একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব, যোগ্যতা, দক্ষতা এমনকি অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন যেন আমাদের অনুমোদনের উপর নির্ভরশীল। ইংরেজ কবির ভাষায় একটি প্রবাদ রয়েছে “আপনার মূল্য কমিয়ে যায় না কাহারো দেখিতে না পাওয়ার কারণে” জীবনের চলার পথে আমাদের এমন পরিস্থিতি সম্মুখীন হতে হয়, যখন আমাদের কঠোর পরিশ্রম সৃজনশীলতা কিংবা আমাদের ভেতরের ভালো দিকগুলো উপেক্ষিত হয়। আমাদের কর্মক্ষেত্রে যখন প্রাপ্য প্রসংশা মেলে না, শিল্পীর সৃষ্টি যখন সমালোচিত হয় কিংবা পারিপার্শ্বিক গুরুত্ব দেয়া হয় না, তখন স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রভাব পরে। এই প্রত্যাখান বা উপেক্ষার কষ্ট গভীর হলেও এটি স্মরণ রাখা জরুরী যে, কোন ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি কাহারো সত্যিকারের মূল্যকে সংজ্ঞায়িত করতে পারে না। একজন উপযুক্ত ব্যক্তির ভিতরের সত্তা অভিজ্ঞতা, সততা, চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং সমাজে যে ইতিবাচক প্রভাব তার ইতিবাচক প্রভাব তার উপর নির্ভর করে।
এটা অনেকটাই স্বয়ম্বর, যা বাইরের কোন স্বীকৃতি বা প্রশংসার উপর নির্ভর করে না। আমরা প্রায়শই নিজের ভিতরে আলো দেখতে ভুলে যাই। একজন সত্যিকারের হিতেষী বোধ সম্পন্ন মানুষের দায়, যখন তিনি কাহারো মূল্যায়ন দেখতে পান না। তখন তাকে বুঝতে হবে ইহা তাহার দুর্বলতা নহে, বরং ঐ সকল লোকের সীমাবদ্ধতা।
অন্যের কৃতিত্ব দেখতে না পাওয়া ইহা প্রায়ই দেখা যায় বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কারণে। তারা এমন এক সাংস্কৃতিক দ্বারা আবদ্ধ হয়ে পড়েছেন যে, অন্যের ভালো দিকটা রূখবার মানসিকতা নেই। না দেখতে পারার অক্ষমতা কখনো ব্যক্তিগত, কখনো রাজনৈতিক এবং কখনো সামপ্রদায়িক হয়ে থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেকে রক্ষা করার জন্য আত্ম্তঅনুসন্ধান এবং আত্মসচেতনতা অপরিহার্য। নিজেকে জানতে হবে আপনার শক্তি কি? আপনার দুর্বলতা কি? আপনার নৈতিকতা কোনখানে বদ্ধ রয়েছে? প্রতিটি মানব একটি মহা পৃথিবীর মত। জটিল, বিশাল ও অনন্য। কাহারো পক্ষে বিশ্বকে সম্পূর্ণরূপে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। সুতরাং কেহ নির্দিষ্ট কোনো দক্ষতা বা গুণের কদর না করলে, উহার অর্থ এই নয় যে, সেই গুনটি অর্থহীন। ইহার অর্থ এই রকম নহে যে, সেই গুণটি মূল্যহীন। গুণী মানুষেরও স্মরণ রাখা দরকার সাফল্যের মাপকাঠি যেন নিজস্ব লক্ষ্য হয়, অন্যের নিকট হতে প্রত্যাশা নহে। পৃথিবীতে আমরা এমন কিছু মানুষ দেখেছি যারা অন্যের প্রশংসার দ্রব্য নহে। নিজেকে সন্তুষ্ট করার জন্যই মানুষের প্রতি হাত বাড়িয়েছেন। এই সমস্ত রকমের বিরল ব্যক্তিরা জানেন মূল্য নিজস্ব কর্মের প্রতিফলনে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। অন্য কাহারো অনুমোদনের উপর নির্ভর করে না। নামজাদা বড় মানুষ মানুষের জন্য কর্ম করে যাওয়াকে উত্তম, কর্ম বলে মনে করেন ও আনন্দ পান। সৎ কর্মই হচ্ছে ধর্ম।
লেখক: চিকিৎসক ও প্রাবন্ধিক।












