সদকাতুল ফিতর : রোজার ভুলত্রুটির কাফফারা হিসেবে প্রদান করতে হবে

আ ব ম খোরশিদ আলম খান | শনিবার , ১৪ মার্চ, ২০২৬ at ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ

রোজার মাসে সিয়াম সাধনার ক্ষেত্রে নানা ভুলত্রুটি নিশ্চয়ই হয়ে থাকে। সদকাতুল ফিতর হচ্ছে রোজার ভুলত্রুটির কাফফারা বা প্রতিবিধান। সরকারি প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবছর ১৪৪৭ হিজরি সনে সদকাতুল ফিতরের হার জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা এবং সর্বনিম্ন ১১০ টাকা নির্ধারণ করেছে। জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, ইসলামী শরিয়াহ মতে আটা, যব, কিসমিস, খেজুর ও পনির ইত্যাদি পণ্যগুলোর যেকোনো একটি দ্বারা ফিতরা আদায় করা যায়। গম বা আটা দ্বারা ফিতরা আদায় করলে অর্ধ সা’ বা ১ কেজি ৬ শত ৫০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ১১০ টাকা প্রদান করতে হবে। যব দ্বারা আদায় করলে এক সা’ বা ৩ কেজি ৩ শত গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ৫৯৫ টাকা, খেজুর দ্বারা আদায় করলে এক সা’ বা ৩ কেজি ৩ শত গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২ হাজার ৪৭৫ টাকা, কিসমিস দ্বারা আদায় করলে এক সা’ বা ৩ কেজি ৩ শত গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২ হাজার ৬৪০ টাকা এবং পনির দ্বারা আদায় করলে এক সা’ বা ৩ কেজি ৩ শত গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২ হাজার ৮০৫ টাকা প্রদান করতে হবে। আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের শরীয়াহ বোর্ড এবার সর্বনিম্ন ফিতরার হার ঘোষণা করেছে ১১০ টাকা। ফিতরা গরিবের হক। তাই যত বেশি হারে দেয়া যায় ততই উত্তম। একটি ফিতরা একজন গরিবকে দেওয়া সর্বোত্তম। তবে একাধিক দরিদ্র ব্যক্তিকেও দেওয়া যায়। ফিতরা অবশ্যই আদায় করতে হবে। না হলে রোজার হক আদায় হবে না। রোজা শেষে ১ শাওয়াল দিনের বেলায় খাবার গ্রহণকে ফিতর বলা হয়। এই ফিতর যেমন রোজাদারের মনে আনন্দের বন্যা বয়ে দেয়, তেমনি রমজানুল মোবারকের দিনগুলোতে যে ত্রুটিবিচ্যুতি হয়েছে সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের মাধ্যমে ত্রুটিপূর্ণ রোজাগুলো আল্লাহ্‌ পাকের দরবারে কবুল ও গ্রহণযোগ্য হয়। এজন্য প্রাণ খুলে সন‘ষ্ট চিত্তে গরিবদুঃখী ও এতিমকে নির্ধারিত পরিমাণে সাদকা করাকে সদাকাতুল ফিতর’ বলে। সিয়াম সাধনা ভোগের নয়, ত্যাগের শিক্ষা দেয়। আর রোজার উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা। নিজেকে সার্বিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখে সিয়ামের মতো ইবাদত দ্বারা সুশোভিত করা, পরার্থমুখী জীবন গড়া এবং মানুষের সেবার মাধ্যমে মহান আল্লাহর বন্ধুত্বে নিজেকে জড়িয়ে ফেলা। আর সাদাকাতুল ফিতর আদায় দ্বারা আল্লাহ পাকের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং গরিব দুস্থ মানুষের প্রতি দায়িত্ব ও অনুভূতি জাগ্রত হয়। এটাই রোজার গোপনীয় উদ্দেশ্য।

দান সদকাহ ফিতর জাকাত ইত্যাদি ইসলামের মানবিক নির্দেশনা। এ মাসে সওয়াবের আশায় রোজাদার মানুষকে ইফতার করায়, ধৈর্যের অনুশীলন করে, সহানুভূতি ও সহমর্মিতার চর্চা করে। রোজার মাসে একটি নফল ইবাদত ফরজের সমান সওয়াব এবং একটি ফরজের বদলে ৭০টি ফরজের সওয়াব রোজাদারকে উজ্জীবিত ও উদ্দীপ্ত করে। এজন্য দান সদকাহ, জাকাত ফিতরা এই নেক আমলগুলোকে নাজাতের মাধ্যম মনে করে তাতে সে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। দৈহিক ও মানসিকভাবে পরকালের উন্নততর জীবন লাভের আশায় সে রোজা থাকা অবস্থায় কষ্টকে অম্লান বদনে মেনে নেয়।

ঈদুল ফিতর অফুরন্ত আনন্দখুশির বড় উপলক্ষ। ঈদের আনন্দে গরিব মানুষেরা যাতে সমভাবে অংশ নিতে পারে এজন্য সাদাকাতুল ফিতরের গরিববান্ধব বিধান দিয়েছে ইসলাম। হাদীস শরিফে প্রিয় নবী (.) সদাকাতুল ফিতর বিষয়ে বলেছেন, ‘হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (.) সাদাকাতুল ফিতরকে ধার্য করেছেন দুটি কারণে। একটি হলো রোজাদারের রোজাকে দোষত্রুটি ও অশ্লীলতা থেকে মুক্ত করা। আর দ্বিতীয়টি হলো গরিব মিসকিনদের আহারের ব্যবস্থা করা। যে ব্যক্তি ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করল তার এই সাদাকাতুল ফিতরটি একটি মকবুল দানে পরিণত হলো। আর যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের পরে ফিতর আদায় করল, তার এই সাদাকাতুল ফিতরটি সাধারণ পর্যায়ের দান বলে গণ্য হবে। (সুনানে আবি দাউদ, খণ্ড ২, হাদিস নং ১৬১১)

পূর্ববর্তী নিবন্ধদিনভর মেঘলা আকাশ, বিকালে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি
পরবর্তী নিবন্ধট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু