সবাইকে ভোট দেওয়ার, ফল মেনে নেওয়ার আহ্বান

জাতির উদ্দেশে সিইসির ভাষণ

| বৃহস্পতিবার , ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৫:৩৬ পূর্বাহ্ণ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগের দিন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। আর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটের ফল যাই হোক, তা মেনে নিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। জুলাই অভ্যুত্থানের দেড় বছর বাদে আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ হবে। তার আগে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে আসেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামীকাল (আজ) ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের। আরো স্মরণ করছি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের, যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা আজ গণতান্ত্রিক উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছি। আমি তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। আমি একই সাথে আহত জুলাই যোদ্ধাদের আশু আরোগ্য ও স্বাভাবিক জীবনের জন্য দোয়া করছি।

সিইসি বলেন, এই নির্বাচনে ভোটদান কেবল নাগরিক অধিকারই নয়, বরং দায়িত্ব। আমি আশা করি আপনারা সকলে সচেতনভাবে এই দায়িত্ব পালন করবেন। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের প্রতি আহ্বানশান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার্থে সকলে দায়িত্বশীল ও যত্নবান হবেন। ভিন্নমত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি স্বাভাবিক বিষয়। এই বিষয়টি স্মরণে রেখে আপনারা উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে আসবেন, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে জয়পরাজয়কে মেনে নেবেন।

ভোটার, প্রার্থী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক, সেবা প্রদানকারী সংস্থা ও ব্যক্তিসহ সংশ্লিষ্ট সবার উদ্দেশে নাসির উদ্দিন বলেন, ব্যক্তিগত কষ্টক্লেশ তুচ্ছ করে জাতীয় নির্বাচনের এই মহতী ব্যবস্থাকে সহযোগিতা করে সার্থক করে তুলুন।

নির্বাচনে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মোকাবিলায় সহযোগিতা চেয়ে সিইসি বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে চাই। যে কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা মোকাবিলায় নির্বাচনী কর্মকর্তা, মাঠ পর্যায়ে কর্মরত বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা করুন। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের সাক্ষী হতে পারবএই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে এবং পুনরায় আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কামনা করে শেষ করছি। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

প্রসঙ্গত, দেশের ২৯৯টি আসনে আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে স্থগিত হওয়া শেরপুর৩ আসনের ভোট পরে হবে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের ব্রিফিং : প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, জাতির প্রতি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে আইন ও সংবিধানের বিধান অনুসারে কাজ করে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সিইসি জানান, জনগণের প্রতি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। গতকাল রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের ব্রিফিংয়ে সিইসি এসব কথা বলেন। এ সময় অন্য চার নির্বাচন কমিশনারসহ ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সিইসি বলেন, আগামীকাল অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে একটি শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারের সহায়তায় ব্যাপক নিরাপত্তা ও সমন্বয় ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেকোনো নির্বাচনী বিরোধ প্রতিষ্ঠিত আইনি ও সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসারে কঠোরভাবে নিষ্পত্তি করা হবে। স্বচ্ছতাকে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, শুরু থেকেই কমিশন স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন, কোনো বিচ্যুতি থাকলে তা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এই নির্বাচনে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জনআস্থা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সিইসি জানান, ভোটারদের অসুবিধা না করে এবং ভোটকেন্দ্রের গোপনীয়তা বজায় রেখে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা কমিশনের নির্দেশিকা অনুসারে প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে স্বাগত এবং নির্বাচনপরবর্তী সময়ে তারা পর্যবেক্ষণ ও ফলাফল প্রকাশ করতে পারবেন। তিনি জানান, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ ৪৫টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিগণ এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

ভোটদান ও গণনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সিইসি বলেন, লিঙ্গ ও বয়স নির্বিশেষে সকল ভোটার নির্বিঘ্নে অংশ নিতে পারবেন। যথাযথ পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই ব্যালট ইস্যু করা হবে এবং নির্ধারিত নিয়মে গোপনীয়তা বজায় রেখে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধভোটের ফল মিলবে কখন?
পরবর্তী নিবন্ধশঙ্কামুক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : প্রধান উপদেষ্টা