোশাক পরিবর্তন করে যে নতুন পোশাক নির্বাচন করেন, সেখানে পুলিশ সদস্যদের গায়ের রং, আবহাওয়া এবং পুলিশ সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করেই কোনোরূপ জনমত যাচাইবাছাই ছাড়াই করা হয়। অন্য যে সকল সংস্থা ইউনিফরম পরে থাকেন তাদের সাথে হুবহু সাদৃশ্য রয়েছে এমন পোশাক নির্বাচন করা হয়। ফলে পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পরে বলে মাঠ পর্যায় থেকে মতামত তুলে ধরা হয়। বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের গোচরীভূত হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন গভীর উদ্বেগের সাথে জানাচ্ছে যে, বাহিনীর বেশিরভাগ সদস্যই তড়িঘড়ি করে নেয়া এই পরিবর্তনের পক্ষে নন। বরং তারা বর্তমানে (আগের) পরিহিত পোশাকটিকে বাংলাদেশ পুলিশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের প্রতীক হিসেবে মনে করেন।

পুরনো পোশাক পরেই পুলিশ সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে চমৎকার ভূমিকা রেখেছে দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ বাহিনীর প্রায় সকল সদস্য এই পোশাক পরিহিত অবস্থায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে তাদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করেছে। যা বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে সকলের কাছে প্রশংশিত হয়েছে। এছাড়া পোশাক পরিবর্তন একটি বিশাল ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। যা বর্তমানে দেশের অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বিবৃতিতে বলা হয়, পোশাকের রং বা নকশা নয় বরং পুলিশ সদস্যদের মন মানসিকতার পরিবর্তন, মনোবল এবং পেশাদারিত্বের উন্নয়ন করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের কাছে পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করে সংগঠনটি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅফিসে উপস্থিতি নিয়ে আইন ও বিচার বিভাগের অফিস আদেশ জারি
পরবর্তী নিবন্ধডা. ফজলুল-হাজেরা ডিগ্রি কলেজে আলোচনা সভা