সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহন রায়

রীতা দত্ত | বৃহস্পতিবার , ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ at ১১:০০ পূর্বাহ্ণ

ক্ষয়িষ্ণু মোগল সাম্রাজ্য ও উদীয়মান বৃটিশ শাসনএ দুয়ের সন্ধিক্ষণে অষ্টাদশ শতকের শেষে (১৭৭২ সাল) রামমোহনের আর্বিভাব। ঊনবিংশ শতাব্দির এক অপার বিস্ময় রাজা রামমোহন রায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে “এক আশ্চর্য প্রকাশ” বলে অভিহিত করেছিলেন। যুগ প্রবর্তক, সমাজ সংস্কারক, নারী শিক্ষার পথিকৃৎ, তৎকালে হিন্দু সমাজে প্রচলিত অযৌক্তিক অমানবিক জীবনধারার স্পন্দিত ব্যতিক্রম রাজা রামমোহন রায়। দিল্লীর বাদশা দ্বিতীয় আকবর ইংল্যান্ডের সাথে দৌত্যকাজের জন্য রামমোহন রায়কে “রাজা” উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। পরবর্তীকালে অক্ষয় কুমার দত্ত এ প্রসঙ্গে লিখেছিলেন, “তোমার উপাধি “রাজা”। জড়ময় ভূমিখন্ড তোমার রাজ্য নয়। তুমি একটি সুবিস্তর মনোরাজ্য অধিকার করিয়া রহিয়াছ”। জ্ঞানের রাজ্যে তাঁর ব্যাপক বিচরণ, মননশীলতার গভীরতা, নিছক আচারসর্বস্বতার বিরুদ্ধাচারণ, যুক্তিবাদিতা সর্বোপরি মানবিকতায় তিনি ছিলেন তৎকালীন ভারতবর্ষের অদ্বিতীয় মহত্তম ব্যক্তি। তিনি মানব প্রেমিক দার্শনিক। তাঁর দর্শনের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল মানুষ। তাঁর সমাজ সংস্কার, ধর্মসংস্কার, শিক্ষা সংস্কার, রাষ্ট্র সংস্কার ও আইন সংস্কার সব কিছুর মূলে ছিল মানবপ্রীতি। তিনি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মেল বন্ধন ঘটাতে চেয়েছিলেন। এজন্য তিনি ভারতবর্ষে বৃটিশ শাসন সমর্থন করেছেন যাতে ভারতবর্ষ দ্রুত আর্থসামাজিক কাঠামো এবং জ্ঞান বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে উন্নতি লাভকরতে পারেযা সেকালে অনেকেই মেনে নিতে পারেনি। অবশ্য রবীন্দ্রনাথ রামমোহনকে সমর্থন করে তাঁর “ভারত পথিক রামমোহন” গ্রন্থে’ লিখেছেন, “পশ্চিম যখন ভারতের দ্বারপ্রান্তে আঘাত হানে তখন ভারতে রামমোহন প্রথম ব্যক্তি যার মধ্য দিয়ে সে আঘাতে সত্যিকার সাড়া দিয়েছিল। উপনিষদ, বেদান্তের ভিত্তিভূমিতে দাঁড়িয়ে রামমোহন যখন পশ্চিমের দিকে মুখ বাড়ালেন তখন তিনি দেখলেন ভারতবর্ষ পশ্চিমের তুলনায় অনেক বেশি পিছিয়ে। এ সময় ইউরোপে শিক্ষায় বিজ্ঞানে চিন্তায় শিল্পে অনেক বিপ্লব ঘটে গেছে। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পশ্চিমের নাগাল পেতে হবে। প্রাচীন ঐতিহ্যের যতটুকু বর্তমানের জন্য মূল্যবান ততটুকু নিতে হবে।” পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথও কবিতায় লিখেছেন, “পশ্চিম আজি খুলিয়াছে দ্বার, সেথা হতে সবে আনে উপহার, দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে যাবে না ফিরে।” ইংরেজী, আরবী, উর্দু, হিব্রু, সংস্কৃত, গ্রীক, ল্যাটিন, ফারসী এবং বাঙলা এ নয়টি ভাষায় তাঁর অসাধারণ ব্যুৎপত্তি ছিল। জ্ঞানের জগতে কোন বিরোধ নেই, কোন সীমানা নেইরামমোহন তাঁর সুবিস্তৃত জ্ঞানের পরিধি দিয়ে এটাই প্রমাণ করেছেন। তাঁর দৃষ্টি ছিল সর্বাশ্রয়ী এবং সর্বাত্মক। প্রচলিত সংস্কারের প্রতি প্রশ্নহীন আনুগত্য নয়, যুক্তি দিয়ে সুস্পষ্ট বিচার করে গ্রহণ করাই ছিল তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।

স্বামী বিবেকানন্দ এর দৃষ্টিতে রামমোহনের তিনটি দান সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয়। His acceptance of Vedanta, his preaching of patriotism and the love that embraced the Muslanmans equally with the Hindus. স্বামীজী তাঁকে the first man of new generation বলেছেন।

উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য রামমোহন প্রথমে পাটনায় আরবী ফারসী এ দু ভাষায় শিক্ষা গ্রহণ করে পবিত্র কোরান অধ্যয়ন করেন। কোরানই তাঁর ধর্ম বিশ্বাসে প্রথম এনে দিয়েছিল এক বিরাট পরিবর্তন। এ পবিত্র ধর্মগ্রন্থ’ থেকে তিনি বিশ্বব্রহ্মান্ডের অধীশ্বর এর মহিমা সম্বন্ধে ধারণা লাভ করেন। এরপর তাঁর দ্বিতীয় শিক্ষার স্থান কাশী। এখানে এসে সংস্কৃত এবং হিন্দুধর্ম শাস্ত্র সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করেন। প্রথমে মুসলিম সাধনার সাথে পরিচিত হলেন, এবার পরিচিত হলেন হিন্দু সাধনার সাথে। ইসলামের একেশ্বরবাদ এবং বেদান্তের ব্রহ্ম এ দুটির মধ্যে তিনি কোন পার্থক্য দেখতে পেলেন না। উপনিষদে আছে “একং সদবিপ্রা বহুধা বদন্তি” অর্থাৎ ঈশ্বর এক, ব্রাহ্মণরাই “অনেক” বলে থাকেন। ফলে অল্প বয়সে তাঁর ধর্ম চিন্তায় প্রবল আলোড়ন দেখা দিল। মাত্র ষোল বছর বয়সে তিনি হিন্দু সমাজে প্রচলিত মূর্তিপূজার বিরোধিতা করে বই লেখেন “তাহফুৎউল মুয়াহদ্দিন”। এ সময় সমাজের রক্তচক্ষুতে শঙ্কিত পিতা (রামকান্ত রায়) পুত্রকে বিতাড়িত করেন। রামমোহন তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, আমি ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরোধিতা করি না, আমি এর বিকৃতিকে বিরোধিতা করি। আমি চেষ্টা করেছি দেখাতে যে ব্রাহ্মণতন্ত্রের মূর্তিপূজা আমাদের ঋষি এবং প্রাচীন উপনিষদের শিক্ষার পরিপন্থী। ধর্ম সম্পর্কে তাঁর ধারণা ছিল সুস্পষ্ট যার মূল আদর্শ মানব প্রীতি। সকল ধর্মের মূল আদর্শ কেবলমাত্র বাহ্যিক আচার অনুষ্ঠান পালন নয়সত্যের সন্ধান, সদাচার পালন, বিশ্বনিয়ন্তার উপাসনা এবং মানব কল্যাণই প্রকৃত ধর্ম। হিন্দু, মুসলমান, খৃষ্টান সকল ধর্মের মূল শাস্ত্র অধ্যয়ন করে তিনি এক সমন্বয়কারী ঐক্যমতের সন্ধান পেয়েছিলেন। সমাজের কল্যাণ ভাবনায় ভাবিত হয়ে রামমোহন ধর্মসংস্কারে ব্রতী হয়েছিলেন। হিন্দুধর্মের নানান কুসংস্কার জীর্ণ করে দিয়েছে তার শ্রী ও সৌন্দর্য এবং ধর্মের নামে সমাজের সকল শুভবুদ্ধির কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল। তিনি যে ব্রাহ্ম সমাজ এর প্রবর্তন করতে চেয়েছিলেন তা ছিল সকল সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের গ্রহণীয় এক বিশ্বাস। উদার, অসম্প্রদায়িক, বিশ্বজনীন ভাবই তাঁর মূল কথা। আত্মার যোগে তিনি সকলকে দেখেছিলেন এবং আত্মার যোগে ধর্মে যুক্ত হতে চেয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ এ ধর্মকে বিশ্বজনীন ধর্ম হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। ১৮১৫ সালে রামমোহনের কর্মস্থল রংপুরে কয়েকজন বিদ্বান ব্যক্তিকে নিয়ে তিনি আত্মীয়সভা স্থাপন করেন। এ সভায় শাস্ত্র আলোচনা, বেদপাঠ, ব্রহ্মসংগীত গীত হতো। তখন সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার, অমানবিক প্রথার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারো ছিল না। এ সময় “আত্মীয় সভার” কার্যকলাপ ইতিহাসের পৃষ্ঠায় চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। সভায় আধ্যাত্মিকচর্চা, সার্বভৌম ধর্মচর্চা, একেশ্বরবাদ প্রচার, সমাজিক সমস্যা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনায় যে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছিল তার ফল হয়েছিল সুদূর প্রসারী। প্রাচীন ঋষিদের ব্রহ্মজ্ঞান থেকে অনেক দূরে সরে এসে সেকালে বলিদান, গঙ্গাস্নান, তীর্থদর্শন, উপবাস ইত্যাদি পালন করে তীব্র পাপ স্পলন হয় এবং পুণ্যাদি অর্জন করা যায়এ ধারণা সকলের মনে স্থির ছিল। রাজা রামমোহন রায় এসব অযৌক্তিক প্রথার তীব্র প্রতিবাদ করে সমাজকে গ্লানি মুক্ত করতে চেয়েছিলেন।

১৮২৮ সালে ২০ আগস্ট রামমোহন রায়ের ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয় জোড়াসাঁকোর কমল বসুর বাড়িতে। এর পিছনে ছিল তাঁর এক উদার অসম্প্রদায়িক বিশ্বজনীন ভাবনা। রামমোহন ছিলেন prophet of the coming humanity, apostle of the east ব্রাহ্মসমাজ কোন দিনই একটি বিশিষ্ট ধর্ম সম্প্রদায় ছিল না। এ সমাজে এসে সকল সম্প্রদায়ের লোকই এক ঈশ্বরের উপাসনা করতে পারত। রামমোহন তাঁর রচনার মাধ্যমে যা প্রচার ও প্রকাশ করেছেন তা হল মানবের বিশ্বধর্মবোধ। রামমোহন আধুনিকতার অগ্রদূত। রেনেসাঁর অন্যতম লক্ষণ অসাম্প্রদায়িকতা তাঁর মধ্যে পুরো মাত্রায় ছিল। তাঁর সচেতন চর্চিত আধুনিকতার সবচাইতে সাহসিক প্রকাশ ঘটেছিল সে সমাজের নারীদের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মপ্রচেষ্টায়। তিনি স্রোতের বিরুদ্ধে এক দ্রোহী পুরুষ। সতীদাহ প্রথা নিবারণে রামমোহনের সংগ্রাম কিংবদন্তি। স্বামীর সাথে পুড়িয়ে মারা হোত স্ত্রীকে এবং নতুন করে পুড়ত হিন্দুর মনুষ্যত্ব। কিন্তু তা অনুভব করার মত কোন হৃদয়বান পুরুষ ছিল না হিন্দু সমাজে। এ অমানবিক প্রথা রদের জন্য রামমোহন তাঁর সমস্ত শক্তি দিয়ে সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। যে যুগে জ্ঞানচর্চায় মেয়েদের কোন অধিকার ছিল না, এমনকি, বিদ্যাশিক্ষার ইচ্ছা করাটাও অপরাধ বলে গণ্য হোত, সে যুগেই রামমোহন বলেছিলেন, নারীর মননযোগ্যতা পুরুষের সমানই, জ্ঞান ও ধর্মে নারীপুরুষের সমান অধিকার আছে। তিনি ভাবলেন নারীমুক্তির কথা। অন্ধকার থেকে নারীকে নিয়ে এলেন জ্যোর্তিময় আলোকে। একটি উদার ও উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার তিনি ছিলেন প্রথম সমর্থক। ছাত্রদের ইংরেজীতে শিক্ষা দেবার জন্য এ্যাংলো হিন্দু স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সর্বমানুষের সর্বাঙ্গীন মুক্তির স্বপ্ন দেখতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, এই মুক্তি আসতে পারে শিক্ষার সর্বব্যাপী প্রচলনের মধ্যে দিয়ে।

১৮৩০ সালের ২৩ জানুয়ারী বাংলা ১২৩৬ এর ১১মাঘ ব্রাহ্ম সমাজের নতুন ভবনের দ্বারোদ্ঘাটন করা হয় কলকাতার চিৎপুর রোডস্থ নিজস্ব ভবনে। এই ১১ মাঘ থেকে “মাঘোৎসবের” বার্ষিক অনুষ্ঠান প্রবর্তিত হয়। এ দিনটি ‘মাঘোৎসব’ নামে অভিহিত হয়। এ পুণ্য দিনটিকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর জোড়াসাঁকোর বাড়িতে ১১ মাঘ মাঘোৎসব এর প্রবর্তন করেন। উল্লেখ্য যে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ রামমোহন প্রতিষ্ঠিত Anglo-oriental Hindu school এর ছাত্র ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ব্রাহ্ম সমাজের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত হন। ব্রাহ্ম সমাজের কাছ থেকে তিনি “মহর্ষি” এ উপাধি প্রাপ্ত হন। শান্তি নিকেতন এ উৎসব প্রবর্তিত হলে রবীন্দ্রনাথ একে “নব যুগের উৎসব” নামে অভিহিত করেন। আজ একুশ শতকেও রামমোহন প্রাসঙ্গিক। এ সম্পর্কিত ১৮৮৪ তে লেখা রবীন্দ্রনাথের ভাবনা প্রণিধানযোগ্য। “রামমোহন, তুমি যদি আজ বাঁচিয়া থাকিতে। বঙ্গদেশে তোমাকে আজ বড়োই আবশ্যক হইয়াছে। আমরা বাকপটু লোক, আমাদের কাজ করিতে শেখাও। আমরা আত্মম্ভরী, আমাদের আত্মবিসর্জন দিতে শেখাও। আমরা লঘু প্রকৃতির, বিপ্লবের স্রোতে চরিত্র গৌরবের প্রভাবে আমাদের অটল থাকিতে শেখাও। আমরা বাহিরের প্রখর আলোকে অন্ধ, হৃদয়ের অভ্যন্তরস্থ চিরোজ্জ্বল আলোকের সাহায্যে ভালমন্দ নির্বাচন করিতে ও স্বদেশের পক্ষে যাহা স্থায়ী ও যাহা যথার্থ মঙ্গল তাহাই অবলম্বন করিতে শিক্ষা দাও।”

চট্টগ্রামে ব্রাহ্মসমাজে যাত্রাপথ সুগম করেছিলেন কয়েকজন নিষ্ঠাবান সমাজ সচেতন ব্যক্তি। ১৮৫৫ খ্রীষ্টাব্দে চট্টগ্রামের তৎকালীন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হরিমোহন চৌধুরীর ভূমিকা এক্ষেত্রে অগ্রগণ্য। জানা যায় তার উদ্যোগে বদরপাটি এলাকায় ব্রাহ্মসমাজের উপাসনা শুরু হয়। এরপর রজনীকান্ত সেন প্রথম চট্টগ্রামের ব্রাহ্ম সমাজের প্রধান সংগঠক। ১৮৬৫ খ্রীষ্টাব্দে কেশব চন্দ্র সেন চট্টগ্রামে আসেন এবং চট্টগ্রামে ব্রাহ্মসমাজ আন্দোলন নতুন গতি পায়। ১৮৮১ সালে হরিশচন্দ্র দত্তের উদ্যোগে পাথরঘাটায় নিজস্ব মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয় যা পরবর্তীতে মোমিন রোডস্থ বর্তমান ভবনে স্থানান্তরিত হয়। চট্টগ্রামে ব্রাহ্ম আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সাফল্য ছিল নারী শিক্ষার প্রসার। নবীন চন্দ্র দত্ত ১৮৭৮ সালে একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন যা পরবর্তীতে অন্নদাচরণ খাস্তগীর এর সহায়তায় ডাঃ খাস্তগীর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে পূর্ণতা পায়। চট্টগ্রামে আধুনিক মুদ্রণ ও ছাপাখানা শুরুর ক্ষেত্রে ব্রাহ্মসমাজের অবদান স্মরণীয়।

চট্টগ্রামে রহমতগঞ্জস্থ ব্রাহ্ম মন্দির (১৮৮৪ খ্রীষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত) এ দীর্ঘ বছর ধরে মাঘোৎসব যথাযথ মর্যাদায় উদ্‌যাপিত হয়ে আসছে। আমার জানা মতে চট্টগ্রামের যাত্রামোহন সেনগুপ্তের পরিবার ব্রাহ্মসমাজের ছিলেন। জ্ঞানতাপস প্রয়াত অধ্যক্ষ যোগেশ সিংহ এ মন্দিরের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। চট্টগ্রাম শহরে খুব কম সংখ্যক পরিবার ব্রাহ্মসমাজের অন্তর্ভুক্ত বলে দাবী করেন। বিপ্লবী বিনোদ বিহারী চৌধুরীর জীবদ্দশায় তিনি রামমোহন রায় প্রবর্তিত মাঘোৎসবের পৌরোহিত্য করতেন। প্রবর্তক সঙ্ঘের প্রয়াত মীরা সিংহ এর পরিচালনায় ছাত্রীদের অংশ গ্রহণে এবং আগ্রহীদের উপস্থিতিতে মাঘোৎসব উদ্‌যাপিত হয়ে এসেছে এতদিন। ব্রাহ্মসমাজের সদস্য সংখ্যা নগণ্য হলেও বা রামমোহন রায়ের সমাজ দর্শন এবং এর সর্বজনীনতা বর্তমান সময়েও প্রাসঙ্গিক। আশা করি সমাজের সকল স্তরের মানুষের অংশগ্রহণে প্রতিবছর মাঘোৎসব মর্যাদার সাথে পালিত হবে।

লেখক : সাবেক অধ্যক্ষ, চট্টগ্রাম সরকারি চারুকলা কলেজ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাংলাদেশের প্রথম রেলস্টেশন ‘জগতি’ এখন যেন শুটিংস্পট
পরবর্তী নিবন্ধড. মঈনুল ইসলামের কলাম