সবুজ সামুদ্রিক কাছিম মিলল নাফের তীরে

| বৃহস্পতিবার , ১৭ জুলাই, ২০২৫ at ১০:১১ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মত নাফ নদীর তীরে একটি চিংড়ি ঘেরে অতিবিপন্ন প্রজাতির সবুজ সামুদ্রিক কাছিমের দেখা মিলল। অনেকটা ‘ভাগ্যক্রমে’ নানা হাত ঘুরে বিরল এই কাছিমটির জীবন রক্ষা পেয়েছে। পরে কাছিমটি ফিরে গেছে সাগরে আপন বিচরণ ক্ষেত্রে।

কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল এলাকায় নাফ নদীর তীরে একটি চিংড়ি ঘেরে ১০ জুলাই সবুজ সামুদ্রিক কাছিমটি ধরা পড়ে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সাগর থেকে নাফ নদী হয়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরত্ব পেরিয়ে কাছিমটি সেখানে পৌঁছায়। খবর বিডিনিউজের।

বাংলাদেশে যে পাঁচ প্রজাতির সামুদ্রিক কাছিমের দেখা মেলে তার মধ্যে সবুজ সামুদ্রিক কাছিম ‘অতিবিপন্ন’। বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক কাছিমের এই প্রজাতিটি ‘বিপন্ন’। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রজাতি রক্ষায় সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার নিউমারারি অধ্যাপক ড. ফরিদ আহসান বলেন, এই প্রজাতি বাংলাদেশে অতিবিপন্ন এবং সারাবিশ্বে বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত। টেকনাফে যে কাছিমটি পাওয়া গেছে সেটির ছবি আমি দেখেছি। এটি সবুজ সামুদ্রিক কাছিম। সবুজ সামুদ্রিক কাছিম নাম হলেও উদ্ধার হওয়া কাছিমটির খোলসের রং লালচে খয়েরি। এ বিষয়ে ড. ফরিদ আহসান বলেন, পরিণত বয়সে এই প্রজাতির গায়ে একটা সবুজাভ রঙ আসে। এই প্রজাতির অপ্রাপ্ত বয়স্ক কাছিম এরকম লালচে রঙেরই হয়। টেকনাফে উদ্ধার হওয়া কাছিমটির ওজন ৭ কেজি সাতশ গ্রাম এবং এটির বয়স ১০ বছরের কিছু কমবেশি হতে পারে জানিয়ে ড. শীতল কুমার নাথ বলেন, এই প্রজাতি শতবর্ষী। ১৪১৫ বছর বয়স হলে অর্থাৎ পরিণত বয়সে এই প্রজাতি ডিম দেয়।

যেভাবে রক্ষা পেল : হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল এলাকায় নাফ নদীর তীরে স্থানীয় আবুল কালামের চিংড়ি ঘের। ঘেরে থেকে চিংড়ি পোনা বেরিয়ে যাওয়া ঠেকাতে বসানো জালে ১০ জুলাই কচ্ছপটি আটকা পড়ে। কক্সবাজার সাগর উপকূলে কাছিম সুরক্ষায় কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কমিউনিটি ডেভেলেপমেন্ট সেন্টারের (কোডেক) কমিউনিটি লেড টারটেল কনজারভেশন প্রকল্পের রিসার্চ ফ্যাসিলিটেটর মো. লিয়াকত আলী জানান, সেদিন ঘের মালিক কাছিমটি নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে কাছিমটি একরাত ছিল। পরদিন কাছের বাঘঘোনা গ্রামের পাহাড়ি ছড়ায় তিনি কাছিমটি ছেড়ে দেন। কিন্তু সামুদ্রিক কাছিমটি পাহাড়ি এলাকায় বেশি দূর যেতে পারেনি জানিয়ে মো. লিয়াকত আলী বলেন, ছড়ার নিচে স্থানীয় শিশুরা কাছিমটি নিয়ে খেলায় মেতে উঠে। সেখানে কাছিমটি একদিন ছিল। পরদিন স্থানীয় এক কাঁকড়া ব্যবসায়ী কাছিমটি ছড়া থেকে ধরে নিয়ে আসে। বিক্রির জন্য বাজারে নেয়ার পর আমাদের স্থানীয় রইক্ষ্যং কমিউনিটি পেট্রোলিং টিমের সভাপতি সৈয়দ আলম কাছিমটি দেখতে পান। তিনি আমাদের এবং বন বিভাগকে খবর দেন। পরে বাজার থেকে আমরা কাছিমটি উদ্ধার করি।

কোডেককমিউনিটি লেড টারটেল কনজারভেশন প্রকল্পের ফোকাল পার্সন ও কোডেকের পরিচালক ড. শীতল কুমার নাথ বলেন, ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকায় কাছিমটি এই যাত্রায় রক্ষা পেয়েছে। কাঁকড়া বিক্রেতা বিক্রি করে দিলে হয়ত সেটিকে আর উদ্ধার করা সম্ভব হত না। যখন কাছিমটি উদ্ধার করা হয় তখন এর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। ছড়ায় থাকার সময় শিশুরা কাছিমটি উল্টে দিয়ে খেলা করলেও কোন আঘাত করেনি। কাছিমটির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা শেষে ১২ জুলাই উখিয়া উপজেলার মাদারবুনিয়া এলাকার কোডেক হ্যাচারি সংলগ্ন সমুদ্রে অবমুক্ত করা হয়।

প্রাণিবিদ ড. শীতল কুমার নাথ বলেন, বাংলাদেশে সবশেষ ১০১২ বছর আগে সবুজ সামুদ্রিক কাছিম দেখে গেছে। এর মধ্যে আর এই প্রজাতি শনাক্ত হয়নি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজুলাই শহীদদের স্মরণে চট্টগ্রামে সওজের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
পরবর্তী নিবন্ধজুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদলের ১৪২ নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন