কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল গতকাল রোববার ভোররাতে ঘোষণা করা হয়। ভোটের ফলাফলে সমিতির ১৭টি পদের মধ্যে সভাপতি পদসহ চারটি পদে জয় পেয়েছে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, সাধারণ সম্পাদকসহ ছয়টি পদে জয় পেয়েছে জামায়াত সমর্থিত প্যানেল এবং অন্যান্য সাতটি পদে বিজয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল।
জানা গেছে, সমিতির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পৃথক তিনটি রাজনৈতিক প্যানেলের অংশগ্রহণে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন ও চকরিয়া উপজেলা চৌকি আদালত ভবন এই দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে সভাপতি পদে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম মনোনীত প্যানেলের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুল মন্নান নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেলের অ্যাডভোকেট আমির হোসাইন। সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেলের অ্যাডভোকেট আখতার উদ্দিন হেলালী। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম মনোনীত প্যানেল থেকে সহ–সভাপতি পদে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, পাঠাগার ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট শওকত ওসমান এবং নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট আজিজুল করিম নির্বাচিত হয়েছেন। এ প্যানেল ১৭টি পদের বিপরীতে ১৬ জন প্রার্থী দিয়ে ৪টি পদে জয়ী হয়। জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেল থেকে সিনিয়র সহ–সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট আবদুল বারী, সহ–সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন মাহমুদ তমাল, সিনিয়র নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নেজামুল হক ও অ্যাডভোকেট এ কে এম শাহজালাল চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট এস এম জসিম জয় পেয়েছেন। এ প্যানেল ১৭টি পদের বিপরীতে ১৭ জন প্রার্থী দিয়ে ৬টি পদে জয়ী হয়। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল থেকে সহ–সাধারণ সম্পাদক (হিসাব) পদে অ্যাডভোকেট মো. মহিউদ্দিন, আপ্যায়ন সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ রিদুয়ান আলী, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে নাহিদা খানম কঙী, সিনিয়র নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট ইকবালুর রশিদ আমিন ও অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন আহমদ নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট পারভীন সুলতানা পিয়া ও অ্যাডভোকেট সেকাব উদ্দিন জয় পেয়েছেন। এ প্যানেল ১৪ জন প্রার্থী দিয়ে ৭টি পদে জয়ী হয়েছে। সমিতিতে এবার মোট ভোটার ছিলেন ৯৪৮ জন। এর মধ্যে কঙবাজার কেন্দ্রে ৮৬১ জন এবং চকরিয়া কেন্দ্রে ৮৭ জন ভোটার ছিলেন। মোট ৮৯২ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। কক্সবাজার কেন্দ্রে ৮০৬ জন এবং চকরিয়া কেন্দ্রে ৮৬ জন ভোট দেন। নির্বাচনে ১৭টি পদের বিপরীতে ৪৭ জন চূড়ান্ত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এবারই প্রথম বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত তিনটি প্যানেল পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহমদ কবির প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। তার সঙ্গে সহকারী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন এম রেজাউল করিম, সৈয়দ রাশেদ উদ্দিন ও মোস্তাক আহমদ। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফরিদ আহমদ, নূর আহমদ, আবু ছিদ্দিক, তাপস রক্ষিত, মোহাম্মদ সিরাজউল্লাহ, এ কে ফিরোজ আহমদ ও মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ। জানা গেছে, ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির ইতিহাসে গঠনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতার কারণে এবার প্রথমবারের মতো রমজান মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।










