সপ্তাহের তিন দিন নিয়ে যত মাথাব্যথা বন্দরে

শুক্র থেকে রোববারে কন্টেনার হ্যান্ডলিং নেমে আসে অর্ধেকের নিচে

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ১৭ জানুয়ারি, ২০২২ at ৬:০৮ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দরের ‘মাথাব্যথা’র কারণ হয়ে উঠেছে সপ্তাহের তিন বিশেষ দিন। শুক্র থেকে রোববার পর্যন্ত তিনদিন বন্দরের কন্টেনার ডেলিভারি অর্ধেকেরও নিচে নেমে আসে। বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বহাল রাখার জন্য সব ধরনের সার্ভিস চালু থাকলেও উক্ত তিনদিন কন্টেনার হ্যান্ডলিং কমে যাওয়ায় বন্দরের সার্বিক কার্যক্রমে মারাত্মক সংকট তৈরি হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডের ধারণক্ষমতা এবং কন্টেনার হ্যান্ডলিংয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ‘ওই তিনদিন’ নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত সময়ে কন্টেনার ডেলিভারি স্বাভাবিক রাখার জন্য আমদানিকারকদের প্রতি অনুরোধ করেও খুব বেশি সাড়া পাচ্ছে না। সপ্তাহের অপর চারদিনের মতো শুক্র থেকে রোববার কন্টেনার সরবরাহ হলে বন্দরের ইয়ার্ডের কার্যক্রম আরো গতিশীল হতো বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে লাখ লাখ কন্টেনার হ্যান্ডলিং হয়। বিশ্বের নানা দেশ থেকে আনা কন্টেনারগুলো বন্দর থেকে যত দ্রুত খালাস হয় বন্দরের ইয়ার্ডের উপর ততই চাপ কমে, কাজ গতিশীল হয়। চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ডে কন্টেনারের ধারণক্ষমতা ৪৯ হাজার ১৮ টিইইউএস। বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য ইয়ার্ডের অন্তত ১৫ শতাংশ জায়গা খালি রাখতে হয়। এতে করে চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক এবং গতিশীল কর্মকাণ্ডের জন্য সর্বোচ্চ ৪১ হাজার ৬৬৫ টিইইউএস কন্টেনার রাখার কথা। বন্দরে জাহাজ থেকে খালাসের এক দুইদিনের মধ্যে কন্টেনারগুলো ডেলিভারি নেয়া হলে বন্দর ইয়ার্ডে জটলা তৈরি হয় না। কিন্তু জাহাজ থেকে নামানোর পর কন্টেনারগুলো খালাসে বিলম্ব করায় ইয়ার্ডে জট লেগে যায়। স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি কন্টেনার আটকা পড়ে। এতে করে বন্দরের ইয়ার্ডে প্রায় প্রতিদিনই গড়ে ৪০/৪২ হাজার টিইইউএস কন্টেনার জড়ো হয়ে থাকে। সপ্তাহের সোম থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময়ে ইয়ার্ডে কন্টেনারের পরিমাণ কিছু কমে আসলেও শুক্রবারে তা আবার বেড়ে যায়। রোববার পর্যন্ত ক্রমাগত কন্টেনার বাড়তে থাকে। সোমবারে কন্টেনারের জটলা কমে আসতে শুরু করে।
চট্টগ্রাম বন্দরের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিশ্বের নানা দেশ থেকে আমদানিকৃত কন্টেনারগুলোর জাহাজ থেকে নামানোর পর আমদানিকারকেরা ডেলিভারি নেয়ার কথা। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ হাজারের কাছাকাছি কন্টেনার ডেলিভারি হয়ে থাকে। সপ্তাহে সোম থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রতিদিন স্বাভাবিক গতিতে কন্টেনার খালাস চলে। কিন্তু শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত তিনদিন দুই হাজার টিইইউএস এর বেশি কন্টেনার ডেলিভারি হয় না। কিন্তু জাহাজ থেকে কন্টেনার খালাসের কার্যক্রম পুরো সপ্তাহ একই গতিতে থাকে। ওই তিনদিন জাহাজ থেকে স্বাভাবিক গতিতে কন্টেনার খালাস করা হলেও সরবরাহ অর্ধেকের বেশি কমে যাওয়ায় ইয়ার্ডে জটলার সৃষ্টি হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের ট্রাফিক বিভাগ প্রায় প্রতি সপ্তাহেই শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত তিনদিন স্বাভাবিক গতিতে কন্টেনার খালাসের জন্য আমদানিকারকদের আহ্বান জানিয়ে নোটিশ ইস্যু করে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের এই আহ্বানে খুব বেশি সাড়া কেউ দেয় না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সপ্তাহের তিনদিন ইয়ার্ড থেকে কন্টেনার খালাস অর্ধেকে নেমে আসার ফলে বন্দরের স্বাভাবিক পরিচালন ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হয়। কর্তৃপক্ষ পুরো সপ্তাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রাম চেম্বার, বিজিএমইএসহ সবাইকে চিঠি দিয়ে কন্টেনার ডেলিভারি নেয়ার আহ্বান জানায়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক সপ্তাহের তিনদিন কন্টেনার ডেলিভারি অর্ধেকে নেমে আসার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আমদানিকারকসহ সংশ্লিষ্টদের দেশ ও বন্দরের স্বার্থে কন্টেনার ডেলিভারি সপ্তাহের সাতদিনই স্বাভাবিক রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের অপর একজন কর্মকর্তা সপ্তাহের তিনদিন বন্দরের জন্য বড় ধরনের ‘মাথাব্যথা’ হয়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেনার হ্যান্ডলিয়ের পরিমাণ বেড়েছে। বন্দরের সার্বিক ধারণক্ষমতার প্রায় পুরোটাই ব্যবহৃত হচ্ছে। গত বছর ৩২ লাখেরও বেশি কন্টেনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। এখন বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম গতিশীল না থাকলে ভবিষ্যতে দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের চাহিদা মোকাবেলা চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য কঠিন হয়ে উঠবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন পেলেন শাহাদাত-বক্করসহ ২৩ নেতাকর্মী
পরবর্তী নিবন্ধভোটে হেরেছি ইভিএম আর প্রশাসনের কারণে : তৈমুর